Logo
শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ধামরাইয়ের ঐতিহ্যবাহী সুপ্রাচীন দুর্গা মন্দির ও মা জশাই তীর্থালয় এর ইতিবৃত্ত

প্রকাশের সময়: ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ - শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ৩, ২০২১

তৃতীয় মাত্রা

রনজিত কুমার পাল (বাবু), ধামরাই প্রতিনিধি : রাজধানী ঢাকার অদূরে ধামরাই পৌর এলাকার সার্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গা মন্দির – একটি সুপ্রাচীন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এর স্থাপত্য কাল নিয়ে কোন সুনির্দিষ্ট ধারনা না থাকলেও অত্র এলাকার ইতিহাসবিদ ও বয়োবৃদ্ধদের মতে চালাফর জমিদার কর্তৃক এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

সেই থেকে এটি মহাকালের স্বাক্ষী হয়ে আজোও দাঁড়িয়ে আছে বড় বাজার চারি-রাস্তার সঙ্গমস্থলে।

কালের করাল প্রবাহে জীর্ণ শীর্ণ এ’মন্দিরটি উক্ত মন্দির পরিচালনা কমিটির প্রচেষ্টা ও স্বর্গীয় প্রফুল্ল মাষ্টার মহাশয় এর প্রয়াত স্ত্রী’র অর্থানুকূল্যে স্বাধীনতা পরবর্তী কালে সংস্কার লাভ করে।

উল্লেখ্য- সুপ্রাচীন এ’মন্দিরের বেদীর সম্মুখে দু’পার্শ্বে প্রায় তিন ফুট প্রশস্হ দুটি বড় থাম ছিল যার কারণে মায়ের প্রতিমা দর্শনে ভক্তদের বিশেষ অসুবিধা হতো।
১৯৮৭ সালে মন্দির কমিটির উদ্যোগে সেই দুটি বৃহৎ থাম অপসারণ করে মন্দিরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি সহ ভক্তদের প্রতিমা দর্শনে সহায়তা করা হয়।

এর পরও মন্দির কমিটির উদ্যোগে মন্দিরের উচ্চতা বৃদ্ধি সহ নানা সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করার পর ঢাকার ধানমন্ডি নিবাসী মিল্টন বসাক (বাবু) দুর্গা মন্দির টাইলসকরন করেন।

দুর্গা মন্দির সংলগ্ন বিশাল নাটমন্দির প্রথমে মাঝ খানে ছোট আকারের ধামরাই পৌরসভার অনুদানে নির্মিত হয় পরবর্তীতে স্হানীয় ভক্ত যেখানে কীর্তনীয়ারা কীর্তন করে ঐ স্হান টুকু টাইলসকরন করেন সুব্রত পাল ও উত্তম পাল। এছাড়া মন্দিরের অফিস কক্ষ, টয়লেট এর সমস্ত ব্যয় ভার বহন করেন সুভাষ পাল ব্যাসদেব। মন্দির সংলগ্ন কীর্তনের অফিস কক্ষ নির্মান ও টাইলসকরন করেন সমীর পাল ও লিটন পাল।

বড় বাজার দুর্গা নাট – মন্দির এর অবশিষ্টাংশের বিশাল অংশ আধুনিক শেড যুক্ত নাট- মন্দির নির্মান ও ফ্লোর টাইলসকরন এর সমস্ত ব্যয় ভার বহন করেন স্হানীয় ভক্ত স্বর্গীয় বাসুদেব পাল।

ঐতিহ্যবাহী চারশত বছরের সুপ্রাচীন শ্রীশ্রী দুর্গা মন্দিরের সম্মুখে রয়েছে এক বিশাল আকৃতির বট গাছ। এ’বট গাছ নিয়ে রয়েছে বিভিন্ন কিংবদন্তির ইতিহাস। তবে এর আনুমানিক বয়সও চারশত বছরেরও অধিক।

সর্বপ্রথম কে,কখন,গাছটির গোড়া সহ প্রায় ত্রিশ ফুট এলাকা বৃত্তাকারে বাঁধিয়ে দিয়েছেন তার সঠিক তথ্য আজও পাওয়া যায়নি। তবে বাঁধানো শিলালিপি অনুযায়ী ১৩৩৫ বাংলা সালে স্বর্গীয় চাঁদ মোহন বসাক এটি পুনঃ সংস্কার করেন বলে জানা যায়।

আরো পরবর্তীতে স্হানীয় ধর্মপ্রাণ শ্রী সুশীল চন্দ্র পাল তাহার নিজ খরচে পূর্বের বৃত্তাকার তিন ফুট উঁচু প্রাচীরকে পাঁচ করে প্রাচীর নির্মান করে সংস্কার করেন এবং প্রবেশ দ্বারে ষ্ট্রীলের দরজা স্হাপন করে দেন।

