Logo
রবিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২১ | ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

এ বছর বাগেরহাটে ৬৩৩টি পূজা মন্ডপে হবে দুর্গা পূজা

প্রকাশের সময়: ৯:১৪ অপরাহ্ণ - রবিবার | অক্টোবর ১০, ২০২১

তৃতীয় মাত্রা

উজ্জ্বল কুমার দাস (কচুয়া,বাগেরহাট)প্রতিনিধি : মহালয়ের চণ্ডীপাঠ, বন্দনা গীতি ও গুরুগম্ভীর মন্ত্র উচ্চারণের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা শুরু হয়েছে।আর এরি মধ্যে দেবীপক্ষের শুরু।সব ক্ষন গননা শেষ করে রাত পোহালেই ষষ্ঠী।

সনাতন ধর্ম অনুসারে মহামায়া দুর্গার বাহন সিংহ হলেও মর্ত্যলোকে গমনাগমনের সময় তিনি ভিন্ন ভিন্ন যানবাহনের আশ্রয় নেন।তাই এবছর দেবী আসছেন ঘোড়ায় চেপে।আর মত্ত থেকে দেবী স্বর্গলোকে ফিরবেন দোলায় চড়ে।ধর্মশাস্ত্র মতে এই বাহন পৃথিবীর শুভ-অশুভ নির্ধারিত হয়।

আর এবছর দেবীর যেহেতু ঘোটক (ঘোড়া) আগমন তাই পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে, এমনই ইঙ্গিত বহন করে হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে। তবে অশুভ শক্তির বিনাশ আর শুভ শক্তির উদয়ের প্রার্থনা থাকে সবসময়।একইসাথে মহামারি কাটিয়ে সুন্দর পৃথিবীর প্রার্থনাও সকলের।

শাস্ত্রমতে, গমনাগমনের বার ও তিথীর ওপর ভিত্তি করে বাহন নির্ধারণ হয়। দেবীর গমনাগমন যদি রোববার বা সোমবার হয় তাহলে তার বাহন হয় গজ। আবার দেবীর গমনাগমন যদি শনিবার বা মঙ্গলবার হয় তিনি চড়েন ঘোটকে। কিন্তু বৃহস্পতিবার বা শুক্রবার যদি দেবী আসা-যাওয়া করেন তাহলে তিনি দোলায় চড়েন। আর বুধবার হলে তার যাতায়াতের যানবাহন হয় নৌকা।

শাস্ত্র বলে- ‘গজে চ জলদা দেবী শস্যপূর্ণা বসুন্ধরা’। অর্থাৎ দেবী যদি গজে গমনাগমন করেন তাহলে পৃথিবীতে জলের সমতা বজায় থাকে এবং শস্যর ফলন ভালো হয়। সুখ সমৃদ্ধিতে পরিপূর্ণ থাকে মর্ত্যভূমি। এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা নেই শাস্ত্রে। তবে পার্থিব সম্পদের মধ্যে ‘গজ’ হলো বড় সম্পদ। প্রাচীনকালে রাজা মহারাজাদের বৈভব মাপা হত হাতিশালের হাতির সংখ্যা বিচার করে। তাই ‘গ’ সমৃদ্ধির প্রতীক। অন্যদিকে, হাতি হল অন্নপূর্ণা এবং দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার বাহন। অন্নপূর্ণার আশীর্বাদে শস্যশ্যামলা হয়ে ওঠে এই বসুন্ধরা।

দোলাং মড়কাং ভবেৎ’। অর্থাৎ দেবী দুর্গা যদি দোলায় চড়ে গমনাগমন করলে পৃথিবীতে অনেক মৃত্যু দেখা যাবে। এই মৃত্যু হতে পারে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কিংবা যুদ্ধের হানাহানিতে। দোলা হলো পালকির মতো একটি যান। যার স্থিরতা কম, সব সময় দোদুল্যমান, অল্পে ভঙ্গুর এবং অনেক সময়ই বিপদের কারণ। তাই দুর্গার দোলায় গমনাগমনে মর্তের স্থিরতা ব্যাহত হতে পারে। দুর্গা যদি বৃহস্পতি বা শুক্রবার গমনাগমন করেন, তাহলে তার যানবাহন হয় দোলা। বলা হয়- দেবগুরু বৃহস্পতি হলেন বিদ্বান, বুদ্ধিমান এবং চিন্তাশীল। ফলে ভবিষ্যতের ভালোমন্দ ভাবতে ভাবতে তিনি এতটাই বিভোর হয়ে পড়েন যে সিদ্ধান্ত নিতে অনেক সময় নিয়ে নেন। শাস্ত্র বলে, অতি বিলম্বের ফল ভালো হয় না।

