Logo
বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২১ | ১২ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনে পর্যটন

প্রকাশের সময়: ১০:২৯ অপরাহ্ণ - বৃহস্পতিবার | সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২১

তৃতীয় মাত্রা

 অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে পর্যটন এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে কেন্দ্র করে উৎযাপন হবে বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২১। আয়োজক দেশ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে আইভরি কোস্ট।অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনে পর্যটনের ভূমিকা এই বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে বিশ্ব পর্যটন দিবসের অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবে বিশ্ব পর্যটন সংস্থা ও অন্যান্য দেশের পর্যটন সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।

বিশ্ব পর্যটন দিবস ২৭ সেপ্টেম্বর তারিখে সারা বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে থাকে। জাতিসংঘের অধীনস্থ বিশ্ব পর্যটন সংস্থার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ১৯৮০ সাল থেকে সকল সদস্য দেশে এটি পালিত হয়ে আসছে। দিবসটির প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও পর্যটন কেন্দ্রের সাথে সেতুবন্ধন গড়ে তোলা। এছাড়াও, পর্যটনের ভূমিকা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক উপযোগিতাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া এ দিবসের অন্যতম লক্ষ্য (উৎস- উইকিপিডিয়া)।

মহামারি করোনার প্রভাবে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার কারণে প্রায় ৩২ মিলিয়ন বেশি মানুষ চরম দারিদ্র্য সীমার মধ্যে জীবনযাপন করছে। এই পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে উঠার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির বিকল্প কিছু নেই। অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনে পর্যটনের ব্যাপকভাবে ভূমিকা থাকবে বলে মনে করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিকে টেকসই প্রবৃদ্ধি হিসেবে দেখা হয় যা অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি ও সম্প্রসারণ করবে এবং এই সুযোগগুলোতে ব্যাপক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে যাতে সমাজের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষজন অংশ নিতে পারে এবং প্রবৃদ্ধিতে উপকৃত হতে পারে।

পর্যটনকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারক, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সুসষম অর্থনৈতিক বন্ঠন, পরিবেশ সংরক্ষণ, সমাজের বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণীর মানুষের একত্রিকরণ ইত্যাদির মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি সম্ভব। অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনে পর্যটনকে নিয়ে বিভিন্ন ভাবে কাজ করতে হবে। যেমন –

পর্যটন শিল্পের সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি, পর্যটন থেকে সবার সমান সুযোগ সুবিধা ভোগের অধিকার, পর্যটনের সাথে যুক্ত সবধরনের পেশা ও শ্রেণীর মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুযোগর আওতায় নিয়ে আসা, পর্যটন বিষয়ক সচেতন বৃদ্ধি, পর্যটনের উন্নয়নের ছোয়া সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়া, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষিত বেকারদের পর্যটন শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে আসা, পর্যটন মহাপরিকল্পনার রূপরেখা বাস্তবায়ন এবং পর্যটনের সুফল সম্পর্কে অবহিত করা ইত্যাদি।

পর্যটনকে অন্তর্ভুক্তিমূলক বৃদ্ধির জন্য একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে মানসম্মত চাকরি, ব্যবসা এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি , স্থানীয় সম্প্রদায়ের উপর নেতিবাচক প্রভাব প্রশমিত করা এবং সমস্ত মানুষ ও অঞ্চলে সুবিধাগুলি আরও ভালভাবে ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব।টেকসই এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক পর্যটন বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করে এমন সমন্বিত নীতি নির্ধারন প্রসঙ্গে কার্যকর পন্থাগুলি চিহ্নিত এবং ভাগ করে নেওয়ার জন্য সরকার এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে কাজ চলমান রাখ রাখতে হবে। টেকসই উন্নয়নের জন্য ২০৩০ এর মধ্যে এমডিজির এজেন্ডায় অবদান রাখতে পারে এবং উন্নত অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশগত উন্নয়ন করতে পারে এমন উদ্ভাবনী পর্যটন নীতির বিকাশে মনোযোগী হতে হবে।

মোঃ সাইফুল্লার রাব্বী

প্রভাষক, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ

ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অফ আইটি

এসেসর,বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড

Read previous post:
ধর্মপাশায় ডোবার পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

তৃতীয় মাত্রা ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : ধর্মপাশায় ডোবার পানিতে ডুবে আরুপা আক্তার  নামের তিন বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।...

Close

উপরে