Logo
বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২১ | ১৪ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

জন্মগত হৃদরোগের প্রতিকার

প্রকাশের সময়: ৯:৩৬ অপরাহ্ণ - মঙ্গলবার | নভেম্বর ২৪, ২০২০

তৃতীয় মাত্রা

তৃতীয় মাত্রা স্বাস্থ্য ডেস্ক : ‘জন্ম হোক যথা তথা কর্ম হোক ভালো’… এ কথার সঙ্গে আমি একমত নই। জন্মগত হৃদরোগ কেবল কোনো জন্মদাতা বাবা-মায়ের সঠিক সিদ্ধান্ত না নিতে পারাই বহুলাংশে দায়ী। হার্টের জন্মগত ত্রম্নটি হার্টের ভেতরে স্বাভাবিক রক্ত চলাচলকে ব্যাহত করে। এর ফলে নবজাতকের শ্বাসকষ্টসহ নানাবিধ অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। জন্মগত হৃদরোগের কিছু প্রধান কারণ হলো- * জন্মগত হৃদরোগ বংশগতভাবে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে পরিবারের অন্য সদস্যদের রোগটি থাকতে পারে। পারিবারিকভাবে নবজাতক ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর স্বল্পসময়ের ব্যবধানে মৃত্যুর ইতিহাস ওই পরিবারে জন্মগত হৃদরোগ বংশগতভাবে থাকার ইঙ্গিত বহন করে। কাজিন ম্যারেজ ও আত্মীয়ের মধ্যবিয়ে অনেক সময় জন্মগত হৃদরোগের ঝুঁঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। * সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় গর্ভবতী মায়েদের সঠিক ওষুধ না খাওয়ার জন্য জন্মগত হৃদরোগ হতে পারে। সে জন্য সব গর্ভবতী মায়ের উচিত যে কোনো কারণে চিকিৎসা গ্রহণের আগে অবশ্যই ডাক্তারকে জানানো উচিত যে তিনি গর্ভবতী। সে ক্ষেত্রে গর্ভকালীন সময়ে যেসব ওষুধ জন্মগত হৃদরোগ সৃষ্টি করতে পারে, সেসব ওষুধ লেখা থেকে ডাক্তারকে বিরত থাকতে হবে। ব্রণের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত ভিটামিন ‘এ’ অ্যানালগ এবং মুড ডিসঅর্ডারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত লিথিয়াম ব্যবহারকারী মায়ের গর্ভের সন্তানের জন্মগত হৃদরোগ হতে পারে।* গর্ভকালীন অভ্যাসগত কারণে মা যদি অ্যালকোহল অথবা অবৈধ নেশাজাতীয় ড্রাগ সেবন করে তবে তা-ও নবজাতকের জন্য জন্মগত হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। * গর্ভকালীন প্রথম তিন মাস হচ্ছে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময়। এ সময় গর্ভবতী মা রুবেলাসহ অন্যান্য ভাইরাস রোগে আক্রান্ত হলে তা নবজাতকের জন্মগত হৃদরোগের কারণ হতে পারে। সে জন্য গর্ভকালীন গর্ভবতী মায়ের উচিত কোলাহলপূর্ণ স্থান ও সামাজিক মেলামেশা থেকে নিজেকে বিরত রাখা। অনেক সময় মা নিজেও জানেন না তিনিগর্ভবতী। তাই এ ক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধিই একমাত্র প্রতিকারের উপায়। * চলিস্নশোর্ধ্ব বা বয়স্ক মায়ের গর্ভজাত সন্তান মানুষিকভাবে বিকলাঙ্গ হতে পারে এবং তাদের জন্মগত হৃদরোগ সাথী হিসেবে থাকে। এর মধ্যে ‘ডাউন সিনড্রোম’ একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। তাই ছেলেসন্তানের আশায় চলিস্নশ বছরের পর মায়েদের গর্ভধারণ থেকে নিজেকে বিরত রাখাই বাঞ্ছনীয় হবে। তাই সবশেষে জীবনের বন্ধন যথা-তথা না করে বা তাড়াহুড়ো পরিহার করে সঠিক খোঁজ-খবরের মাধ্যমে করা উচিত। জন্ম যথা-তথা হলে কর্ম ফলাফল হিসেবে জন্মগত হৃদরোগ ললাটের লিখন হয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ‘জনম্ সামঝা করো’, উক্তিটির সঙ্গে আমি একমত পোষণ করছি।

Read previous post:
সুস্থ সন্তান পেতে গর্ভসঞ্চারের সময় যে সব সাবধানতা মেনে চলা দরকার

তৃতীয় মাত্রা তৃতীয় মাত্রা স্বাস্থ্য ডেস্ক : আজকাল কেরিয়ার গুছিয়ে অনেক ছেলেমেয়েরই বিয়ে হয় দেরিতে। গর্ভসঞ্চার হয় আরও দেরিতে। তাই...

Close

উপরে