• Friday, 27 January 2023
গোয়ালন্দে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত

গোয়ালন্দে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত

মোঃ আউয়াল হোসেন পাটোয়ারী, রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) থেকেঃ আর দুদিন পর মহান বিজয় দিবস। সেই অপেক্ষায় পুরো দেশবাসী। সারা দেশজুড়ে উড়বে জাতীয় পতাকা। বিজয়ের মাস এলেই লাল-সবুজ ফেরিওয়ালাদের পতাকা বিক্রির ধুম পড়ে। এই সময় ফেরিওয়ালাদের হাতে থাকে বিজয়ের নিশান বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা। ১৯৭১ সালে ৯ মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছিল আমাদের লাল-সবুজের পতাকা। প্রতিবছর বিজয় দিবস বাঙালির জাতীয় জীবনে একটি বিশেষ দিন।

এ দিনটিকে ঘিরে ঐক্যের প্রতীক জাতীয় পতাকা হয়ে ওঠে আবেগের বহিঃপ্রকাশের অনুষঙ্গ। বছর ঘুরে ডিসেম্বর এলে বাঙালির প্রাণে জেগে ওঠে দেশাত্মবোধ। কিশোর-কিশোরীদের পোশাকেও দেখা যায় লাল-সবুজের ছোঁয়া। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি, তবে বাবার মুখে শুনেছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণে কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, জনতা ও বুদ্ধিজীবীরা সশস্ত্র সংগ্রাম করে এই দেশ স্বাধীন করেছেন। বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, এটি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।

এ পতাকায় জড়িয়ে আছে ১৬ কোটি মানুষের আবেগ। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। পতাকা হাতে ফেরিওয়ালাদের পথচলা এক
মুগ্ধকর দৃশ্য। বিজয়ের মাসে ফেরিওয়ালারা রাস্তায় ঘুরে ঘুরে পতাকা বিক্রি করছে। তাঁদের দেখে পতাকা কিনতে
ক্রেতারাও ভিড় করছেন। যার যার চাহিদা অনুযায়ী নিচ্ছেন পতাকা। এ ডিসেম্বরই যে বাঙালির মুক্তি ও বিজয়ের
মাস। তাই ডিসেম্বর এলেই লাল-সবুজ পতাকা হাতে দেখা মেলে অসংখ্য শিশু-কিশোর, যুবক-বয়স্কদের। যারা রক্তিম

সূর্য কাঁধে বেরিয়ে পড়েন পথে পথে। লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের গাড়িতে, বাড়ির ছাদে, বারান্দায়, রিকশায় এমনকি দুই চাকার মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেলের সামনে দুলছে লাল-সবুজ পতাকা। এই লাল সবুজ দোলার মাঝে আছে এক অন্য সৌন্দর্য, আছে অহংকারের গল্প। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসকে সামনে রেখে সেই সৌন্দর্য প্রদর্শন করছেন আরমান। বয়স ২৫ বছর। পেশায় ফেরিওয়ালা হলেও বিজয়ের মাসে তার পরিচয় ভিন্ন, বিজয়ের মাসে তিনি লাল-সবুজ পতাকার ফেরিওয়ালা। সারা বছর তিনি নানা রকম পণ্য ফেরি করে বিক্রি করলেও ফেব্রুয়ারী, মার্চ ও ডিসেম্বর মাসেতিনি ফেরি করে পতাকা বিক্রি করে স্বপ্ন বুনছেন। 

ডিসেম্বর এলেই পতাকা নিয়ে বের হন আরমান। তিনি জানান, ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও ডিসেম্বর মাস এলেই পতাকা হাতে বেরিয়ে পড়েন নগরীর পথে-প্রান্তরে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত ঘুরে পতাকা বিক্রি করেন। তার কাছে ১০, ২০, ৩০, ৫০, ১০০, ২০০, ৩০০, ৪০০ ও ৫০০ টাকা দামের পতাকা রয়েছে। তবে ছোট পতাকাই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। প্রতিদিন প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ পতাকা বিক্রি হয়। প্রতিদিন যা বিক্রি হয়, তা থেকে খরচ বাদে ৫০০ টাকা পর্যন্ত লাভ হয়। আরমানের মতো কবিরও পতাকা বিক্রি করেন।

 

কবির বলেন, ডিসেম্বর মাসে আমরা পাকিস্তানিদের হারিয়ে স্বাধীন হয়েছি। এ মাসেই আমরা বিজয়ী হয়েছি। এজন্য এ মাস এলে মানুষের মনে অন্যরকম এক আবেগ কাজ করে। তাই ডিসেম্বর শুরু হলেই পতাকা বিক্রি করতে আসি। সব ধরনের মানুষই পতাকা কিনেন, আয়ও খারাপ নয়। তবে ডিসেম্বর শেষ হতেই আবার গ্রামে ফিরে যাই। উপজেলার চান্দা গ্রামের মো. রফিকুল ইসলাম (২৭) এসেছেন পতাকা বিক্রি করতে। তিনি বলেন, ‘আমার পরিবার দরিদ্র হওয়াতে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছি। পরে সংসারের হাল ধরতে হয়। সারা বছর রঙের কাজ করি। বিজয় মাস এলেই রঙের কাজ বাদ দিয়ে জাতীয় পতাকা বিক্রি করতে বিভিন্ন এলাকায় ছুটে যাই। বীর মুক্তিযোদ্ধা সালে আহম্মেদ বলেন, ‘দেশের জন্য নিজের জীবন বাঁজি রেখে এ দেশকে স্বাধীন করেছি। লাল- সবুজের পতাকাই আমাদের মনে করে দেয় বিজয়ের কথা। লাল-সবুজের পতাকা মানুষের মধ্যে বিজয়ের চেতনা জাগিয়ে
তুলে

comment / reply_from