আরো উল্লেখ্য ১৪১০ বাংলা সালে ধামরাই উপজেলা অঙ্গনের শ্রীশ্রী শিব মন্দির এর জন্য তৈরিকৃত শিব লিঙ্গ বিগ্রহটি মা জশাই অঙ্গনের বট গাছের এই পবিত্র অঙ্গনে স্হাপন করে এবং এর পবিত্রতা রক্ষার জন্য স্হাপনকারী ধামরাই উপজেলা অঙ্গনের শ্রীশ্রী শিব মন্দির পরিচালনা পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক রনজিত কুমার পাল (বাবু) নিজ খরচে শিব মুট তৈরি করে দশ উপাচারে ধামরাইয়ের অন্যতম পুরোহিত শ্রী মানিক লাল গোস্বামী কে দিয়ে যজ্ঞ, পূজানুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বর্তমানে এতদ্ অঞ্চলের সকল ভক্তবৃন্দ এ’তীর্থালয় দর্শন করে পূজানুষ্ঠানের ব্যবস্হা করেন।

এতদ্ অঞ্চলের মধ্যে সর্বাঙ্গ সুন্দর তীর্থালয় গড়ার প্রত্যয় নিয়ে বড় বাজার মা জশাই অঙ্গনের ব্যাপক উন্নয়ন মূলক কাজ ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হয়েছে।
বড় বাজার বট গাছের মা জশাই অঙ্গনের তীর্থালয়ের বৃত্তাকারের চতুর্দিকে ধামরাই পৌরসভার সৈয়দপুর নিবাসী স্বর্গীয় রাম পালের প্রদানকৃত ও শিল্পী সোমা পালের তৈরি একনাম(হরেকৃষ্ণ হরেকৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরেহরে হরেরাম হরেরাম রামরাম হরেহরে)১৬ নাম ৩২ অক্ষর টেরাকাটা স্হাপন করা সহ পিতলের ঘন্টা, শিবঠাকুর,পানু পালের প্রদানকৃত ঠাকুরের টাইলস সহ অন্যান্য দেবতার টাইলস স্হাপন করে পরবর্তীতে শ্যাম গোপাল পাল কর্তৃক মা জশাই অঙ্গনের ভিতর ফ্লোর টাইলস করন সহ বিভিন্ন ভক্তের অনুদানে সুন্দর তীর্থালয় হিসেবে গড়ে উঠছে।

সম্প্রতি সুনীল পাল তার নিজ খরচে বড় বাজার মা জশাই অঙ্গনের পুরো স্হাপনা রঙ্গীন করে রঙ্গের কাজ করে সুসম্পন্ন করে সৌন্দর্য বহু গুনে বাড়িয়ে তুলেছেন তার আগে ২০০২ সালে প্রবীর পাল রঙ্গের কাজের সমস্ত ব্যয় বহন করেছিলেন।
এ’তীর্থালয়ে উন্নয়ন মূলক কাজে ২০০২ সাল থেকেএ যাদের সবসময় কাছে পেয়েছি কাজ চলাকালে কায়িক শ্রম দিয়েছেন অজিত পাল, প্রয়াত শোভন পাল,শীতল পাল,উৎপল পাল দশরত সরকার সহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ।

বর্তমানে এটি ধামরাইয়ের প্রাচীন ঐতিহ্যমন্ডিত দর্শনীয় স্থান সমূহের মধ্যে অন্যতম।বট বৃক্ষের গোড়া ও শিবলিঙ্গ বিগ্রহে প্রত্যহ এতদ্ অঞ্চলের ভক্তবৃন্দ ও দূর দুরান্ত থেকে আগত ভক্তবৃন্দ পূজো দিয়ে থাকেন।গ্রীষ্ম কালে জাতি,ধর্ম,বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর মানুষ এর বাঁধান সিঁড়িতে বসে বিশ্রাম নেয়।
এ’বিশাল মহীরুহ তার সুশীতল ছায়ায় পরিশান্তদের পরিশিলীত করে আর এ’জন্য হয়তো মহাকালের স্বাক্ষী হয়ে বিশার বট গাছটি আজো বেঁচে আছে।

এ’বট গাছের নীচে এককালে বৃহৎ বাজার মিলতো সম্ভবত এ’জন্যই এ এলাকার নাম বড় বাজার। বাঁধানো বট গাছ আর সার্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গা মন্দির – যেন উভয়ই পরষ্পরের পরিপূরক।এ’মন্দির ও মা জশাই অঙ্গনকে কেন্দ্র করেই এখানে সুপ্রাচীন কাল থেকে ১লা বৈশাখ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে ঐতিহাসিক দিগম্বরী মেলা।
আরো উল্লেখ্য – মা জশাই অঙ্গনের সংলগ্ন তুলসী অঙ্গন নির্মান করা হয়েছে উক্ত তুলসী অঙ্গন টাইলসকরন এর সমস্ত ব্যয় ভার বহন করেছেন ডাঃ চিত্ত রঞ্জন বসাক।

Read previous post:
সরিষাবাড়ীতে নবযোগদানকৃত নির্বাহী অফিসারের সাথে মতবিনিময়

তৃতীয় মাত্রা মোঃ গোলাম কিবরিয়া, সরিষাবাড়ী, জামালপুর : জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে নবযোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী অফিসার উপমা ফারিসা’র সাথে...

Close

উপরে