Logo
বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২১ | ১২ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে বেত

প্রকাশের সময়: ২:৫৬ অপরাহ্ণ - শুক্রবার | অক্টোবর ১, ২০২১

তৃতীয় মাত্রা

এস,এম শাহাদৎ হোসাইন, গাইবান্ধা প্রতিনিধি : গাইবান্ধায় হারিয়ে যাচ্ছে চির সবুজ বেতঝাড়। কালের বিবর্তনে এখন আর সহজে সেই চির সবুজ বেতঝাড় দেখা যায় না। এক সময়ে গ্রামবাংলার আনাচে—কানাচে ঝোপঝাড়ে অবহেলায় অযত্নেও বেড়ে উঠত বেতগাছ। অযত্নে বেড়ে উঠলেও বেতের কদর কিন্তু এতটুকু কম ছিল না। বেতের শীতল পাটি গ্রামগঞ্জের মানুষের ব্যাপক জনপ্রিয়তা ছিল। বেতের তৈরি বিভিন্ন আসবাবপত্র হাটবাজারের পাশাপাশি শহরেও বিক্রি হতো। তবে আধুনিকতার ছোঁয়ায় বেতের তৈরী জিনিসপত্র ব্যবহারে স্থান দখল করেছে প্লাস্টিকের পণ্য। গাইবান্ধা সদর উপজেলার কৃষক বাদশা মিয়া বলেন, ‘বাড়ীর পাশে বেতের আড়া হাল জুড়েছে ছোট দেয়রা’ এই গানও আর শোনা যায় না বেতও চোখে পড়ে না। এক সময় গ্রামাঞ্চলের কৃষকদের পতিত জমিতে বিশাল বিশাল জঙ্গল ছিল। সেসব জঙ্গলে রোপণ ছাড়াই প্রকৃতির নিয়মেই বেতগাছ জন্মাত। আর কাঁটা ভরা লম্বা চিকন গাছে সবুজ পাতা অবিরাম দোল খেত। বেত গাছের ফলকে বেতফল বলা হয়। এই ফল গোলাকার বা একটু লম্বাটে গোলাকার, ছোট ও কষযুক্ত টক মিষ্টি। এর খোসা শক্ত হলেও ভিতরটা নরম। বীজ শক্ত। কাঁচা ফল সবুজ ও পাকলে ঘিয়ে বা সাদা রঙের হয়। এটি থোকায় থোকায় ফলে। বেতগাছে ফুল আসে অক্টোবর মাসে আর ফল পাকে মার্চ—এপ্রিল মাসে। এটি অপ্রচলিত ফল হলেও অনেকের কাছে খুবই প্রিয়। এটি যেমন পুষ্টিকর তেমন সুস্বাদু ও ঔষুধিগুণ সমৃদ্ধ। মূলত মাটির অবস্থাভেদে এই ফল খুব মিষ্টি হয়। আবার স্থানভেদে একটু টকও হয়। গ্রামের কৃষকের অতি প্রয়োজনীয় গাছ হিসেবে পরিচিত বেতগাছ। চাল ও ধান পরিমাপের টালা, পাল্লা, ঝুড়ি, ঝাঁকা বা ধামা বা টুকরি, শীতল পাটি, হাত পাখা, হাতের লাঠিসহ বেতের চেয়ার, সোফা, দোলনা, ফুলদানিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরি হতো। প্রতিটি বাড়িতে ওইসব পণ্যের প্রচুর চাহিদা ছিল। আধুনিকতার ছেঁায়ায় এসব পণ্যের কদর কমে গেছে। একদিকে পতিত জমিতে ফসল উৎপাদন করতে জঙ্গল কেটে ফেলছে কৃষকরা। সেখানে চাষ করা হচ্ছে নানা জাতের কৃষি ফসল। উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞরা বলেন, পূর্ণবয়স্ক একটি বেতগাছ ৪৫ থেকে ৫৫ ফুট এবং কখনো কখনো তার চেয়েও বেশি লম্বা হয়ে থাকে। বেতগাছের কান্ড দেখতে চিকন, লম্বা, কাঁটাময় ও খুবই শক্ত এবং শাখাহীন। সরু ও নলাকার কান্ড প্রস্থে সাধারণত ৫—১৫ মিলিমিটার। প্রতিটি কান্ডের আগা থেকে নতুন পাতা বের হয় ও বেড়ে ওঠে। কান্ড বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নিচের অংশ পোক্ত হতে থাকে। কোনো ধারককে ধরে রাখার জন্য কাঁটাযুক্ত ধারক লতা বের হয়। বেতে ফুল ধরার আগে গাছ থেকে একধরনের মিষ্টি সুগন্ধি আসে। তখন মৌমাছি, পিঁপড়া, মাছি এই রস খেতে বেত গাছে ভিড় জমায়।

Read previous post:
ছাগলের খামারে লাভবান হচ্ছে রতন

তৃতীয় মাত্রা এস,এম শাহাদৎ হোসাইন, গাইবান্ধা প্রতিনিধি : সংসারের টানাপোড়া থেকে আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্য রতন মিয়া ছাগল পালন শুরু করেন।...

Close

উপরে