Logo
মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ | ১২ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

এসএসসি ও সমমানের প্রশ্নপত্রের ভুলের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে

প্রকাশের সময়: ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ - রবিবার | ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৯

তৃতীয় মাত্রা :

প্রশ্ন ফাঁস বন্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কঠোর পদক্ষেপের মধ্যে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। পরীক্ষায় বড় ধরনের কোন সঙ্কট না হলেও কয়েকটি স্থানে ’১৮ সালের প্রশ্নে পরীক্ষা গ্রহণ, ভুয়া প্রশ্ন বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। এবার পরীক্ষার আগে প্রশ্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে পরীক্ষা চলাকালীন ফেসবুকে এবং হোয়াটস এ্যাপ গ্রুপে নৈর্ব্যক্তিক ও বিষয়ভিত্তিক হুবহু প্রশ্ন এসেছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষ স্বীকার করলেও বলছে, কোন শিক্ষার্থী আগেই হল থেকে বেরিয়ে প্রশ্ন ফেসবুক, হোয়াটসএ্যাপে ছড়াতে পারে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ড জানায়, পুরনো প্রশ্নপত্রে পরীক্ষার নেয়ার অভিযোগ দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রথমে পুরনো প্রশ্ন দেয়া হলে ঘটনার জানার পরই নতুন প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকার পুলিশ স্মৃতি কলেজ কেন্দ্রের ঘটনা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পরীক্ষার হল পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠানে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে বলেছেন, প্রশ্ন ফাঁস রোধে তীক্ষ গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে। শনিবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রথম দিন ঢাকার আশকোনার বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শনকালে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় কেন্দ্রের দুটি পরীক্ষা কক্ষ পরিদর্শন করেন শিক্ষামন্ত্রী। তার সঙ্গে ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সোহরাব হোসাইন ও কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব আলমগীর।

দীপু মনি বলেন, আমরা নিশ্চয়ই চাই একেবারে প্রশ্নফাঁস মুক্ত নকলমুক্ত পরিবেশে আমাদের পরীক্ষা হোক, সেটিই তো সুষ্ঠু পরীক্ষা। এখন পর্যন্ত খুব ভালভাবেই সেটা হচ্ছে। কোথাও কোন ধরনের নেতিবাচক খবর আমরা পাইনি। এর আগে গত কয়েক বছর থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সমালোচনার মুখে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিল সরকার। এরপর ’১৮ সালের এইচএসসি পরীক্ষা থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সক্ষমতা দেখায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত বছরের পরীক্ষায় নেয়া পদক্ষেপ এবারও গ্রহণ করেছে তারা। এবার প্রশ্নপত্রের খাম হবে এ্যালুমিনিয়ামের ফয়েল পেপারে। দীপু মনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হবে না। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে এবারও গত ২৭ জানুয়ারি থেকে পরীক্ষা চলাকালীন সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রশ্নফাঁস রোধে গৃহীত পদক্ষেপ জোরদারের কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গত বছর থেকেই কিন্তু আমাদের এই প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছে। গত বছরও কোন ধরনের প্রশ্ন ফাঁস হয়নি। এ বছর সেই প্রক্রিয়াটি আরও জোরদার করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কঠোর তীক্ষè গোয়েন্দা নজরদারি চলছে এবং ইতোমধ্যে বেশ কিছু গ্রেফতার হয়েছে, যাদের বিরদ্ধে অপচেষ্টার অভিযোগ ছিল। সারাদেশে কেউ এ ধরনের অপচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত হবেন না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রশ্ন ফাঁসের অপচেষ্টার সঙ্গে কেউ যুক্ত হলে সে তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ার করেন দীপুমনি। বলেন, প্রশ্ন ফাঁস ও নকল রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব বাহিনী ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় তৎপর রয়েছে। গণমাধ্যমেরও এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রয়েছে। অভিভাবক, শিক্ষক, পরীক্ষার্থী কেউ এ ধরনের কোন চেষ্টার সঙ্গে যুক্ত হবেন না।

