• Thursday, 09 February 2023
চকরিয়ায়  গুপ্তধনের লোভে শিশু বলি !  ছোট বোন খালা গ্রেফতার

চকরিয়ায় গুপ্তধনের লোভে শিশু বলি ! ছোট বোন খালা গ্রেফতার

শাহ আলম, চকরিয়া  : কক্সবাজার জেলার চকরিয়ায় গুপ্তধনের লোভে তিনমাস বয়সের শিশু পুত্রকে বলিদানের অভিযোগে শিশুর খালা গ্রাম্য বৈদ্য/ওঝাকে গ্রেফতার করেছে। শিশুর বাবা, মা, ফুফু ও খালাকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে হত্যা রহস্য। গতকাল বুধবার ৯ নভেম্বর ভোর রাতে এ ঘটনা ঘটে।

জানাযায়, চকরিয়ার সুরাজপুর- মানিকপুর ও কাকারা ইউনিয়নের সংযোগ সড়ক সংলগ্ন মাঝের ফাঁড়ী বাজার মসজিদে ফজরের নামাজ শেষে বাড়ীমুখী একদল নামাজির দৃষ্টি পড়ে মাতামুহুরী নদীর পানিতে ফুটফুটে একটি শিশুর মরদেহ ভাসছে। এই অবস্থায় স্থানীয় এক ব্যক্তির সহায়তায় মরদেহটি উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসা হয়। সাথে সাথে বিষয়টি চাওর হলে চকরিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শিশুর পিতা, মা, ফুফু ও খালাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। স্থানীয়দের ধারণা ছিল, শিশুটিকে রহস্যজনক কারণে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর লাশটি মাতামুহুরী নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয় রাতের আঁধারে। যাতে নদীতে ভাসতে ভাসতে শিশুটি ভাটির দিকে চলে যায়।


কিন্তু শিশুটির লাশ উদ্ধারের পর স্থানীয়রা খবর দেয় পুলিশে। এর পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে শিশুটির লাশ হেফাজতে নেয়। এর পর ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। মাত্র দুই মাস ১৬ দিন বয়সী ফুটফুটে এই শিশুটি নদীতে কীভাবে এলো? শিশুটিকে কী পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে? কী উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড বা কারা জড়িত রয়েছে? এমন সব প্রশ্ন এখন মানুষের মুখে মুখে। ঘটনার শিকার শিশুটির নাম মোহাম্মদ আনাস (বয়স ২ মাস ১৬ দিন)। সে সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম সুরাজপুর গ্রামের ফার্নিচার মিস্ত্রি হোসাইন আলীর পুত্র। পুলিশ জানায়, এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিশুটির বাবা হোসাইন আলী (২৮), মা শাকিলা বেগম (২৫), ফুফু খাদিজা বেগম (৩৫) ও খালা আঁখি রহমানকে (১৪) আটক করে থানায় নেয়া হয়। সেখানে শিশু হত্যার ঘটনার বিষয়ে
তাদের প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, শিশু আনাসের মা শাকিলা বেগমের আপন ছোট বোন ১৪ বছর বয়সের আঁখি রহমান কয়েক বছর ধরে বৈদ্যালীর কাজ করছে। সে তাবিজ-কবচ দেওয়া ছাড়াও ঝাঁড়-ফুঁকও করে আসছে।


সেই আঁখি খালাই গুপ্তধন পাওয়ার লোভে স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে শিশুটিকে বলী (হত্যা) দিয়েছে। যা শিশুর বাবা, মা, ফুফুও জানেন। এর পর সেই শিশুর মরদেহ মাতামুহুরী নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম শোক প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ষ্ট্যাটাস দিয়ে ‘আড়াই মাসের শিশুটিকে গুপ্তধনের লোভে হত্যা করার কথা জানিয়ে নিন্দা
জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্তী জানান, শিশু আনাসের মামার বাড়ি বিএমচর ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের ছৈনাম্মারঘোনা এলাকায়। সম্প্রতি শিশু আনাসের দাদী অসুস্থ হলে তাকে বাড়িতে দেখতে আসেন স্বজনেরা। তখন শিশুর খালা বৈদ্য আঁখি রহমান, ফুফু খাদিজা বেগমও বাড়িতে আসেন। ফুফুর বাড়ি সুরাজপুর- মানিকপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিপুর গ্রামে। গত মঙ্গলবার রাতেও তারা একই বাড়িতে ছিলেন।


প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের হত্যার রহস্য এভাবেই উদঘাটন করেন তিনি। তিনি আরো জানান, এই শিশু হত্যার ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর । গুপ্তধন বা কুসংস্কারের ওপর ভর করে খালা আঁখিই শিশুটিকে হত্যা করেছে। এ ব্যাপারে নিহত শিশুর পিতা সুরাজপুর গ্রামের ফার্নিচার মিস্ত্রি হোসাইন আলীর পুত্র বাদী হয়ে শিশুর খালা (শিশু আনাসের মা শাকিলা বেগমের আপন ছোট বোন) ১৪ বছর বয়সের বৈদ্য আঁখি রহমানকে একমাত্র আসামী করে চকরিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছে বলে জানিয়েছেন। তাই এই বিষয়ে পরবর্তীতে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন চকরিয়া থানার ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্তী।

comment / reply_from