Logo
রবিবার, ২৫ জুলাই, ২০২১ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

লকডাউনে ভালো নেই কিশোরগঞ্জে নৌকার কারিগররা

প্রকাশের সময়: ৭:৪৬ অপরাহ্ণ - মঙ্গলবার | জুলাই ৬, ২০২১

তৃতীয় মাত্রা

সাজাহান সাজু, কিশোরগঞ্জ থেকে : কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন নৌকার হাটে চলছে প্রতি বর্ষা মৌসুমের ন্যায় এবারও নতুন নৌকা বানানোর ধুম। গতবারের বর্ষার মতো এবার বিক্রির ধুম নেই। নৌকা বানানোর কারিগরিদের মধ্যে ব্যস্ততা লক্ষ্য করা গেলেও, চোখে-মুখে একধরনের শঙ্কা ও হতাশার করুণ দৃশ্য লক্ষ্য করা গেছে। নৌকা তৈরির জ্যৈষ্ঠ কারিগর কার্তিক জানান, আষাঢ় মাস পেড়িয়ে যাচ্ছে কিন্তু এখনও পানির দেখা নেই। পানি না হলে নৌকা নিয়ে মানুষ কী করবে।

তারপর লকডাউনে দূরদূরান্ত আশেপাশের জেলাগুলোর মানুষ এখন নৌকা কিনতে আসতে পারছে না। তাই এবার নৌকা বিক্রি নিয়ে বেশ চিন্তিত। নৌকা তৈরিতে ইতোমধ্যে কাঠ ও অন্যান্য সরঞ্জাম কিনে ৫ লাখ টাকার বেশি অর্থায়ন করেছি। যদি পানি না আসে আর এরকম লকডাউন চলে তবে আর বৌ বাচ্চা নিয়ে বাঁচার উপায় থাকবে না।

জানা যায়, কিশোরগঞ্জের পাশবর্তী জেলা নরসিংদী, বাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগসহ দূরদূরান্তের মানুষ প্রতিবছর এখানে আসে নৌকা ক্রয় করতে। আর সেই চাহিদা অনুযায়ী এখানে বৈশাখ মাসের পর থেকে বর্ষার এই সময়টাতে চলে নৌকা তৈরি ও বিক্রির ধুম। এখানে ছোট সাইজের একটি কোসাই নাও ২৫শ টাকা থেকে শুরু করে সাইজ অনুযায়ী ৫ হাজার টাকা হয়ে থাকে। একটি ডিঙি নাও সাইজ অনুযায়ী ৮ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এছাড়া অর্ডার অনুযায়ী যেকোনো বড় পণ্যবাহী নৌকাও তৈরি হয় এখানে। এখানকার নৌকা কারিগররা বছর শেষে এই সময়টির অপেক্ষায় থাকে। এই সময়ে তৈরি নৌকা বিক্রি করেই তাদের সারাবছরের সংসার চলে। তাই বৈশাখ মাসের পর থেকে এখানে নৌকা তৈরির ধুম চলে, বর্ষার এই সময়ে হয় বিক্রি। কিন্তু এবছর লকডাউন ও বর্ষার পানি না হাওয়ায় যেনো নৌকা কারিগরদের অর্থসঙ্কট আর শঙ্কায় প্রতিটি প্রহর কাটছে।

নৌকা ব্যবসায়ী হাসেন আলী জানান, বর্তমানে একটা নৌকা বানাতে আমাদের যে সময় ও অর্থ খরচ হয় এবং বর্তমান বাজারে নৌকা বানানোর উপকরণের যা দাম, তাতে ডিঙি নৌকা বানিয়ে টাকা আয় করার সুযোগ নাই। তার উপর সারাদেশে চলছে লকডাউন এবং আষাঢ় মাস পেড়িয়ে গেলেও এখনও পানির দেখা নাই। পানি হলে নৌকার চাহিদা ও দাম দুটোই পাওয়া যায়। কিন্তু এবছর লকডাউন ও পানি না আসার কারণে নৌকা সব পড়ে আছে, গ্রাহক নেই। গতবছর এই সময়ে দৈনিক ১০/১২ নৌকা বিক্রি করতাম কিন্তু এবছর একটা নৌকা বিক্রি করতেও হিমসিম খেতে হচ্ছে। তাও দাম পাচ্ছি না, কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

পাশবর্তী ফরিদপুর ইউনিয়ন থেকে কোষাই নৌকা কিনতে আসা হাসেন আলী জানান, গতবারের থেকে এবার ২শ টাকা কমে নৌকা কিনেছি। আমি প্রতিবছরই মাছ ধরার জন্য এখানে নৌকা কিনতে আসি। এখানে চাহিদা অনুযায়ী কম টাকায় নৌকা পাওয়া যায়।

এই বিষয়ে কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবাইয়াৎ ফেরদৌসী বলেন, নৌকা তৈরি ও বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সরকারি সহায়তা করা যায় কিনা এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। এছাড়াও বর্তমান লকডাউন পরিস্থিতিতে তাদের তালিকা অনুযায়ী মানবিক সহয়তা প্রদান করার চেষ্ঠা করবে উপজেলা প্রশাসন ।

Read previous post:
শিবচরে বিদেশি অস্ত্র ও গুলিসহ যুবক আটক

তৃতীয় মাত্রা জাহিদ হাসান, মাদারীপুর থেকে : মাদারীপুরের শিবচরে একটি বিদেশি অস্ত্র ও ৩ রাউন্ড গুলিসহ রিফাত মাহবুব (২৭) নামে...

Close

উপরে