দেবী দুর্গার গমনাগমন ঘোটকে হলে চরম বিশৃঙ্খলা এবং ক্ষয়ক্ষতি দেখা দেয়। এক কথায় একে বলা হয়ে থাকে ‘ছত্রভঙ্গন্তরঙ্গমে’। ঘোড়া অত্যন্ত ক্ষিপ্র, বুদ্ধিমান ও প্রভুভক্ত। তবুও কখনও কখনও তার আচরণে উদভ্রান্ত ভাব লক্ষ্য করা যায়। ঘোড়ার এই স্বভাবের প্রভাব পড়ে মর্ত্যলোকে। এ ছাড়া আরও একটা দিকের কথা জানান হিন্দুশাস্ত্র পণ্ডিতরা। মঙ্গল অথবা শনিবারের যাত্রা হলে দেবীর বাহন হয় ঘোটক। শাস্ত্রবিদদের মতে, মঙ্গলগ্রহ তেজস্বী ও বীরদর্পী। আর শনি হল কূট বুদ্ধিসম্পন্ন। প্রায়শই অনিষ্টকারী। তাই দেবীর ঘোড়ায় গমনাগমন হলে এই দুই গ্রহের প্রভাব পড়ে পৃথিবীতে।

নৌকাং জলবৃদ্ধিশ্চ শষ্যবৃদ্ধির্ভপেৎ সদা’। কথাটির অর্থ হল দেবী দুর্গা নৌকায় গমনাগমন করলে মর্ত্যভূমিতে শস্য খুব ভালো হয়। কিন্তু, অতি বৃষ্টি বা বন্যার আশঙ্কাও থাকে। এক কথায় – জল বৃদ্ধির প্রভাবে ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে মর্ত্যভূমিতে। নৌকা কোনো উৎকৃষ্ট জলযান নয়। বিপদের ঝুঁকিযুক্ত দোদুল্যমান একটি জলযান। ফলে মায়ের আগমনের পর জলের একটা প্রভাব দেখা দেয় প্রকৃতিতে। যেমন অতিবৃষ্টি, বন্যা ইত্যাদি। দুর্গা বুধবার যাতায়াত করলেই তার যানবাহন হয় নৌকা।

সনাতন ধর্মমতে, দেবী দুর্গা মর্ত্যলোকে পূজিত হন শরৎ ও বসন্তকালে। তবে এই দুই কালের রূপ ভিন্ন। শরতে তিনি দুর্গতিনাশিনী দুর্গা এবং বসন্তকালে বাসন্তী রূপে আবির্ভূত হন।

শরতের আগমনে এমন যখন আয়োজন তখন বিভিন্ন স্থানের মতো বাগেরহাটে মন্ডপে স্থাপন করা দেবদেবীর প্রতিমায় রঙের কাজ প্রায় শেষ।তবে এবছর করোনার কারণে অর্থনেতিক অবস্থা বিবেচনায় খরচ কমাতে বিভিন্ন পূজা-মন্ডপে প্রতিমার আকার ছোট করা হয়েছে।গত বছরের মতো এবছরও বাগেরহাটের চুলকাঠি মন্দির ,হাকিমপুরের শিকদার বাড়ি মন্দিরের বিশ্বসেরা পুজোর আয়োজন বন্ধ।

এবছর বাগেরহাট সদর, কচুয়া ,মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা, মোংলা, রামপাল, ফকিরহাট,মোল্লাহাট ও চিতলমারী উপজেলা মিলে জেলার ৯টি উপজেলায় ৬৩৩টি পূজা-মন্ডবে দুর্গা উৎসবের আয়োজনে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন।

রাত পোহালেই সনাতন ধর্ম মতে, ১১ অক্টোবর সন্ধ্যায় বেলগাছের নিচে বোধনের মধ্যে দিয়ে মন্দিরের মুল আনুষ্ঠানিকতা শুরু।এর পর মহাষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাঅষ্টমী, মহানবমী পূজার মধ্যে দিয়ে দেবীকে আরাধনা এবং ১৫ অক্টোবর দশমীতে বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে আবার স্বর্গলোকে ফিরে যাবেন।

Read previous post:
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনে একমাত্র প্রার্থী তাসলিমা বেগম

তৃতীয় মাত্রা উজ্জ্বল কুমার দাস( কচুয়া,বাগেরহাট) প্রতিনিধি : কচুয়ায় উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনে মনোনয়ন পত্র জমা দেন সাবেক উপজেলা...

Close

উপরে