• Friday, 27 January 2023
ঘন কুয়াশায় আরিচা-কাজিরহাট ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় ফেরি চলাচল ব্যাহত

ঘন কুয়াশায় আরিচা-কাজিরহাট ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় ফেরি চলাচল ব্যাহত

স্টাফ রিপোর্টার: ৩০ ডিসেম্বর আরিচা-কাজিরহাট ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে নাব্যতা সংকট, সরু নৌ-চ্যানেলে মার্কিংসহ এমনিতেই নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে।
এছাড়া, ঘন কুয়াশার কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকছে। ফলে, যাত্রী ও যানবাহন শ্রমিকদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। গত কয়েকদিন যাবৎ মধ্যরাত থেকে পরের দিন সকাল পর্যন্ত পদ্মা ও যমুনায় অব্যহতভাবে ঘনকুয়াশা পড়ায় ফেরি চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রায়
প্রতিদিনই ৭/৮ঘন্টা করে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকছে।

বিআইডব্লিউটিসি’র আরিচা কার্যালয় সূত্রে জানা যায, গত বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার পরে থেকেই নদীতে হালকা কুয়াশা পড়তে থাকে। মধ্যরাতে কুয়াশার তীব্রতা বেড়ে যায়। দুর্ঘটনা এড়াতে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার পরে থেকে আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেন।

কাজিরহাট থেকে ছেড়ে আসা ফেরি ক্যামিলিয়া, বেগম রোকেয়া ও কুঞ্জুলতা আরিচা ঘাটের অদুরে এসে দিক হারিয়ে ফেলে। এ সময় ফেরি তিনটি ঘাটে ভীড়তে না পেরে যাত্রী ও যানবাহন নিয়ে যমুনা নদীতে নোঙর করে থাকে। এছাড়া, আরিচায় একটি ও কাজিরহাটে একটি ফেরি নোঙর করে রাখা হয়। পরের দিন শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় ঘনকুয়াশা কেটে গেলে পুনরায় ফেরি চলাচল শুরু হয়।

এদিকে, ঘনকুয়াশার কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ৬ ঘন্টা

পরে ফেরি চলাচল শুরু হয়।এ সময় রো-রো ফেরি শাহ পরান, বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর, ভাষা শহীদ বরকত, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ও এনায়েতপুরী এবং ছোট ফেরি রজনি গন্ধা এবং হাছনাহেনা যাত্রী ও যানবাহন বোঝাই করে মাঝ নদীতে নোঙর করে থাকতে বাধ্য হয়। এছাড়া, পাটুরিয়া ঘাটে ৩টি ও দৌলতদিয়া ঘাটে ৩টি ফেরি নোঙর করে থাকে। তীব্র শীতের মধ্যে আটকে পড়া এসব ফেরির যাত্রী এবং যানবাহন শ্রমিকদেরকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ঘনকুয়াশায় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় পাটুরিয়া -দৌলতদিয়া ও আরিচা- কাজিরহাট ঘাটে পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসগুলোকে ফেরি পারাপার
হতে এসে ঘাটে বসেই ঘন্টার পরে ঘন্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কুয়াশা কেটে যাওয়ার পরে যাত্রীবাহী যানবাহনগুলোকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে
পারাপার করা হচ্ছে। ফেরি বন্ধ থাকায় আগের দিন রাতে আসা নৈশকোচগুলোসহ সকল যাত্রীবাহী যানবাহনগুলোকে ঘাটে এসে ৭/৮ঘন্টা পর পরের দিন সকালে নদী পারাপার হতে হচ্ছে। দীর্ঘ এ সময় যাত্রীদেরকে বাসে ও ফেরির মধ্যেই বসে এবং রাস্তায় ঘোরা-ঘুরি করে সময় কাটাতে হচ্ছে। এসব যাাাত্রীদেরকে খাবার সংকট ও প্রকৃতির ডাকে সারা দেওয়াসহ নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে, কুয়াশা ও
ঠান্ডার মধ্যে বেশী অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে নারী ও শিশু যাত্রীদেরকে।

এদিকে, ফেরি বন্ধ থাকায় পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে আরিচা টার্মিনালে না রেখে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উপর আটকিয়ে রাখা হয়। ফলে স্থানীয়
যানবাহন চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসি’র আরিচা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ডিজিএম শাহ মুহাম্মদ খালেদ নেওয়াজ জানান, ঘণকুয়াশা একটি প্রাকৃতিক সমস্যা। ঘন কুয়াশার কারণে নৌপথ চোঁখে দেখা যাচ্ছিল না।

এমতাবস্থায় ফেরি চালালে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এমন আশংকায় ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮ টায় ঘনকুয়াশা কেটে
গেলে পুণরায় ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয় বলেও তিনি জানান।

 

comment / reply_from