Logo
মঙ্গলবার, ০২ মার্চ, ২০২১ | ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বোনকে বাঁচাতে ৮ বছরের শিশুর মজ্জা দান!

প্রকাশের সময়: ১:০০ পূর্বাহ্ণ - মঙ্গলবার | অক্টোবর ১৮, ২০১৬

মৃত্যু ঘনিয়ে আসছে বড় বোনের। চুপ করে তাই বসে থাকতে পারল না ৮ বছরের শিশুটি। বোনকে বাঁচাতে নিজের বন ম্যারো বা অস্থিমজ্জা দান করতে রাজি হয়ে গেল সে। সঙ্গে বোনকে অভয় দিল, ‘চিন্তা করো না। আমি তোমাকে বাঁচাবোই।’

ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাজ্যের সান্ডারল্যান্ডে। ১৭ বছর বয়সী রোবিন মালিওসের শরীরে লিউকোমিয়া বাসা বেঁধেছে। অবস্থা বেশ গুরুতর। দ্রুত হাড়ের মজ্জা পরিবর্তন করতে না পারলে যে কোনো সময় মৃত্যু হতে পারে রোবিনের। চিকিৎসকরা তাই তার পরিবারের সব সদস্যদেরই অস্থিমজ্জা পরীক্ষা করে দেখেছেন। শেষ পর্যন্ত ৮ বছর বয়সী ছোট ভাই ম্যাথিউ-এর সঙ্গে শতভাগ মিলে গেছে রোবিনের হাড়ের মজ্জার গঠন।

এই সংবাদ একদিকে যেমন আনন্দের, অন্যদিকে আবার রোবিনের পরিবারের জন্য তা দুশ্চিন্তারও বিষয় ছিল। কারণ, অস্থিমজ্জা ম্যাচিংয়ের সমস্যা মিটলেও শিশু ম্যাথিউ বিষয়টিকে কিভাবে নেবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিল তার মা-বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা। কিন্তু তাদের দুশ্চিন্তা একে নিমিষেই দূর করে দিয়েছে স্বয়ং ম্যাথিউ।

মা মিশেলি (বামে), বাবা টনি (ডানে) এবং দুই বোন লুসি (বাম থেকে দ্বিতীয়) ও অ্যাবের সঙ্গে রোবিন ও ম্যাথিউ।

তার হাড়ের মজ্জা বোনের সঙ্গে মজ্জার সঙ্গে মিলে গেছে এবং সে মজ্জা দিলে বোন বেঁচে যাবে, এ কথা জানার পর আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়ে শিশু ম্যাথিউ।সঙ্গে সঙ্গে রোবিনের কাছে দৌড়ে যায় সে এবং বোনকে অভয় দেয়।

এই বিষয়ে রোবিন সাংবাদিকদের বলেছে, ‘তার ও আমার হাড়ের মজ্জায় শতভাগ মিলে যাওয়ার পর সে (ম্যাথিউ) আমার কাছে দৌড়ে আসে এবং আমাকে অভয় দিয়ে বলে-ভয় পেয়ো না, আমি তোমাকে বাঁচাবো।’

সন্তানের এই উদারতা দেখে ম্যাথিউর মা মিশেলিও দারুণ আনন্দিত ও গর্বিত। তিনি বলেছেন, ‘এমন সন্তানের মা হতে পারার আনন্দ ও গর্ব ঠিক ভাষায় বুঝাতে পারব না। রোবিনের সঙ্গে তার হাড়ের মজ্জায় শতভাগ ম্যাচিংয়ের সংবাদে আমরা যেমন আনন্দিত হয়েছিলাম, তেমনি আবার দুশ্চিন্তাতেও পড়েছিলাম। ম্যাথিউ বিষয়টিকে কিভাবে নেবে তা ঠিক বুঝতে পারছিলাম না আমরা। তবে সে শিশু হলেও বোনকে বাঁচাতে বেশ সাহসিকতা ও উদারতা দেখিয়েছে। রোবিনকে বাঁচাতে সামনে অনেক লম্বা পথ পাড়ি দিতে হবে আমাদের। তবে পুরো পরিবার একজোট হয়ে মেয়ের এই অসুখের বিরুদ্ধে লড়াই করছি, আপাতত এটাই আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রেরণা ও মানসিক শান্তির উৎস।’

সন্তানদের একের প্রতি অন্যের গভীর ভালোবাসা দেখে রোবিন ও ম্যাথিউর মা মিশেলি একসঙ্গে আনন্দিত ও গর্বিত।

মিশেলি জানিয়েছেন, রোবিনের এই অসুখ আগে থেকে টের পাওয়া যায়নি। হঠাৎ করেই সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার শরীরে লিউকেমিয়া ধরা পড়ে।

দুই সপ্তাহ পরে নিউক্যাসলে রোবিনের শরীরে ক্যামোথেরাপি দেওয়া শুরু হবে। এর কিছুদিন পর সেখানেই হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে ম্যাথিউকে। সেই হাসপাতালেই ম্যাথিউ ও রোবিনের শরীরে বন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করা হবে।

ভবিষ্যতে কতটা সুস্থতা পাবে এই দুশ্চিন্তা রোবিনের মনে ক্ষণে ক্ষণেই উঁকি দিয়ে যাচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে যাই ঘটুক না কেন, তার এমন অসুখের সময় ছোট ভাই ম্যাথিউ থেকে শুরু করে পরিবারের সব সদস্যই যে ভালোবাসা ও মমতা দেখাচ্ছে তা আবেগাপ্লুত করে রেখেছে তাকে। চারদিকে মৃত্যুর ছায়া ঘিরে থাকলেও রোবিন তাই নিজেকে এই পৃথিবীতে সুখীই ভাবছে।

Read previous post:
৬ ইঞ্চির ফোনে দুই রিয়ার ক্যামেরা

চীনের হ্যান্ডসেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জেডটিই নতুন একটি ফোন শিগগিরই বাজারে আনছে। ফোনটির মডেল জেডটিই অ্যাক্সন ৭ ম্যাক্স। গত বছর জেডটিই...

Close

উপরে