স্ত্রীর রাগে হাঁসফাঁস জীবন? সমাধান এখানে…

0
345
সময়ে-অসময়ে বউয়ের রাগারাগি আর ঝাড়ি খেতে খেতে যদি জীবন অতিষ্ঠ হয়ে যায় তখন বউকে ঠান্ডা রাখাটাই হবে আপনার জন্য সর্বোত্তম পন্থা।
সময়ে-অসময়ে বউয়ের রাগারাগি আর ঝাড়ি খেতে খেতে যদি জীবন অতিষ্ঠ হয়ে যায় তখন বউকে ঠান্ডা রাখাটাই হবে আপনার জন্য সর্বোত্তম পন্থা।
Spread the love

দাম্পত্য জীবন আর রাগ-অভিমান যেন মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে কমবেশি প্রায়ই লেগে থাকে রাগ-অভিমানের পালা। অনেক সময় দেখা যায়, একজনের রাগ অতিরিক্ত বেশি। কোনো কোনো সময় আবার দেখা যায় দুজনের রাগই সমানে সমান। কেউ কারও চেয়ে কম যান না। এমনটা হলে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়ে।

দাম্পত্য জীবনে স্ত্রী যদি হুটহাট কাপড় স্ত্রী করার স্ত্রীর মতো গরম হয়ে যান তাহলে বেচারা স্বামীকে বেশ মুশকিলের মধ্য দিয়েই সময় কাটাতে হয়। সময়ে-অসময়ে বউয়ের রাগারাগি আর ঝাড়ি খেতে খেতে যদি জীবন অতিষ্ঠ হয়ে যায় তখন বউকে ঠান্ডা রাখাটাই হবে আপনার জন্য সর্বোত্তম পন্থা। স্ত্রীর মেজাজ ঠান্ডা রাখার কিছু উপায় বাতলে দেওয়া হলো নিচে। উপায়গুলো কাজে লালাগে লাভবান হবেন আপনিই।

বউয়ের মেজাজ ঠান্ডা রাখার সবচেয়ে সহজ ও প্রথম পথটি হলো আত্মসমর্পণ। বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, এটাই সবচেয়ে ভালো পন্থা। এর চেয়ে কার্যকর পথ আর হয় না। আপনার স্ত্রী রাগারাগি শুরু করলে কিছুক্ষণের জন্য হলেও তা হজম করুন। মাঝে মাঝে মাথা ঝাঁকিয়ে স্ত্রীর কথার সঙ্গে যে আপনি একমত তা বোঝানোর চেষ্টা করুন। এক্ষেত্রে দীর্ঘশ্বাস দারুণ সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে। অনেক দীর্ঘ একটি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বউকে বোঝানোর চেষ্টা করুন যে, আপনার স্ত্রীই ঠিক। তার কথাই সবার ওপরে। তিনি যা বলবেন তাই হবে।

বউয়ের মেজাজ ঠান্ডা রাখার আরেকটা কার্যকরী উপায় হলো তার সফট কর্নার অর্জন করা। প্রত্যেক মানুষেরই একটি সফট কর্নার থাকে। আপনার স্ত্রীর সফট কর্নার অর্জনে সচেষ্ট থাকতে হবে আপনাকে। মানুষ মাত্রই ভুল হয়। ছোট-বড় ভুল আপনারও হতে পারে। আপনি যদি বড় ধরনের কোনো ভুল করেন তা গোপন না করে স্বীকার করে ফেলুন বউয়ের কাছে। ভুলটি যদি আপনার স্ত্রীর রাগের কারণ হয় তারপরও গোপন করবেন না। কৃতকর্মের জন্য সরাসরি ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান বউয়ের কাছে। ভুল স্বীকারের সময় আপনার চোখেমুখে যেন অনুশোচনার ভাব স্পষ্ট ফুটে ওঠে।

বউকে ঠান্ডা রাখতে চাইলে ভুলেও পাল্টা যুক্তি দেবেন না। রাগ ঝাড়ার সময় কেউ প্রতিপক্ষের যুক্তি শুনতে চায় না। মনে করে, সে শুধু নিজেই ঠিক, আর সবাই ভুল। রাগের সময় বউ আপনার পক্ষ নেবে এমন মনে করার কোনো কারণ নেই। তাই নিজেকে বাঁচানোর জন্য পাল্টা যুক্তি দিয়ে উল্টো নিজের বিপদ ডেকে আনার কোনো মানে হয় না। বউ যখন রাগ ঝাড়বে তখন পাল্টা যুক্তি তো দেবেনই না, আপনি নিজেও কোনো ভুল করে থাকলে নিজের সাফাই গাইবেন না। আরেকটি বিষয় হলো, স্ত্রী যখন রাগ ঝাড়বে তখন তাকে সরাসরি ঠান্ডা হতে বলবেন না। এতে উল্টো ফল দেখা দিতে পারে।

রাগ প্রতিটি মানুষের ভেতরেই থাকে। কারও বহিঃপ্রকাশ একটু বেশি তীব্র হয় এই আর কি। কেউ যখন রেগে যায় তখন তার প্রধান লক্ষ্যই থাকে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা। রাগের মাথায় আপনার মনে কষ্ট দেওয়ার জন্য অনেক রূঢ় কথা আপনাকে শোনাতে পারেন আপনার বউ। সেসব কথা ধরার দরকার নেই। রাগের বশবর্তী হয়ে বউ যখন উল্টাপাল্টা কথা বলতে থাকবে তখন প্রতিক্রিয়া না দিয়ে চুপ থাকাটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। মনে করবেন না যে এজন্য আপনি ঠকছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য এটা আপনার প্রয়াস- এটা মাথায় রাখুন। রাগ কমে গেলে বউকে বুঝিয়ে বলুন যে, রাগের মাথায় তিনি যেসব কথা বলেছিলেন তা ঠিক নয়।

দিনভর কাজ করলে যে কারোরই মেজাজ খিটখিটে হয়ে যেতে পারে। এটাই স্বাভাবিক। কাজের চাপে চ্যাপ্টা হয়ে ক্লান্তি ভর করতেই পারে আপনার বউয়ের ওপর। সেই ক্লান্তি দূর করার চেষ্টা করুন। এক্ষেত্রে দারুন কাজে দিতে পারে ঘরের রঙ। শোবার ঘরের রঙ হালকা সবুজ রাখতে পারেন। স্নিগ্ধ এই রঙ ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। ক্লান্তি দূর করার পাশাপাশি রাগ কমাতেও ভীষণ কার্যকর হালকা সবুজ রঙের ঘর।

রাগ কমারোর জন্য যোগব্যায়াম বেশ কার্যকরী। নিয়মিত যোগ ব্যায়ামের মাধ্যমে সহজেই রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সুখাসন, মাৎস্যাসন, শবাসনের মতো যোগব্যায়ামগুলো রাগ দমনে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই আপনার বউকে নিয়ম করে যোগ ব্যায়াম করার পরামর্শ দিতে পারেন।

বউকে ধর্ম সংক্রান্ত বই পড়তে বলতে পারেন। এসব বই মনকে শান্ত রাখে। আর মন শান্ত থাকলে রাগ আপনা আপনিই কমে যায়। সবশেষে বউকে বোঝানোর চেষ্টা করুন- রাগ মানেই হার, জিৎ নয়।