Logo
বুধবার, ১২ মে, ২০২১ | ২৯শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

করোনায় বিপর্যস্ত পর্যটন শিল্প

প্রকাশের সময়: ১:৪৭ অপরাহ্ণ - বৃহস্পতিবার | এপ্রিল ২২, ২০২১
তৃতীয় মাত্রা
পৃথিবীতে কোন দুর্যোগ শুরু হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় যে শিল্প তার নাম পর্যটন। পুরো পৃথিবী আজ হুমকির সম্মুখীন। পৃথিবীর ক্ষমতাধর দেশগুলো আজ অসহায়।প্রতিটি শিল্পের আজ করুন অবস্থা। বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস নামতে শুরু করেছে। ক্ষুদ্র একটি ভাইরাস। নাম কোভিড-১৯ বা নোভেল করোনা ভাইরাস। যেটি পুরো পৃথিবীকে তসনস করে দিয়েছে। দীর্ঘ ১৭ মাসে পুরো পৃথিবীর প্রচলিত জীবন জীবিকা ও রাস্ট্র ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজাতে বাধ্য করেছে।পর্যটন শিল্পে ক্ষতি হয়েছে অপূরনীয়। পর্যটন শিল্পের সাথে সরাসরি জড়িত এয়ারলাইনস , হোটেল,মোটেল,রিসোর্ট,রেস্তোরাঁ, থিম পার্ক, ট্রাভেল এজেন্সি, ট্যুর অপারেটর,ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি,MICE ট্যুরিজম, ট্যুরিজম ইনিস্টিউটের মত উপখাত গুলো হুমকির মুখে পড়েছে।ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল এন্ড ট্যুরিজম কাউন্সিল এর মতে এই অবস্থা স্থায়ী হলে ৫০ মিলিয়ন মানুষরের চাকরি হারানোর সম্ভাবনা আছে।বিশ্ব পর্যটন সংস্থার মতে পৃথিবীর ৯৬ শতাংশ পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ।গত বছরের শেষ নাগাদ পর্যটন খাতে ২.১ ট্রিলিয়ন ইউএস ডলার ক্ষতির বিবেচনা করছেন World Travel and Tourism Council । পৃথিবীর বেশিরভাগ রাষ্ট্র নিজেদের রক্ষার জন্য লকডাউন করতে বাধ্য হয়েছেন বিভিন্ন সময়ে। ফলে পুরো পৃথিবীর যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। প্রতিদিন যেখানে গড়ে প্রায় দশ লাখের বেশি ফ্লাইট পরিচালিত হতো তা এখন প্রায় স্থবির হয়ে পরেছে । IATA এর হিসাব অনুযায়ী গত বছর এয়ারলাইনস খাতে আর্থিক ক্ষতির পরিমান ৮৪ বিলিয়ন ইউএস ডলার।বেশিরভাগ ক্ষতি হয়েছে এশিয়া পেসিফিক অঞ্চলে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট কিছু কিছু দেশে অনির্দিষ্ট কালের জন্য বাতিল করা হয়েছিল। ২০২০ সালের শেষের দিক থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করা হলেও তা স্বাভাবিক ফ্লাইটের থেকে কম ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছিল । IATA এর তথ্য অনুযায়ী,করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ২০২১ সালে এয়ারলাইনস খাতে আর্থিক ক্ষতির পরিমান দাঁড়াবে ১০০ বিলিয়ন ইউএস ডলার। বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত ফ্লাইটগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে ধাপে ধাপে। ফ্লাইট বন্ধ থাকায় ইনবাউন্ড ও আউটবাউন্ড পর্যটন স্থবির হয়ে পড়েছে।২০২১ সালে করোনার নতুন ঢেউ থেকে বাচার জন্য দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। সব ধরনের ট্যুর প্যাকেজ বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে ট্রাভেল কোম্পানিগুলো। ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-টোয়াবের হিসাব অনুযায়ী ২০২০ সালে বাংলাদেশ পর্যটন খাতে ৫৭০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে । অন্য দিকে ট্রাভেল এজেন্সিদের সবচেয়ে বড় সংগঠন এসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্সস অব বাংলাদেশ- আটাবের হিসাব অনুযায়ী করোনার প্রভাবে জুন ২০২০ অব্দি ট্রাভেল এজেন্সি ও ট্যুরিজম খাতে সম্মিলিত ব্যবসায়িক ক্ষতি ১২০০০ কোটি টাকা এবং এই খাতে চাকরি হারানোর সম্ভাবনা আছে ৪ লাখ মানুষের। বাংলাদেশের আবাসন খাতও ঝুকিপূর্ণ। অনেক হোটেল ও রিসোর্ট পর্যটক শূন্য হয়ে পড়েছেন। ২০২০ সালে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মান এবং অন্য হোটেল সব মিলিয়ে তিন হাজার কোটি টাকা ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে বলে দাবি করছে হোটেল ও আবাসন খাত সংশ্লিষ্টরা ।TRIAB এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ রিসোর্ট ইন্ডাস্ট্রিতে তাদের বিনিয়োগ ৫০০০ কোটি টাকা এবং এখানে সরাসরি কাজে নিযুক্ত আছেন ৩.৫ লাখ মানুষ। করোনার প্রভাবে রিসোর্টগুলো ব্যাপক ক্ষতির মধ্যে আছেন এবং কর্মীরাও আছেন কাজ হারানোর ঝুকিতে।