আর কোন চাহিদা না থাকলে কেউ প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে যুক্ত হবেন না। কাজেই দায়িত্ব দুই দিকেই কিন্তু আছে। মন্ত্রী আরও বলেন, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেয়ার আগেই তারা কক্ষ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। এ কেন্দ্রটিতে আমরা এসেছিলাম দেখতে, আমরা দেখলাম যে, যেভাবে নির্দেশনা আছে, ঠিক সেভাবে পরীক্ষার ঠিক আগে প্রশ্নপত্রসহ বাকি যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করার কথা, তা অনুসরণ করা হচ্ছে।

পরীক্ষা শুরুর পর প্রশ্ন ফেসবুক, হোয়াটস এ্যাপে ॥ বিটিআরসি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে গত এক বছরের চার পরীক্ষার মতো আগেই প্রশ্ন ফাঁস হয়নি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তবে ফেসবুক, হোয়াটস এ্যাপের কঠোর নজরদারি করেও পুরোপুরি সফল হওয়া যায়নি।

প্রথম দিন বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা শুরুর আগে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ না পাওয়া গেলেও পরীক্ষা চলাকালীন সময়েই বহুনির্বাচনী প্রশ্ন এবং সৃজনশীল প্রশ্ন ফেসবুকে পাওয়া গেছে। পাওয়া গেছে হোয়াটস এ্যাপ গ্রুপেও। সৃজনশীল প্রশ্নের হুবহু মিল পাওয়া গেছে।

ফেসবুকের ‘Ssc all board question out ২০১৯-া১০০%’ নামের একটি পেইজে সকাল দশটা ৩৮ মিনিটে বহুনির্বাচনী প্রশ্ন পোস্ট করা হয়েছে। এই পোস্টের প্রশ্নগুলো একটু ঝাপসা থাকায় ইনবক্সে পরিষ্কার ছবি এবং বহুনির্বাচনীর সমাধান চেয়ে কমেন্ট করছেন পরীক্ষার্থীর অভিভাবকেরা। অন্যদিকে বেলা এগারোটা ৩০ মিনিটে পরীক্ষাটির সৃজনশীল প্রশ্নের ৩নং সেটের প্রশ্ন পোস্ট করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে অর্থাৎ সকাল সাড়ে নয়টার মধ্যে পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে প্রবেশ করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেয়া রয়েছে। এছাড়া কেন্দ্র সচিব এবং পরীক্ষায় ডিউটির দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা পরীক্ষার কেন্দ্রেই অবস্থান করবেন। জরুরী যোগাযোগের জন্য শুধুমাত্র কেন্দ্র সচিব একটি মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন, তাও মোবাইলটিতে ক্যামেরা থাকা যাবে না। এছাড়া শিক্ষার্থী ও ডিউটি শিক্ষক কেও কেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না।

পরীক্ষা চলাকালীন সময়েই কিভাবে প্রশ্নপত্র ফেসবুকে এলো জানতে চাইলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সমন্বয় সাব কমিটি ও চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। তবে এটা পরীক্ষার আগে হলে একটা সমস্যা ছিল। কোন পরীক্ষার্থী হয়তো পরীক্ষায় এডেন্ট করেই বের হয়ে এসব করে থাকতে পারে। কোন পরীক্ষার্থী ১ ঘণ্টা কেন্দ্রে ছিল, পরীক্ষা দিয়েছে, বের হয়ে এসে সেই প্রশ্নের ছবি তুলে ফেসবুকে দিয়েছে। কত রকম দুষ্টু চক্র যে আছে সবাইকে তো ধরতে পারব না। তবে আমরা এখন একটা নির্দেশনা দেব, কেউ ১ ঘণ্টা পরীক্ষায় এটেন্ড করে যদি বের হয়ে আসতে চায় তাহলে তাকে প্রশ্ন কেন্দ্রে জমা রেখে আসতে হবে।

