Logo
বুধবার, ১২ মে, ২০২১ | ২৯শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পেটে তো মানে না! কাজ না করলে খাবো কি?

প্রকাশের সময়: ১২:২৬ অপরাহ্ণ - শুক্রবার | এপ্রিল ১৬, ২০২১

তৃতীয় মাত্রা

মইনুল হক মৃধা, গোয়ালন্দ থেকে : সরকার তো লকডাউন ঘোষনা দিয়েই শেষ। ঘরে ঘরে চাল, ডাল, তেল, মাছ, লবন প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌছে দেক, আর ঘর থেকে বাহির হমু না। ঘরে থাকলে না খেয়ে মরমু, বাহিরে গেলে করোণার মরমু। এখন আমরা কি করমু। কাম কাজ না করলে বউ পোলাপান লইয়্যা খামু কি।

রাস্তায়ও লোকজন নাই আয় রোজগার তেমন নাই। কোনো বড় লোকে নেতারা তো এ বিপদে আগাইয়্যা আইলো না। একমাত্র আল্লাহ ই আমাদের ভরসা” এমনি করে আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন অটোরিক্সা চালক কাসেম সেক। কাজ নেই, আয়- রোজগার নেই। খরচ আছে। যারা দিন আনে, দিন খায় কাজ না করলে একদিনও চলে না, তারা এখন দিশেহারা।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় জনসমাগম বন্ধে প্রশাসনের কড়া পাহারা চলছে গোয়ালন্দ উপজেলা সর্বত্র। ফলে বেকার হয়ে পড়েছে স্বল্প আয়ের অসংখ্য শ্রমজীবী মানুষ। হাত গুটিয়ে বসে আছে তারা। এ পরিস্থিতিতে পেটে ভাত জোগাতে হিমশিম খাচ্ছে প্রতিনিয়ত। মহামারি করোনাভাইরাস আতঙ্কের কারণে গোয়ালন্দের নিম্ন আয়ের মানুষ বিপাকে পড়েছেন। রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশা চালানো ও দিনমজুরিসহ বিভিন্ন কাজকর্ম করে নিম্ন আয়ের মানুষকে সংসার চালাতে হয়। কিন্তু কয়েক দিন ধরে মানুষের চলাচল কমে যাওয়ায় তাদের আয়-রোজগার কম হচ্ছে।

খেটে খাওয়া মানুষরা সারাদিন রিকশা, ভ্যান ও অটোরিকশা চালিয়ে যা রোজগার করেন তা দিয়ে তাদের সংসার চালানোও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ নিম্ন আয়ের মানুষ বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে অটোরিকশা, ভ্যান ও রিকশা ক্রয় করেছেন। তারা প্রতিদিন রিকশা-ভ্যান চালিয়ে সংসার চালান ও সাপ্তাহিক ঋণের কিস্তির টাকা পরিশোধ করেন।

গোয়ালন্দ উপজেলার মকবুলের দোকান এলাকার রিকশাচালক চাঁন মিয়া জানান, গত বছর লকডাউনের সময় কত মানুষের কাছে ধার চাইলাম দিল না। অবশেষে পেটের দায়ে কিস্তি নিলাম। ধারদেনা ওঠে গেছে, কিস্তিই এখন ভরসা। প্রতিদিন রিকশা চালিয়ে সংসার চালাতেন ও সপ্তাহে ৬৫০ টাকা এনজিওর ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতেন তিনি। কিন্তু কয়েক দিন ধরে করোনাভাইরাসের কারণে লোকজন চলাচল কম করায় যে টাকা রোজগার হয় তা দিয়ে সংসার চালানোই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে কেউ টাকাও ধার দিচ্ছে না।

উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, এইতো কয়েকদিন আগে যে সময়টা তারা কর্ম ব্যস্ততার মধ্যে সময় পার করতে হতো, এখন সেই সময়টাতে তারা অলস সময় পার করছে। বিশেষ কাজ ছাড়া বাসা থেকে বের হতে বারন থাকলেও পেটের দায়ে তা মানার সুযোগ নেই।

ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের খালেক সেক তিনি বলেন, ভাই আগের মত রাস্তায় তেমন যাত্রী নাই। অনেকক্ষণ বসে আছি কোন যাত্রী পাই না। খুব অভাবে দিনযাপন করছি।

অটোচালক সোবহান বলেন, সারা দিনে ভাই ২২০ টাকা কামাইছি, মালিকরেই কি দিবো, আর আমিই বউ পোলাপান নিয়া কি খামু !

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, সরকার থেকে প্রশাসন কে লকডাউনের ব্যাপারে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় দুর্যোগে একটু কষ্টতো হবেই। সবাইকে ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। দ্বিতীয় ধাপে করোনা মোকাবেলায় সরকার থেকে বিশেষ কোন বরাদ্দ আসেনি। এ বিপদের দিনে ধনীদের সাধ্যমত গরীব অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে হবে।

Read previous post:
আত্রাইয়ের প্রতিটি মাঠে এখন সবুজের হাতছানি

তৃতীয় মাত্রা নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই থেকে : সুজলা সুফলা শষ্য শ্যামলা সবুজ প্রকৃতির আমাদের এ বাংলাদেশের উত্তর জনপদের শষ্য...

Close

উপরে