বাংলাদেশে ২০২০ সালের জুলাই মাসের পর থেকে অভ্যন্তরীণ পর্যটনে সুবাতাস বইতে শুরু করলেও ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে ভাটা পরতে থাকে। নতুন করে দেশে লকডাউন শুরু হওয়ায় পর্যটনের প্রত্যেকটি খাতে আবার প্রভাব পরতে শুরু করে। করোনা এই পরিস্তিতিতে বাংলাদেশ পর্যটন কেমন হবে এই নিয়ে অনিশ্চয়তার শেষ নেই।কতদিন লাগবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে তার সঠিক পরিসংখ্যান দিতে পারছেননা কেউই। পর্যটন শিল্পের সাথে জড়িত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সব মিলিয়ে ৪০ লক্ষ কর্মীদের জীবন চলছে অনিশ্চিয়তার মাঝে। যখন বাংলাদেশ পর্যটন শিল্প আপন মহিমায় এগিয়ে চলছিলেন ঠিক এমন সময় করোনার থাবায় সেই শিল্প এখন মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ।এই সমস্যা থেকে কিভাবে উতরানো যায় সেদিকে সরকারী ও বেসরকারী পর্যটন সংস্থাগুলোকে নীতিমালা নির্ধারণ করে বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে সরকার।

তাছাড়া বাংলাদেশ পর্যটন যে আশার আলো দেখেছিল তা নিভে যেতে পারে যথাযথ সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থাপনার অভাবে। করোনার প্রভাবে পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে চোখে পড়ার মত।পর্যটনের বিভিন্ন উপখাত যেমন এয়ারলাইনস , হোটেল,মোটেল,রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, ট্রাভেল এজেন্সি,ট্রাভেল কোম্পানি, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফারম, ট্যুর অপারেটরগুলো ব্যবসায়িক ক্ষতির পরিমান বেড়েই চলেছে । পর্যটনের সাথে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলি কিভাবে নিজেদের টিকে রাখবেন সেটা নিয়ে ভাবা এখন সময়ের দাবি। আমরা জানি না এই মহামারী কবে শেষ হবে। এমনও হতে পারে এই করোনার বিষয়টি মাথায় রেখে নতুন করে পর্যটন খাতকে সাজিয়ে ভিন্নভাবে পরিচালনার বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করতে হবে। যদি করোনা পরিস্থিতি আরো দীর্ঘ সময় থাকে তাহলে এই খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো কিভাবে টিকে থাকবে সে পন্থাগুলো আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। এখাতের সাথে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিশেষ নীতিমালা তৈরী ও আপদকালীন সহায়তার ব্যবস্থা করতে না পারলে অনেক পর্যটন ব্যবসায়ী ও প্রফেশনালদের এই শিল্প বিমুখ হতে পারে। পর্যটন খাতে কর্মরত প্রফেশনালদের অনিশ্চিয়তায় পড়তে না হয় সেবিষয়েও ব্যবস্থা নিতে হবে।


মোঃ সাইফুল্লার রাব্বী
প্রভাষক, ট্যুরিজম এ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ,
ড্যাফোডিল ইনিস্টিউট অব আইটি.
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান – বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ট্যুরিজম ইনোভেশন.
Read previous post:
বাঞ্ছারামপুরে ফেইসবুকে উস্কানিমুলক পোস্ট দিয়ে ৪ যুবক গ্রেফতার

তৃতীয় মাত্রা বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারাপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উস্কানিমুলক পোস্ট দিয়ে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি অবনতির চেষ্টার অভিযোগে...

Close

উপরে