Logo
সোমবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২১ | ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বাবার শেষ ডায়েরির পাতা থেকে আমার স্মৃতি কথা

প্রকাশের সময়: ৫:২০ অপরাহ্ণ - রবিবার | নভেম্বর ২১, ২০২১

তৃতীয় মাত্রা

মুঃ খলিদ হোসেন মিলটন- সভাপতি প্রেসক্লাব গলাচিপা (পটুয়াখালী) থেকেঃ- আজ লেখাটি লিখছি আমার বই বান্ধব বাবাকে নিয়ে। বাবার শেষ বয়সে যখন বিছানায় সজ্জাসায়ী এবং যখন হাত পায়ের শক্তি নেই শুধু কথা বলা, টিভি দেখা এবং আপন জনের সাথে কথা বলে সময় পার করা ছিল বাবার শেষ জীবনের রুটিন। বড় ছেলে হয়ে ভাগ্য কত দিন, কত বছর – বাবার স্নেহ পেয়ছি এর সঠিক উত্তর আমার জানা নেই বা বিষয়টি কঠিন বলা হয় আমার জীবনে। বিষয়টি শুধু সৃষ্টিকর্তা ছাড়া কেউ বলতে পারে না। আমরা যারা পিতৃস্নেহ পেয়েছি তারা সকলেই অত্যন্ত ভাগ্যবান বাবার স্নেহ আদর- বিশুদ্ব কথা উপদেশ নিয়ে বেড়ে উঠা, প্রতিটি সন্তান তার জীবনের পরিনত বয়স পর্যন্ত পিতার পরোক্ষ আশিষ (দোয়া) অনুভব করে।বাবার সংসার জীবনের শুরু থেকে যতটুকু জেনেছি, দেখেছি বা শূনেছি এবং অনুভব করিছি তা ভাষায় ব্যক্ত করার নয়। তার দৈনন্দিক জীবন, সরকারী চাকুরী করা – বই ও ম্যাগাজিন পড়া সহ জীবনে শিক্ষার জন্য প্রতিনিয়ত শক্তি সামর্থ্য থাকা কালিন, সংসার ও সন্তানদের গুরুত্ব না দিয়ে – বই পড়া এবং বন্ধু প্রিতী আড্ডা, দাবা, তাস খেলা, ফুটবল, ক্রিকেট খেলা হাসির নাটক, পুরনো ইতিহাস বিষয়ক বই ছিল তার জ্ঞানের ইচ্ছা পূরন। মা ছিল শিক্ষিকা সাত (০৭) ভাই বোনের মধ্যে তিন বোনের পর আমি প্রথম ছেলে সহ চার ভাই আমার । আমার জন্মের পরে বংশে এবং নানা বাড়ির বিশেষ করে গর্ভধারীনী মা’র মনটা খুশি ছিল রাজ রানীর ন্যায়, তিন মেয়ের পরে, আমি প্রথম পুত্র হিসাবে জন্ম লাভ করায়।।খালা-মামারা ছিল, আমার বেড়ে উঠা এবং আমাকে আদর যন্ত্রে বড় করার দায়িত্বে।বাবা-মা চাকুরীর সুবাধে খালা সহ বড় বোনেরা আমাকে দেখ ভাল করতেন। বাবা বই পড়ুয়া মানুষ এবং এত জ্ঞানী দূরদর্শী ছিলেন এবং প্রথম পুত্রের নাম রাখলেন ইংল্যান্ডের সনেট কবি জন মিলটন নামানুসারে আমার নিক নাম রখলেন মিলটন। তিনি কি ভেবে একজন সম্রান্ত মুসলিম পরিবারের সদ্স্য হয়ে- ছেলের নাম রাখলেন মিলটন, তা তখন বুঝতে পারিনি। তবে গর্ব হয়, বাবার চিন্তা শক্তি এবং সন্তানের প্রতি কত গভীর গবেষনার মনসিকতা ।তিন বোন-চার ভাইর নামগুলো পৃথিবীর বরন্য ব্যক্তি ও নারীদের নামের সাথে নাম রেখেছে সন্তানদের।। বাবা – মার আর্শিবাদে সকলেই ভালো আছে।যে কথা নিয়ে লেখাটি লিখতে মনে তাগিদ হচ্ছে তা হলো বাবার শেষ ডায়রীর পাতা থেকে, বাবার লেখাটি হুবহু তার কথিত মতে বাবার নিজ হাতে লেখার শক্তি ছিলনা তথন, তার কথিত লেখাটি, আমার ছোট ভাইয়ের শশুর প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক- বারী খান, বাবার শেষ ডায়রীর ২০১৫ সালের ১লা জানুযারী প্রথম পাতায় কথিত মতে লেখাটি তুলে ধরছি।