Logo
মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২১ | ৫ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ দূতাবাস প্রবাসে কী কী কাজ করে থাকেন?

প্রকাশের সময়: ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ - শুক্রবার | জানুয়ারি ৮, ২০২১

তৃতীয় মাত্রা

একজন রাষ্ট্রদূত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দেশের প্রতিনিধিত্ব করে যাবতীয় রাষ্ট্রীয় কার্যাদি সম্পন্ন করেন। সাধারণত তিনি নিজ দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য কাজ করেন। কর্মরত দেশের সরকারের নিকট নিজ দেশের কূটনীতি সম্পর্কিত বিষয়গুলো তুলে ধরেন এবং দ্বি-পক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি বাস্তবায়নে সদা তৎপর থাকেন। রাষ্ট্রদূত (Ambassador) একজন উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবিশেষ, যিনি কোনো নির্দিষ্ট দেশের সরকারের পক্ষ থেকে অন্য কোনো স্বাধীন দেশ, সরকার কিংবা আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে কূটনৈতিক কার্যসম্পাদনের উদ্দেশ্যে প্রেরিত হন।

বর্তমানে যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রভূত উন্নয়ন ঘটায় সরাসরি কিংবা মুহূর্তের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করা সম্ভবপর। তারপরও এটি সত্য যে, অনেক সমস্যা রয়েছে যেখানে সরাসরি যোগাযোগ অবশ্যই রক্ষা করতে হয়। এখানেই রাষ্ট্রদূতের উপযোগিতা ও প্রয়োজনীয়তা বিদ্যমান।

একজন রাষ্ট্রদূতকে বৈদেশিক রাষ্ট্রে অনির্ধারিতভাবে কয়েক বছর অবস্থান করতে হয় এবং তিনি ওই রাষ্ট্রের যাবতীয় আইন-কানুন, রীতি-নীতি, সমাজ ব্যবস্থা ইত্যাদি সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত থাকেন। তিনি যেখানে কাজ করেন তা দূতাবাস নামে পরিচিত। সাধারণত দূতাবাস বৈদেশিক রাষ্ট্র কর্তৃক বরাদ্দকৃত এবং তা দেশটির রাজধানী এলাকায় অবস্থিত। তাকে কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড ও কর্তব্য কাজে সহযোগিতার জন্য একদল প্রশিক্ষিত ব্যক্তিকে নিয়োগ করা হয়। কিছু উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তি দূতাবাসের কর্মকর্তা নামে পরিচিত।

সচরাচর উভয় দেশের রাষ্ট্রদূত এবং অনেক দূতাবাস কর্মী ব্যাপক কূটনৈতিক সুবিধাদি ভোগ করে থাকেন। বিদেশে অবস্থানকালীন সময়ে তারা গ্রেফতার কিংবা বিচারের মুখোমুখি হন না। শাস্তি হিসেবে তাদেরকে কেবলমাত্র নিজ দেশে ফেরৎ পাঠানো হয়ে থাকে। কমনওয়েলথভূক্ত দেশসমূহের রাষ্ট্রদূতরা হাইকমিশনার নামে পরিচিত। রাষ্ট্রদূত নামেই হোক আর হাইকমিশনার নামেই হোক, দায়িত্ব তাদের একই।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী ১৯৫টি স্বাধীন দেশ পৃথিবীতে রয়েছে। তার মধ্যে ১৯৩টি জাতিসংঘের সদস্য। বাকি দুটি সদস্য নয়। আরও ৬টি দেশ আছে যাদের আংশিক স্বীকৃতি রয়েছে। তাহলে মোট দেশের সংখ্যা হল ২০৬টি। আবার ফিফা অনুযায়ী ২১১টি দেশ আছে। ISO Standard এর দেশের কোডের তালিকায় মোট ২৪৯টি দেশের কোড দেওয়া আছে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত সুইডিশ দূতাবাসের দায়িত্ব এবং কর্তব্য সম্পর্কে জানতে চেষ্টা করতেই হুড়হুড় করে সব পেয়ে গেলাম। সুইডেনের বাইরে বসবাসরত সুইডিশদের সমস্ত দায়ভার, ব্যবসা-বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয়ে সাহায্য করা, নাগরিকের নিরাপত্তার দিকে নজর রাখা, সাংস্কৃতিক এবং শিক্ষা প্রশিক্ষণের সুযোগ সুবিধাসহ অন্যান্য বিষয়ের ওপর নজর রাখা এবং সকল ধরণের সাহায্যের হাত বাড়ানোই সুইডিশ দূতাবাসের কাজ।

সুইডেনের মত বাংলাদেশেরও অনেক দূতাবাস রয়েছে। কতগুলো দূতাবাস বিশ্বের বিভিন্ন দেশজুড়ে আছে জনগণ সেটা সঠিকভাবে জানতে চায়। জানতে চায় দেশের কী পরিমাণ অর্থ এদের পেছনে প্রতিবছর খরচ হয় এবং তাদের কাজ কী। যদিও বাংলাদেশ দূতাবাসের একই ধরণের দায়িত্ব এবং কর্তব্য থাকা উচিত বলে আমি মনে করি।