রাজধানীর পুলিশ স্মৃতি স্কুল কলেজে ’১৮ সালের প্রশ্ন, তদন্ত ॥ রাজধানীর মিরপুরের শহীদ পুলিশ স্মৃতি স্কুল এ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ২০১৮ সালের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সৃজনশীল অংশের প্রশ্নটি ২০১৮ সালের দেয়ায় পরীক্ষা শুরুর বেশ কিছুক্ষণ পর কয়েক পরীক্ষার্থী বিষয়টি কক্ষ পরিদর্শকদের নজরে আনে। কিন্তু প্রথমে পাত্তা দেননি তারা। তারা পরীক্ষার্থীদের বলেছেন, ওই প্রশ্নেই পরীক্ষা দিতে হবে। পরে দুপুর বারোটার দিকে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে নতুন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে অতিরিক্ত সময় দিয়ে নতুন প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়ার হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক। তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, যত সময় নষ্ট হয়েছে পরে সেই সময় দেয়া হয়নি।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক সন্ধ্যায় জানিয়েছেন, শহীদ পুলিশ স্মৃতি স্কুল এ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ২০১৮ সালের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়ার ঘটনা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তারা আগামীকালই (আজ রবিবার) ঘটনাস্থল তদন্ত করবে। এছাড়া কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র বিতরণে দায়িত্ব প্রাপ্তদের অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে ‘১০১৯ সালের সিলেবাস’ লেখা প্রশ্নে এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়ার প্রমাণ মিলেছে। প্রশ্নে ২০১৯ এর স্থলে লেখা আছে ‘১০১৯’। বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষা সচিব মোঃ সোহরাব হোসাইন।

এছাড়া শ্রুতি লেখক না পাওয়ায় আল হাসিবের এসএসসি পরীক্ষা দিতে না পারার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এসব ভুলগুলো কেন হয়েছে তা তদন্ত করে সচিবকে জানাতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার প্রশ্নপত্রেই মারাত্মক এ ভুল ধরা পড়েছে। শনিবার অনুষ্ঠিত ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে ‘১০১৯ সালের সিলেবাস’ লেখা প্রশ্নে বাংলা প্রথম পত্রের এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয়। কিন্তু এখন ২০১৯ সাল চলছে। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষার প্রশ্নে এ ধরনের ভুল কিভাবে হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন তৈরি ও মডারেশনে উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রামেও ২০১৮ সালের সিলবাসে পরীক্ষা ॥ কেন্দ্র সচিবদের ভুলে ২০১৮ সালের সিলবাস অনুসারে প্রণীত প্রশ্নে ২০১৯ সালের পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা গ্রহণ হয়েছে চট্টগ্রামে। বোর্ডের অধীন চার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ভুলের তথ্য জানিয়েছেন বোর্ড কর্মকর্তারা। কেন্দ্রগুলো হলো- নগরীর ডাঃ খাস্তগীর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও মিউনিসিপ্যাল মডেল উচ্চ বিদ্যালয় এবং কক্সবাজারের পেকুয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও উখিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। তবে কত পরীক্ষার্থী এই ভুলের শিকার হয়েছেন, তা জানাতে পারেনি শিক্ষা বোর্ড। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাহবুব হাসান বলেছেন, চার কেন্দ্রে কেন্দ্র সচিবদের ভুলে ২০১৯ সালের সিলেবাসে যাদের পরীক্ষা দেয়ার কথা, তাদের মাঝে ২০১৮ সালের সিলেবাস অনুসারে প্রণীত প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছে। চার কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি। তবে কত শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে এটা হয়েছে, তা জানা সম্ভব হয়নি। তবে এতে পরীক্ষার্থীরা যাতে কোনভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে ব্যবস্থা অবশ্যই করা হবে। অভিভাবকরা ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, দেশের সবচেয়ে বড় পাবলিক পরীক্ষার ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের গাফিলতি কোনভাবে মেনে নেয়া যায় না। এতে যদি পরীক্ষার্থীদের ফলে প্রভাব পড়ে তাহলে তার জন্য কারা দায়ী হবে?

বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন ধার এনে ৪০ মিনিট পর পরীক্ষা কুমিল্লায়!

