Logo
বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০ | ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

কোয়ারেন্টিনকালীন বিশেষ ভাতা পাচ্ছেন চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীরা

প্রকাশের সময়: ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ - শনিবার | নভেম্বর ২১, ২০২০

তৃতীয় মাত্রা

করোনা চিকিৎসায় সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য চিকিৎসা প্রদান ও কোয়ারেন্টিনে থাকাকালীন খাবার ও আবাসনের সুবিধা দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। যদিও পরবর্তী সময়ে এ সুবিধা অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়নি। তবে এবার করোনা চিকিৎসায় যুক্ত চিকিৎসক, নার্স ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বিশেষ ভাতা প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিগগিরই নির্দিষ্ট হারে এ ভাতা দেয়ার কার্যক্রম শুরু হচ্ছে বলে অর্থ বিভাগ ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

দেশে গত ৮ মার্চ প্রথম কভিড-১৯-এ আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এর পর থেকে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় পৃথক হাসপাতাল নির্ধারণের পাশাপাশি করোনা রোগীদের চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক, নার্স ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকা-খাওয়ার জন্য আলাদা আবাসিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তবে এক পর্যায়ে এ ব্যবস্থা থেকে সরে আসে সরকার। এরপর থেকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পৃথক থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।

নির্ধারিত আবাসিক সুবিধা গ্রহণ না করলে দৈনিক বিশেষ ভাতা প্রদানের বিষয়টিতে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে গত ২৯ জুলাই পরিপত্র জারি করে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। কিন্তু এক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে অর্থ বিভাগের অনুমোদন না নেয়ায় স্বাস্থ্যকর্মীদের এ ভাতা প্রদান সম্ভব হচ্ছে না। তবে তাদের অনুকূলে অর্থ ছাড় করতে সম্প্রতি অর্থ বিভাগে ভূতাপেক্ষ অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে বলেন, করোনা রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত যেসব চিকিৎসক, নার্স ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য আলাদা থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি, তাদের সবাইকে নির্দিষ্ট হারে ভাতা প্রদান করা হবে। এক্ষেত্রে ঢাকা মহানগরে চিকিৎসকরা প্রতিদিন ভাতা হিসেবে পাবেন ২ হাজার টাকা, নার্সরা পাবেন ১ হাজার ২০০ টাকা ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীরা পাবেন ৮০০ টাকা করে। এছাড়া ঢাকার বাইরে দেশের অন্যান্য এলাকায় চিকিৎসকরা পাবেন ১ হাজার ৮০০ টাকা, নার্সরা পাবেন ১ হাজার টাকা ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ভাতা নির্দিষ্ট করা হয়েছে দৈনিক ৬৫০ টাকা।

তিনি বলেন, বিষয়টি অনুমোদনের জন্য আমরা অর্থ বিভাগে পাঠিয়েছি। যেহেতু এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নেয়া আছে, তাই আশা করছি শিগগিরই অর্থ বিভাগ এতে অনুমোদন দেবে। অর্থ বিভাগের অনুমোদন পেলে আমরা ভাতা প্রদান কার্যক্রম শুরু করব।

এদিকে গত ২৯ জুলাই এ-সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। এতে বলা হয়, কভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসার সঙ্গে সম্পৃক্ত চিকিৎসক, নার্স ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীরা সাধারণভাবে একাধারে ১৫ দিনের বেশি দায়িত্ব পালন করবেন না। প্রতি মাসে ১৫ দিন দায়িত্ব পালন শেষে পরবর্তী ১৫ দিন তারা কোয়ারেন্টিন বা সংগনিরোধ ছুটিতে থাকবেন।

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ১৫ দিন কর্মকালীন পৃথক অবস্থানের জন্য বিশেষ ভাতা অথবা খাবারসহ আবাসনের সুবিধা পাবেন। আবাসনের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আবাসিক স্থাপনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে আবাসিক সুবিধা গ্রহণে ইচ্ছুক স্বাস্থ্যকর্মীদের আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করবেন এবং সেজন্য প্রয়োজনীয় অর্থ আবাসিক স্থাপনাগুলোর কর্তৃপক্ষের বিল দাখিল সাপেক্ষে পরিশোধ করবেন।

চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী যারা কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত স্থাপনায় অবস্থান করবেন, তাদের যাতায়াতের জন্য আবশ্যিকভাবে (প্রাপ্যতা সাপেক্ষে) বিআরটিসির যানবাহন ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে যানবাহন পরিশোধের জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) কাছ থেকে প্রাপ্ত বিলের ভিত্তিতে বরাদ্দ দাবি করতে হবে। যেখানে বিআরটিসির যানবাহন নেই, সেখানে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে রিকুইজিশনকৃত যানবাহন ভাড়ার ভিত্তিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

পরিপত্রে আরো বলা হয়, একজন চিকিৎসক, নার্স বা অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী এক মাসে ১৫ দিনের বেশি এ ভাতা পাবেন না। ভাতাপ্রাপ্তরা এ ভাতা বিশেষ ভাতা ভ্রমণ ও দৈনিক ভাতা আহরণের পদ্ধতিতে উত্তোলন করবেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে দৈনিক ভাতার হিসাবে সরকারের কাছে বরাদ্দ দাবি করবে।

Read previous post:
বোরহানউদ্দিনে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, নিহত ২, আহত ১২

তৃতীয় মাত্রা হাসনাইন আহমেদ হাওলাদার, বোরহানউদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি : ভোলার বোরহানউদ্দিনে বেলুন ফোলানোর গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে দুই যুবক নিহত হয়েছেন।...

Close

উপরে