• Thursday, 09 February 2023
চিরহরিৎ এই অরণ্যের নাম লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান

চিরহরিৎ এই অরণ্যের নাম লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান

রাজু দত্ত, কমলগঞ্জ প্রতিনিধি ।।
চারদিকে শুধু গাছ আর গাছ। চিরহরিৎ এই অরণ্যের নাম লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের অবস্থান। ১৯২৫ সালের দিকে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার এক হাজার দুইশ ৫০ হেক্টর জমিতে বনায়ন করে। ১৯৯৬ সালে বনটিকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা দেয় সরকার। দেশের ৭টি বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য ও ১০টি জাতীয় উদ্যানের মধ্যে জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে লাউয়াছড়া অন্যতম।

আয়তনে ছোট হলেও এ বন দূর্লভ উদ্ভিদ এবং প্রাণীর এক জীবন্ত সংগ্রহশালা। ৪৬০ প্রজাতির উদ্ভিদ ও দূর্লভ প্রাণী রয়েছে এ বনে। এর মধ্যে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪ প্রজাতির উভচর, ৬ প্রজাতির সরীসৃপ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি এবং ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী দেখা যায়। বিলুপ্তপ্রায় উল্লুকের জন্য এ বন বিখ্যাত। এ ছাড়া এখানে রয়েছে মুখপোড়া হনুমান, বানর, শিয়াল, মেছোবাঘ, বন্য কুকুর, এশীয় অঞ্চলের কালো ভালুক ও মায়া হরিণসহ নানা প্রজাতির জীবজন্তু। রয়েছে সবুজ ঘুঘু, বন মোরগ, ইগল, হরিয়াল ও কালো মাথা টিয়াসহ নানা বর্ণের নানা রঙের পাখির বসবাস। এ বনে অজগরসহ রয়েছে নানা প্রজাতির সরীসৃপ। রয়েছে হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপও।


লাউয়াছড়া বনাঞ্চলে রয়েছে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ। এর মধ্যে আগড়, গর্জন, সেগুন, গামার, জামরুল, চাপালিশ, নাগেশ্বর ও শিমুল অন্যতম। উদ্যানের পাশ ঘেঁষেই রয়েছে দৃষ্টিনন্দন খাসিয়া সম্প্রদায়ের মাগুরছড়া পানপুঞ্জি। তাছাড়া লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতর থেকে ঘুরে এসে ক্লান্তি দূর করার জন্য রয়েছে প্রধান ফটকের পাশে বিভিন্ন ধরনের ফলের দোকান। এছাড়াও রয়েছে সিলেটে ঐতিহ্যবাহী চায়ের দোকান। ঘুরে এসে সময় পার আর আড্ডায় মেতে উঠেন পর্যটকরা।


সিলেট থেকে আসা পর্যটক কলেজ ছাত্র পলাশ জানান, ‘আমরা কলেজ থেকে একটা গ্রুপ এসেছি, সেখানে রয়েছে ৬৫ জনের একটা টিম। সঙ্গে রয়েছেন শিক্ষকরা। আমরা এখানে আসতে পেরে খুবই আনন্দিত। সবার কাছে খুবই ভালো লেগেছে।’ ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মামুন আহমেদ জানান, আমরা অনেক আগে এ বন দেখার জন্য এসেছিলাম। শীত আসছে তাই পরিবার ও বাচ্চাদের নিয়ে এখন আবার আসলাম। এখানে আসলে অনেক কিছু দেখা ও জানা যায়। তবে এ শীতে সবচেয়ে ভালো লেগেছে।’ ঢাকা বাড্ডা থেকে আসা পলাশ জানান, এখানে আসলে মন ভালো হয়ে যায়। খুব আনন্দ করেছি। পরে আবার আসবো।


লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ট্যুর গাইড মো. আহাদ মিয়া বলেন, ‘প্রতিদিন এই উদ্যানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা আসেন। তাদের নিয়ে ভেতরটা ঘুরে বেড়ায়। এখানে পায়ে হাটার তিনটা রাস্তা আছে। যারা বন্যপ্রাণী দেখতে চান তারা এসব রাস্তা দিয়ে গেলে দেখতে পাবেন।’ ট্যুরিষ্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোনের এসআই বিষ্ণুপদ রায় জানান, ‘উদ্যানে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য পোশাক পড়া ও সিভিলে ডিউটি করছে পুলিশ। পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য সবসময় তারা প্রস্তুত। উদ্যানের ভিতরে ও বাহিরে দুইটি টিম কাজ করছে।

একটা টিম গোপনে তথ্য সংগ্রহ করে আর একটা টিম বাহিরের পুরো দিকটা দেখাশোনা করে।’ বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) শ্যামল কুমার মিত্র জানান, ‘জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে লাউয়াছড়া অন্যতম। এই বনে বিভিন্ন ধরনের প্রাণী আছে, যা দেশের অন্য কোথাও নেই। এখানে দেখার মতো অনেক কিছু আছে। তবে সকাল ও বিকেলের দিকে আসলে বন্যপ্রাণীরা কিভাবে অবাধে চলাফেরা করছে তা চোখে পড়ে। এখানে পর্যটকদের ঘোরাফেরার জন্য রয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা।’

comment / reply_from