কুমিল্লায় এসএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা পর একটি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের মাঝে রচনামূলক (সৃজনশীল) প্রশ্ন বিতরণ করা হয়েছে। জেলার দেবিদ্বার উপজেলার দুয়ারিয়া এজি মডেল একাডেমি কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। পরীক্ষার্থীরা জানায়, পরীক্ষার জন্য বোর্ড থেকে উপজেলা প্রশাসনে ৪নং সেটের (গাঁদা) রচনামূলক প্রশ্ন কেন্দ্রে বিতরণের নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু প্রশ্নের প্যাকেটে ৪নং সেট না থাকায় বিপাকে পড়ে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। খবর পেয়ে কেন্দ্রে পৌঁছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ অন্যরা। পরে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন সংগ্রহ করে প্রায় ৪০ মিনিট পর বিতরণ করে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা কেন্দ্রের মূল ফটকে জড়ো হন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবীন্দ্র চাকমা ও কেন্দ্র সচিব মোঃ আবু সেলিম ভূইয়া শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময় দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলে অভিভাবকরা শান্ত হন।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোঃ রুহুল আমিন বলেন, কার ভুলে কিংবা অবহেলায় কেন্দ্রে নেয়া প্যাকেটে নির্ধারিত সেটের প্রশ্ন ছিল না, তা তদন্ত করতে বোর্ড থেকে একটি কমিটি দেবিদ্বারে গেছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে রিপোর্ট দেয়ার পর এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

অভিযোগ সাতক্ষীরা, বরিশাল, মুন্সীগঞ্জ, পটুয়াখালী, ময়মনসিংহ, গাইবান্দায় ॥

সাতক্ষীরার একটি এসএসসির পরীক্ষা কেন্দ্রে ২০১৮ সালের প্রশ্নপত্রে ৪৮ পরিক্ষার্থীর পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিব সুখলাল বাইনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রায় তিন ঘণ্টা পর নতুন প্রশ্নপত্রে তাদের ফের পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার চাম্পাফুল এপিসি স্কুল কেন্দ্রে। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরদার মোস্তফা শাহীন জানিয়েছেন ২০১৯ সালের প্রশ্নপত্র বণ্টনের প্রায় তিন ঘণ্টা পর বিষয়টি সবার নজরে আসে। যশোর শিক্ষা বোর্ডের অনুমতি নিয়ে পরে তাদের এ বছরের প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র সাংবাদিকদের বলেন, বোর্ডের কাছে উত্তরপত্র পৌঁছালে তা মূল্যায়ন করা হবে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় পরিক্ষার্থীদের ভীত হওয়ার কিছু নেই। যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন বলে জানান তিনি।

ময়মনসিংহ শহরের বিভিন্ন কেন্দ্রে ১৫ মিনিট দেরিতে পরীক্ষার্থীদের হাতে প্রশ্নপত্র তুলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে প্রশ্নপত্র দেয়ার সময় থেকে হিসেব করেই নির্দিষ্ট ৩ ঘণ্টা পর পরীক্ষা শেষ করা হয়েছে। ফলে দেরিতে প্রশ্ন হাতে পাওয়ার কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চিন্তার কোন কারণ নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ট্রেজারি শাখা থেকে সকাল ৯টার সময় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র মুকুল নিকেতন হাইস্কুল মূলকেন্দ্রে আনার পর সকাল সাড়ে ৯টার সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে মেসেজের মাধ্যমে নির্দেশ আসে প্রশ্ন বিতরণের জন্য। প্রশ্নপত্র হিসেব করে ভেন্যু কেন্দ্রে পাঠাতে দেরি হওয়ায় প্রশ্নপত্র ১৫ মিনিট পর সকাল সোয়া ১০টার সময় শিক্ষার্থীদের দেয়া হয়।

