Logo
বুধবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২১ | ৬ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বায়ুদূষণে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

প্রকাশের সময়: ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ - মঙ্গলবার | নভেম্বর ২৪, ২০২০

তৃতীয় মাত্রা

বায়ুদূষণের সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘হেলথ ইফেক্টস ইন্সটিটিউট’ এবং ‘ইন্সটিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশন‘ সম্প্রতি বায়ুর মানের দিক থেকে এশিয়াকে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত অঞ্চল বলে ঘোষণা দিয়েছে। সংস্থার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে মানুষ এমন এক পরিবেশে বাস করছে, যেখানকার বাতাসের মান ডব্লিউএইচও এয়ার কোয়ালিটি গাইড লাইনে থাকা পিএম ২.৫ স্তরের চেয়ে বেশি।

ইতঃপূর্বে এ সংস্থা পরিচালিত বৈশ্বিক বায়ুদূষণ পরিস্থিতি-২০১৭ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে বায়ুদূষণে প্রায় ৪০ শতাংশ শিশু শ্বাসজনিত জটিল সমস্যার শিকার হয়। আরেক গবেষণায় জানা গেছে, ২০১৯ সালে সর্বোচ্চ আউটডোর পিএম ২.৫ স্তরে থাকা শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ এবং একই বছরে বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।

পিএম ২.৫ দূষণকারী বাতাসে সূক্ষ্ম কণার মধ্যে রয়েছে অজৈব ও জৈব বস্তু যেমন- ধুলাবালি. কালো ধোঁয়া, ড্রপলেট ও ফুলের রেণু। ঘরের ভেতরে ও বাইরে অবস্থিত এসব কণার দূষণে জন্মের প্রথম মাসে বিশ্বে প্রায় ৫ লাখ শিশুর মৃত্যু হয়। দেশে অন্যান্য শহরের চেয়ে রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণের মাত্রা অনেক বেশি। মানবদেহের জন্য দূষণের অসহনীয় উপাদান মাত্রা পিএম-২.৫ নিয়ে মানুষ ১৯৯০ সাল থেকে ঢাকা মহানগরীতে বসবাস করে আসছে। এছাড়া ‘স্টেট অব গ্লোবাল এয়ারের’ মতে, বাংলাদেশের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ বায়ুদূষণের মাঝে বাস করছে।

বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ঢাকার বায়ুদূষণের ৫৮ শতাংশের উৎস মহানগরীর আশপাশের ইটভাটা। এছাড়া রাস্তার ধুলা, মোটরগাড়ি ও কারখানার দূষণ মিলে ২৬ শতাংশ। দেশের অধিকাংশ শহরের বাতাসে সাদা চোখে যে ধুলা দেখা যায়, তা শুধু মাটির ক্ষুদ্র কণা নয়। এর মাঝে মিশ্রিত আছে নানা ধরনের সূক্ষ্ম রাসায়নিক বস্তুকণাসহ কার্বন-ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, সিসা, নাইট্রোজেন, হাইড্রোকার্বন, বেনজিন, সালফার, অ্যামোনিয়া, ফটো-কেমিক্যাল অক্সিডেন্টস।

এসব ক্ষতিকর উপাদানের ব্যাপক নিঃসরণ শহরে বসবাসকারী বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ। দূষিত বায়ু মানবদেহের ফুসফুসের ক্যান্সার থেকে শুরু করে স্ট্রোক, হৃদরোগ ও অ্যাজমাসহ শ্বাসতন্ত্রের মারাত্মক ব্যাধির কারণ হতে পারে। ধুলাবালি, সিগারেটের ধোঁয়া ও কীটনাশক স্প্রের কণা বাতাসকে দূষিত করে মানবদেহে ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগের সংক্রমণ ঘটায়। ব্যাপক সিসা দূষণের কারণে শিশুদের বুদ্ধিমত্তার বিকাশ বাধাগ্রস্ত ও স্নায়বিক ক্ষতি হতে পারে। নারীর গর্ভপাত, মৃত শিশু প্রসবের আশঙ্কাও রয়েছে।

অপরিকল্পিত নগরায়ন ও দ্রুত শিল্পায়নের অশুভ প্রতিযোগিতায় পড়ে প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে, লাগামহীনভাবে বেড়ে চলছে দূষণ। গত ৪০ বছর ধরে ঢাকা শহরে সুউচ্চ ভবন নির্মাণসহ অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন ও নন-কমপ্লায়েন্স শিল্পকারখানা স্থাপনের ফলে বাতাসে যুক্ত হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক পদার্থ। বিক্ষিপ্ত নগরায়নের কারণে ৭৫ শতাংশ চাষযোগ্য জমি হারিয়ে যাচ্ছে। বনভূমি উজাড়ের কারণে বাতাসে বাড়ছে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রা।

বাতাসকে দূষণমুক্ত রেখে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজন নির্মাণাধীন ভবন ও রাস্তা থেকে উৎপন্ন ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণ করা। রাস্তায় পানি ছিটিয়ে ধুলাবালি উড়া বন্ধ করতে হবে। নির্মাণসামগ্রী বহনকারী ট্রাক রাস্তায় চলাচলের সময় ত্রিপল দিয়ে ঢেকে নিতে হবে। শিল্প-কারখানাকে শহর থেকে দূরে স্থাপন করতে হবে। কালো ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণসহ শিল্পবর্জ্যরে নিরাপদ অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে।

ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ যানবাহনে সিসামুক্ত জ্বালানি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপদ দূরত্বে ইটভাটা স্থাপন এবং ভাটার চিমনি যথাযথ উচ্চতায় ব্যবহারের মাধ্যমে কালো ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। জীবাশ্ম জ্বালানির বদলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। সর্বোপরি বাতাসকে দূষণমুক্ত রাখতে জনগণকে হতে হবে পরিবেশ সচেতন। সূত্র: যুগান্তর

 

মুসাহিদ উদ্দিন আহমদ : প্রাবন্ধিক

Read previous post:
কনক সারওয়ার গোল্ডেন মনিরসহ ৩৫ জনের ব্যাংক হিসাব তলব

তৃতীয় মাত্রা প্রবাসী সাংবাদিক কনক সারওয়ার, দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার ‘গোল্ডেন’ মনির ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর দেলোয়ারসহ ৩৫ জনের ব্যাংক...

Close

উপরে