গোসলের ভিডিও ফাঁসের হুমকি দিয়ে গৃহবধূকে লাগাতার ধর্ষণ, রংপুরে গৃহশিক্ষক গ্রেপ্তার

563
গোপনে ধারণকৃত গোসলের ভিডিও এবং ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস করার হুমকি দিয়ে এক গৃহবধূকে লাগাতার ধর্ষণের অভিযোগে তার দুই ছেলের গৃহশিক্ষককে গ্রেপ্তারের পর আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গোপনে ধারণকৃত গোসলের ভিডিও এবং ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস করার হুমকি দিয়ে এক গৃহবধূকে লাগাতার ধর্ষণের অভিযোগে তার দুই ছেলের গৃহশিক্ষককে গ্রেপ্তারের পর আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গোপনে ধারণকৃত গোসলের ভিডিও এবং ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস করার হুমকি দিয়ে এক গৃহবধূকে লাগাতার ধর্ষণের অভিযোগে তার দুই ছেলের গৃহশিক্ষককে গ্রেপ্তারের পর আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ভিকটিমের গ্রামের বাড়ি রংপুর জেলার কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ ইউনিয়নে। ধর্ষণকারী যুবকের নাম মাজেদুল ইসলাম বসুনিয়া। গ্রেপ্তারকৃত ধর্ষক মাজেদুল ইসলাম বসুনিয়া কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ ইউনিয়নের মহির উদ্দিন বসুনিয়ার ছেলে।

সম্প্রতি র‍্যাব ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে ধর্ষক মাজেদুল ইসলাম বসুনিয়াকে রংপুর শহরের কেরামতিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পরদিন আদালতে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হারাগাছ ইউনিয়নে ভিকটিমের বাড়িতে তার দুই ছেলেকে প্রাইভেট পড়াতেন একই এলাকার মাজেদুল ইসলাম বসুনিয়া। বাড়িতে গিয়ে প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগে একদিন গোপনে ভিকটিমের গোসলের ছবি এবং ভিডিও ধারণ করেন লম্পট মাজেদুল। পরবর্তী সময়ে তিনি ভিকটিমকে গোসলের ছবি এবং ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস করার হুমকি দেন। এছাড়া তার সন্তানদের ক্ষতি করবেন বলেও হুমকি দেন। এভাবে লম্পট মাজেদুল বেশ কয়েকবার লাগাতার ধর্ষণ করেন ভিকটিমকে।

২০২১ সালের ২৯ অক্টোবর বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে মাজেদুল ওই গৃহবধূকে ভয়ভীতি প্রদর্শনপূর্বক ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে মাজেদুলের হাত থেকে রক্ষা পেতে দুই সন্তানকে নিয়ে রংপুর ছেড়ে ঢাকায় চলে যান ভিকটিম। কিন্তু সেখানে গিয়েও নিস্তার মেলেনি। ঢাকায় থাকার সময়ও তাকে কুপ্রস্তাবে রাজি হতে বলেন মাজেদুল। রাজি না হওয়ায় ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে ভিকটিমের আপত্তিকর ছবি তার দুই ছেলের মেসেঞ্জারে পাঠান মাজেদুল।

ওই ঘটনার পর মাস দুয়েক আগে ভিকটিম ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি গিয়ে কাউনিয়া থানায় লম্পট মাজেদুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করেন ভিকটিম নিজেই।

সম্প্রতি মাজেদুলকে গ্রেপ্তার ও আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর খবর নিশ্চিত করে কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুমুর রহমান জানান, মামলা হওয়ার পরপরই উধাও হয়ে যান লম্পট মাজেদুল। অবশেষে তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে র‍্যাব ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে রংপুর মহানগরীর কেরামতিয়া এলাকা থেকে অভিযুক্ত মাজেদুলকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়।