Logo
সোমবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২১ | ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পাখির সুরক্ষায় গ্রামবাসীর কমিটি গঠণ

প্রকাশের সময়: ৩:২৯ অপরাহ্ণ - বৃহস্পতিবার | নভেম্বর ২৫, ২০২১

তৃতীয় মাত্রা

রাজশাহী: হাজার হাজার মাইল পথ উড়াল দিয়ে প্রতিবছরই অতিথি রাজসরালী পাখি আসে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার আমগাছী গ্রামের একটি ডোবায়। সেই অতিথি পাখি হয়ে এসে অস্থায়ী আবাসও গড়ে তুলেছে নানা প্রজাতির পাখির দল। এদের মধ্যে রাজসরালীর সংখ্যা বেশি। পাখির সুরক্ষায় গ্রামবাসীও বেশ সচেতন। অতিথি পাখি শিকার ও ধরা থেকে গ্রামবাসী মিলে করেছে কমিটি গঠন। এসব পাখিদের কলতানে এখন মুখরিত দুর্গাপুরের আমগাছী গ্রামের ওই ডোবা। গ্রামবাসীও উদ্বেলিত। গতকাল রোববার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অক্টোবর মাসের শুরু থেকে দুর্গাপুর উপজেলার আমগাছী বাজারের পাশেই একটি ডোবাতে হাজার হাজার অতিথি পাখি আসতে থাকে। এদের মধ্যে রাজসরালী পাখি বেশি। কেউ উড়ে যাচ্ছে, কেউ আবার উড়াল দিয়ে এসে ডোবায় পড়ছে। পাখিদের কলতান শুনছেন আশপাশের গ্রামবাসী ও বাজারে আসা মানুষ। বাজারের মানুষ, পথচারী এবং দুর-দুরান্তে থেকে আসা পাখিপ্রেমীরা এক নজর হলেও পাখির ঝাঁক দেখতে এখন ভিড় জমাচ্ছেন। এই ডোবা থেকে আগামী ফেব্রুয়ারী মাসের শেষ দিকে শীতের প্রকোপ কমলেই অতিথি পাখি গুলো আবার চলে যাবেন বলে জানালেন স্থানীয়রা। জানা গেছে, শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতেই এ পাখিরা ছুটে আসে এ দেশে। শীতপ্রধান দেশ রাশিয়ার সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, চীনের জিনিজিয়াং ও ভারত মহাসাগরে তীব্র শীত পড়ে এই সময়ে। জীবন বাঁচানোর তাগিদে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে অপেক্ষাকৃত কম শীতের এই দেশটিকে অতিথি পাখিরা সাময়িক আবাসভূমি হিসেবে বেছে নেয়। শীত শেষ হলে আবার তারা নিজেদের দেশে ফিরে যায়। অনেক পাখি থেকেও যায় নিরাপদ আশ্রয় করে। রাজসরালীর পাশাপাশি এখন খয়রা চখাচখি, বালিহাঁস, ছোট সারস, বড় সারস, কাদাখোঁচা, নিশাচর ডুবুরি, গায়ক রেন, পাতিকুট প্রভৃতি কথজাতের পাখি এসেছে দুর্গাপুরের এ ডোবায়। গ্রামবাসী জানান, আমগাছী গ্রামের এই ডোবায় অতিথি পাখি আসে তিন বছর ধরে। লোকালয়ের ভেতরে অবস্থিত এ ডোবায় গত বছরও এসেছিল এসব পাখি। শীতের শেষ তারা আবার চলে যায়। তবে এবার আরও বেশি পাখি এসেছে অতিথি হয়ে। একমাস আগে থেকে এসব পাখি আসতে শুরু করেছে। পাখিদের বিচরণ, ওড়াউড়ি আর কলতানে এখন সবসময় মুখর থাকে গ্রামটি। স্থানীয়ভাবেও এ পাখিগুলোকে যাতে কেউ বিরক্ত না করে সেজন্য দেখভাল করা হচ্ছে। পাখি ঘিরে এ গ্রামে এখন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসছে। আমগাছী বাজারের চা দোকানী আব্দুল হালিম জানান, অতিথি পাখির আগমনে এই এলাকার সৌন্দযর্য বৃদ্ধি করেছে। লোকজন দোকানে চা খায় আর পাখি দেখে। দিন-রাত পাখিদের কিচিরমিচির শুনলে মনে হবে যেন এ এক গহীন অরণ্য। অতিথি পাখি গুলো কেউ যদি শিকার করতে না পারে এ জন্য এলাকাবাসীও সচেতন। আমগাছী বাজার হাট কমিটির সভাপতি আবু বাক্কার ছিদ্দিক বলেন, এখানে পাখি শিকার বা উত্যাক্ত করা সম্পূন্ন নিষিদ্ধ। প্রতিবছরই অতিথি পাখি আসছে। এলাকাবাসী এই পাখি গুলোকে সুরক্ষা দেওয়া প্রতিবছরই পাখির সংখ্যা বাড়ছে। এজন্য হাট কমিটির লোকজন অতিথি পাখির সুরক্ষায় কমিটি গঠন করছে। তিনি বলেন, প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই অতিথি পাখি দেখতে আসেন। কেউ ছবি তুলেন আবার কেউ ভিডিও করেন। তবে কমিটির লোকজন কাউকে পাখি শিকার বা উত্যাক্ত করতে দেয় না। শীতের এই অস্থায়ী পাখি গুলো শীত কমলে আবার তাদের গন্তব্য চলে যাবেন।
Read previous post:
ঠাকুরগাঁওয়ে ছয়দফা দাবিতে উদীচীর স্মারকলিপি প্রদান

তৃতীয় মাত্রা মো: শাহীন ফেরদৌস, ঠাকুরগাঁও থেকে : ঠাকুরগাঁওয়ে ছয়দফা দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর জেল প্রশাসকে স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ...

Close

উপরে