Logo
শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০২১ | ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ধ্বংসপ্রাপ্ত ও বিলুপ্তপ্রায় ধামইরহাটের ঐতিহাসিক জগদ্দল মহাবিহার

প্রকাশের সময়: ৩:৫৫ অপরাহ্ণ - শুক্রবার | নভেম্বর ১২, ২০২১

তৃতীয় মাত্রা

মো. রিফাতুল হাসান চৌধুরী সৈকত, ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলার একটি প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান জগদ্দল মহাবিহার। এটি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে জগতপুর মৌজার উত্তরে ও জগদ্দল মৌজার দক্ষিণাংশে অবস্থিত এক অতি প্রাচীন নিদর্শন। নওগাঁ জেলার ধামইরহাট থানার জয়পুর-ধামুইরহাট সড়কের উত্তর দিকে অবস্থিত এই প্রাচীন কীর্তি।

একাদশ শতকের শেষভাগে রাজা দ্বিতীয় মহিপালের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে কৈবর্ত নায়ক দিব্যোকের নেতৃত্বে পরিচালিত বিদ্রোহ কালে রাজকোষ থেকে বেতন দিতে অপারগ রাজার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ বাঙাল সৈন্যরা সোমপুর (পাহাড়পুর) বিহার ভষ্মিভুত করায় বিহারটি পরিত্যক্ত হয়েছিল। এছাড়াও বখতিয়ার খিলজি কর্তৃক ভারতের বিহার প্রদেশের ওদন্তপুরী বিহার আক্রমনের প্রেক্ষিতে বিহার প্রদেশের পন্ডিত ও ভিক্ষুকগণ জগদ্দল মহাবিহারে সমবেত হয়েছিলেন। অনতিকালের মধ্যে এশিয়া মহাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা জগদ্দল মহাবিহারে পন্ডিতগণের সার্ণিধ্যে জ্ঞানচর্চায় মনোনিবেশ করেন।

জগদল মহাবিহারের প্রতিষ্ঠার সময়কাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা যায়নি। তবে বিহারটি নবম শতকে প্রতিষ্ঠিত মঙ্গলবাড়ি বাদাল স্তম্ভলিপির সমসাময়িক কালের বলে ধারণা করা হয়। পাল রাজত্বের শেষ ভাগে রাজপরিবারের আত্মকলহ এবং সুদক্ষ রাষ্ট্রনায়কের অভাবে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার উদ্ভব হয়। এর বিরূপ প্রভাব সামাজিক, অর্থনৈতিক, সৃজনশীল, মননশীল সর্বক্ষেত্রেই পরিলক্ষিত হয়। বৌদ্ধ ধর্মের মহাযান ও হীনযান মতাদর্শের দ্বিধাবিভক্তি প্রকট আকার ধারণ করে। ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার পরিপ্রেক্ষিতে পৃথক পৃথক উপাসনালয়ের সৃষ্টি হয়। এই সন্ধিক্ষণে হয়তবা জগদ্দল বিহার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। (সূত্রঃ ধামইরহাট–পত্নীতলা; ইতিহাস ও ঐতিহ্য; পৃষ্ঠাঃ ২৩–৫২। সংগ্রহঃ অধ্যক্ষ ও ইতিহাসবিদ মো. শহিদুল ইসলাম।)

১৯৯৭ সালে এই স্থান খননের মাধ্যমে একটি বিহারের আংশিক স্থাপত্য কাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রত্নতত্ত্ব আবিষ্কৃত হয় । পরবর্তীতে ২০০০ , ২০১৩ ও ২০১৪ সালে জগদ্দল বিহারের ৩২ টির ও বেশী জায়গায় খনন করে অলংকৃত মূর্তি , ১৩৪ টি প্রত্নতত্ত্ব , ১৪ টি ব্রোঞ্জের মূর্তি , পোড়া মাটির টেরাকোটা , ৩৩ টি ভিক্ষু কক্ষ ও ৮x৮ মিটার প্রস্থের হলঘর পাওয়া গিয়েছে । আবার একমাত্র এই বিহার থেকেই ৬০ সে.মি পুরত্ব বিশিষ্ট বৌদ্ধ বিহারের ছাদের ভগ্নাংশ ও গ্রানাইট পাথরের পিলার উদ্ধার হয়েছে । এছাড়াও খননের মাধ্যমে আবিষ্কৃত ভিক্ষু কক্ষের প্রবেশ পথে অলংকৃত পাথরের চৌকাঠ , আবার কোথাও কোথাও দেবী কক্ষও দেখা যায় । জগদ্দল বিহার থেকে প্রাপ্ত মূল্যবান প্রত্ন সম্পদ গুলো বর্তমানে পাহাড়পুর জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।

এই বিহারটি প্রাচীন বাংলার শিক্ষা-দীক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। প্রাচীন বাংলার এই জ্ঞানসাধন কেন্দ্র পর্যাপ্ত দেখাশুনা ও সংস্কারের অভাবে আজ সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত ও বিলুপ্তপ্রায়।

Read previous post:
বগুড়ার শেরপুরে ইউ পি নির্বাচনে বিজয়ী নৌকা ৪ স্বতন্ত্র ৫

তৃতীয় মাত্রা আবু বকর সিদ্দিক, শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : ১১নভেম্বর২০২১ অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে শেরপুর উপজেলায় নয়টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান...

Close

উপরে