Logo
রবিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২১ | ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

দোহারে তাঁত পল্লীতে নেই খটা খট শব্দ

প্রকাশের সময়: ২:৫৩ অপরাহ্ণ - রবিবার | অক্টোবর ১৭, ২০২১

তৃতীয় মাত্রা

মোঃ জাকির হোসেন, দোহার থেকে : ঢাকার দোহারে এক সময় তাঁতের মাকুর “খটা -খট ” শব্দে সকালে মানুষের ঘুম ভাঙ্গতো, সারাদিন কর্মব্যস্ত সময় পার করে দিত তারা। এখন সেই চিরচেনা রূপ পাল্টে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে এ তাঁত শিল্প। তাঁত পল্লীতে নেই আর খটা খট শব্দ। কালের পরিবর্তনে দোহার থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে তাঁত শিল্প। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারছেন উপজেলার জয়পাড়া ও রাইপাড়া তাঁত পল্লীর শিল্পীরা।এক সময় তারা চরকা ঘুরিয়ে স্বপ্ন বুনতো আগামীকে আরও সুন্দর করার জন্য। তারা দিনরাত গায়ের ঘাম ঝরিয়ে কাপড় বুনতো। লকডাউনে কাজ বন্ধ থাকায় শেষ সঞ্চয়টুকু শেষ করে এখন তাঁত শিল্পীরা অসহায়। কেউ পেটের দায়ে স্বল্প পুঁজি নিয়ে ক্ষুদ্র পরিসরে শুরু করেছে তাদের বাবা-দাদার থেকে পাওয়া তাঁতের কাজ। অনেকে নতুন করে শুরু করার সাহস পাচ্ছে না বিধায় তাদের তাঁতে পড়ে আছে ধূলাবালি । এখন তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে দিন চালানোই দায় হয়ে পড়েছে। প্রায় দু’শত বছর আগে জীবিকার তাগিদে মানুষ বেছে নিয়েছিল এই তাঁত শিল্পকে। এখন নিম্নআয়ের মানুষ গুলো সস্তায় মিলের লুঙ্গি পাওয়ায় দু’শত বছরের ঐতিহ্য এখন হারিয়ে যাওয়ার পথে। দোহারে তাঁতিদের হাতে বুনানো লুঙ্গির কদর রয়েছে সারা দেশে। সূক্ষ্ম সুতার সাহায্যে বুননই এ লুঙ্গির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। একসময় উপজেলার সব কয়টি ইউনিয়নে লুঙ্গি তৈরির হতো, এখন শুধু জয়পাড়া ও রাইপাড়া ইউনিয়নে চলে এ কাজ। কারণ এ সম্প্রদায়ের অনেক লোক এ কাজ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে, তাই শ্রমিকের অভাবে হুমকির মধ্যে পড়েছে এ শিল্পটি।উপজেলার বউ বাজার এলাকার তাঁতি রওশন, তাঁত শিল্পের পেশা বাদ দিয়ে এখন ঝাল মুড়ি ও ফুসকা বিক্রি করেন। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিন ভাই লুঙ্গি বানানোর কাজ করলেও দুই ভাই পেশায় পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন। এখন তাঁতি পরিবারের লোক এ কাজ ছেড়ে অন্য পেশায় নিযুক্ত হয়ে যাচ্ছে।

 

Read previous post:
কুবিতে ‘এ’ ইউনিটের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন

তৃতীয় মাত্রা কুবি প্রতিনিধি : যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে রবিবার(১৭ অক্টোবর) দুপুর ১২ টা থেকে শুরু হওয়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়(কুবি) কেন্দ্রে গুচ্ছ...

Close

উপরে