আমি বহু বছর বাংলাদেশের বাইরে। জীবনে কোনোদিন বাংলাদেশ দূতাবাসে যাইনি এর আগে। শুনেছি মাঝেমধ্যে তাদের অনুষ্ঠান হয় কিন্তু কোনোদিন আমার সঙ্গে তারা যোগাযোগ করেননি। এ বছর আমার ছেলে-মেয়ে বাংলাদেশের হয়ে টেনিস খেলতে আগ্রহ প্রকাশ করায় আমি সরাসরি বাংলাদেশে টেনিস ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করি। পরে বাংলাদেশ থেকে স্টকহোম দূতাবাসে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে নির্দেশ দেয়ার ফলে তাদের সঙ্গে আমার প্রথম যোগাযোগ হয়।

দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। যার ফলে আমি গত কয়েকদিন আগে সুইডেনেও বাংলাদেশিদের এ কী হাল! শিরোনামে একটি আর্টিকেল লিখি। আমার লেখা যারা পড়েছে তাদের থেকে যে সমস্ত কমেন্টস এসেছে তা জেনে অবাক হয়েছি। গোটা বিশ্বে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের আচরণ প্রবাসীদের ক্ষেত্রে খুবই মর্মান্তিক। বাংলাদেশ দূতাবাসের দায়িত্ব, কর্তব্য এবং দূতাবাসের অমানবিক ব্যবহারের কথা জেনে আমি কষ্ট পেয়েছি।

একইসঙ্গে আমার বিবেকে যে রিফ্লেকশনের উদয় হয়েছে সেটা হলো বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা প্রবাসে পড়াশুনা করতে কী করণীয় বা বর্জনীয় সেটা কেন তারা সব সময় আমার থেকে জানতে চায়? কেন তারা বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করে না? কেনই বা ব্যবসায়িক বিষয়ে আমাকে সুইডেন এবং ইউরোপের বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করে? তাহলে দূতাবাস এসব দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ নাকি তাদের টু ডু লিস্টে এ কাজ পড়ে না?

পাসপোর্ট ইস্যু ছাড়া আর কী কী দায়িত্ব তাদের রয়েছে সেটা অনেক চেষ্টা করেও সঠিক তথ্য জানতে ব্যর্থ হয়েছি। শুধু পাসপোর্ট ইস্যুর কাজে যদি এতগুলো কর্মী নিয়োগ হয় এবং তাও যদি সঠিকভাবে কাজটি করতে ব্যর্থ হয় তবে কী দরকার দেশের অর্থ এভাবে নষ্ট করার?

দূতাবাস কর্তৃপক্ষ শুধু নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত। তারা কীভাবে নিজ নিজ পরিবারকে নানা ধরণের সুযোগ সুবিধা পাইয়ে দিবে সেটাই তাদের প্রধান কাজ এমনটি কথাও উঠেছে। আমি এও জানতে পেরেছি, অনেকে দূতাবাসের বাসা বাড়ি ভাড়া দেয়ার কারণে ধরা খেয়েছে যা সুইডেনের খবরের কাগজে পড়েছি। বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কি জানে না দূতাবাসের দায়িত্বের গাফিলতির কথা? তা যদি না জেনে থাকে তবে দয়া করে তদন্ত করুন এবং যে কাজের জন্য তাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে তা যেন তারা সঠিকভাবে পালন করে সে বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করতে নির্দেশ দিন।

দেশকে সোনার বাংলা করতে হলে শুধু রিকশাওয়ালা, দূরপরবাসী, জেলে, মুচি, মেথর, কুলি এবং কৃষকদের শোষণ আর শাসন করলে হবে না; সবাইকে সক্রিয়ভাবে মন প্রাণ দিয়ে কাজ করতে হবে। মেহনতি মানুষের জীবনের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে। সেই স্বাধীনতার বিনিময়ে রাষ্ট্রদূত হয়ে আজ বাংলাদেশের দায়িত্ব নেবার সুযোগ হয়েছে। তাদের প্রতি এত বড় অবিচার, আর যাই হোক জাতির পিতার কন্যা মেনে নিবেন না এ বিশ্বাস আমি করি।

লেখক: রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন থেকে, rahman.mridha@gmail.com

Read previous post:
সকল শিশুদের সমান অধিকার পর্তুগালে

তৃতীয় মাত্রা পর্তুগালে সকল শিশুদের অধিকার সমান পর্তুগালে আগত অভিবাসী অথবা শরণার্থীদের সন্তান পর্তুগিজ শিশুদের মতই একই অধিকার, সুবিধা-অসুবিধা ভোগ...

Close

উপরে