“হে আমার সৃষ্টি কর্তা ও সারা জীবনের মালিক তুমি আমার জন্য ইংরেজী ২০১৪ সালটি, আমার স্বাস্থ্য তোমার করুনা হইতে বঞ্চিত হইয়াছে এবং এখনো শারিরীক ও মানসিক জ্বালা যন্তনায় ভোগিতেছি। তুমি ছাড়া প্রতিকার বা জীবনের শান্তি দেওয়ার ক্ষমতা বা অধিকার করো নাই। তুমি-ই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তোমার কাছে আমার আকুল আবেদন মৃত্যু যন্ত্রনা যেন আমার সইতে না হয়। শান্তিতে যেন তোমার আদেশে মৃত্যু বরন করতে পরি। তুমি একমাত্র শক্তিধর মহান আল্লাহ্ এবং তোমার ইচ্ছায় সারা জগতের সবকিছু চলছে”।। তুমি একমাত্র মহান। আমার দ্বিতীয় আবেদন- আমার চার ছেলে তিন মেয়ে, এবং তাদের সন্তান সন্তানাদি ও পরিবার পরিজন নিয়া দীর্ঘায়ু জীবন যাপন করতে পারে ও সুখে শান্তিতে থাকতে পারে সে ব্যবস্থা করিও। তুমি যা অপছন্দ কর- সেই পথ থেকে বিরত রেখ, তুমি যাহা পছন্দ কর- সেই পথে যেন তারা ধার্বিত হয়।দুনিয়ার সব মানুষেই তোমার সৃষ্টি। তুমি সর্বশ্রেষ্ঠ ক্ষমাশীল ও দয়ালু । তুমি-ই সারা দুনিয়ার যত জীব আছে, সবই তোমার দয়ায় জীবন ধারন করছে।দুনিয়ার সব মানুষেই তোমার বান্দা । তুমি সবচেয়ে দয়ালু এবং দয়ার সাগর।,, আশা করি কেউই এ-দয়া থেকে বঞ্চিত হবে না। আমার ছয়টি নাতনী ও একটি নাতি ছেলেদের ঘরে আর তিন মেয়ের ঘরে দুইটি নাতনী ও তিনটি নাতি ও দু’টি পুতি, কেউ যেন অসৎ পথে না যায় এই কমনা করি। আর আমার পুত্র বধূরা যেন মিলেমিশে ন্যায় পথে থাকে তুমি তার ব্যবস্থা করিও। যদি কেউ কু-পথে যায় তার সু-মতি দিও। আমিন। তোমারই বান্দা হারুন । এই লেখটি হচ্ছে আমার স্বর্গীয় বাবার শেষ ডায়রীর আবেদন। আমার বাবা ছিল অসীম হৃদয়ের মানুষ। তিনি সারা জীবনই- বই পড়ে, নিজেকে উদার করেছে। যাহা আমার পরিবারের বিরাট গৌরবের । জীবনে বন্ধু মহল থেকে সমাজের অনেক মানুষ কে আমার সামজে দেখেছি কিন্তু আমার বাবার মত সৎ উদার মহানুভবতা ও নিঃস্বার্থ ভাবে শুধু মানুষ কে ভালোবসতেন এবং সৎ উপদেশ দিতেন।আমার বড় গর্ব বা আমার আত্মার আনন্দ বাবা – মা’র বড় ছেলে হয়ে যে ভাবে তাদের কে আমি অনুভব করছি যা আমাকে প্রতিনিয়ত তাদের স্বার্গীয় আত্মার আর্শিবাদ যেন আমাকে প্রতিনিয়ত “অহি” হিসাবে অন্তরে অবস্থান করছে। বিশিষ্ট সাহিত্যিক প্রবোধকুমার সন্যালের একটি কথা পিতা নিয়ে বানী মনে পড়ছে – “জন্মদাতা হওয়া সহজ, কিন্তু পিতা হওয়া বড় কঠিন। পিতা হতে পুত্র যদি বড় হয় জ্ঞানে সংসারের লোক তবে পুত্রকেই লোক মানে। পুত্রের নামেতে হলে পিতা পরিচয়, দশগুনে বাড়ে তার পিতার হৃদয়।।” জর্জ হাবার্টের ছোট একটি স্বরনীয় কথা, “একজন পিতা একশো স্কুল শিক্ষকের চেয়ে বেশি।বাবার শেষ ডায়রীর শেষ কথা গুলো এবং আমার বাবার স্মৃতি কথা লিখতে পেরে – আমি শ্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ। কৃতজ্ঞ আমার স্বর্গীয় মরহুম বাবা মায়ের প্রতি এবং তাদের জন্য লেখাটি উৎস্বর্গ করছি। আমার বাবা ঐ বছরের ৬ই ডিসেম্বর/১৫ এবং বাবার মৃত্যুর ১ বছর পরে আমার মাতা- ৩ ডিসেম্বর/১৬ তারিখ আমদের সকলকে ছেরে পরপারে চলে গেছে। সেই বিষয়টি আমার হৃদয়কে শূন্য করে প্রতিনিয়ত। আমার সাত ভাই বোন। বাবার আর্দশ আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে অনুসরন করছি কিনা জানি না। তবে প্রতিনিয়ত মনে করি জন্মদাতা বাবা ও আমার মমতাময়ী মা যাদের আর্দশ আমাদের সামনে জীবন ভাবনা- তা জীবন চলার পথে, মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চাই। সমাজ যেন সত্য ও বিশুদ্ব ভাবনায় জেগে থাকে।

Read previous post:
ধামরাইয়ের বালিয়ায় নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান-মেম্বারদের গণ সংবর্ধনা

তৃতীয় মাত্রা রনজিত কুমার পাল (বাবু), ধামরাই থেকে : রাজধানী ঢাকার অদূরে ঢাকা জেলার ধামরাইয়ে শনিবার ২০ নভেম্বর বিকাল ৩...

Close

উপরে