মুন্সীগঞ্জে পুরনো প্রশ্নে পরীক্ষা দিলো ৭৯ এসএসসি পরীক্ষার্থী। জেলার এ. ভি. জে. এম সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ’১৮ সালের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কে.কে.গভ ইনস্টিটিউশন, উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও রামপাল এন বি এম উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭৯ পরীক্ষার্থী বাংলা প্রথম পত্রের পুরনো সিলেবাসে পরীক্ষা দেয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আসমা শাহীন এ খবর নিশ্চিত করেন।

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে ’১৮ সালের পুরনো প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১১০ পরীক্ষার্থী পুরনো প্রশ্নপত্র অনুসরণে পরীক্ষা দিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার পবনাপুর ইউনিয়নের ফকিরহাট উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে।

ফকিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব মোঃ শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ৬৬৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১০ পরীক্ষার্থীর কাছে প্যাকেট থেকে বের করা ২০১৮ সালের প্রশ্ন দেয়া হয়। প্রায় ১ ঘণ্টা পরীক্ষা দেয়ার পর বিষয়টি পরীক্ষার্থীদের নজরে এলে তারা কক্ষ পরিদর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তৎক্ষণাৎ কেন্দ্র সচিব বিষয়টি অবগত হয়ে দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানায়।

বরিশালে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষর জাল করা এসএসসির প্রবেশপত্র নিয়ে তোলপাড় হয়েছে। বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষর জাল করে তৈরি প্রবেশপত্রের মাধ্যমে জেলার আগৈলঝাড়ায় এক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। উপজেলা পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার অভিযুক্ত ওই পরীক্ষার্থী এবং তার অভিভাবককে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সত্যতা পেয়ে বিষয়টি বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও জেলা প্রশাসককে আইনী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য শনিবার দুপুরে পত্র প্রেরণ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে সর্বত্র চলছে তোলপাড়।

পটুয়াখালীর বাউফলে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের একটি ভেন্যুতে ১৫ মিনিট পরে পরীক্ষা শুরু হয়েছে। প্রশ্নপত্র পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়। চলতি এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে নওমালা মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের আবদুর রশিদ তালুকদার ডিগ্রী কলেজ ভেন্যুতে বাংলা প্রথমপত্রের প্রশ্ন নির্দিষ্ট সময়ের ১৫ মিনিট পরে পৌঁছানো হয়। এ কারণে ১৫ মিনিট পরে অর্থাৎ সোয়া দশটায় পরীক্ষা শুরু হয়।

প্রথম দিনে অনুপস্থিত ১০ হাজার, বহিষ্কার ২৪ ॥ প্রথম দিন ১০ হাজার ৩৮৭ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কৃত হয়েছেন ২৪ শিক্ষার্থী। নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানায়, অনুপস্থিত এবং বহিষ্কারের দিকে শীর্ষে ছিল মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডে অনুপস্থিত ছিল তিন হাজার ৭৮৮ আর বহিষ্কার হয়েছেন ৬ পরীক্ষার্থী। এরপরই কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে অনুপস্থিত শিক্ষার্থী সংখ্যা এক হাজার ৬২১, বহিষ্কারের সংখ্যা ১৩ জন। এরপর ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডের অনুপস্থিতির সংখ্যা এক হাজার ৩৯৬ জন। এছাড়াও রাজশাহী বোর্ডে ৭৬২, কুমিল্লায় ৬৩১, যশোর ৪৬৩, দিনাজপুরে ৫৪১, সিলেটে ৩১৮, বরিশালে ৩৯০, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৪৭৭ শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। সাধারণ ৮ বোর্ডে ৫ শিক্ষার্থী বহিষ্কার হয়েছে। এরমধ্যে ৩ জন বহিষ্কার হয়েছেন বরিশাল বোর্ড।

Read previous post:
বাবা এসএসসি পরীক্ষার্থী, মেয়ে অনার্স শিক্ষার্থী

তৃতীয় মাত্রা লেখাপড়ার কোনো বয়স নেই। যেকোনো বয়সে লেখাপড়া করা যায়। বিষয়টি মনের মধ্যে লালন করে সুপ্ত প্রতিভাকে বিকাশের জন্য...

Close

উপরে