• Friday, 27 January 2023
গোলাপগঞ্জে ৬০ নারীর ভাগ্য বদলেছে ভার্মি কম্পোস্ট সারে

গোলাপগঞ্জে ৬০ নারীর ভাগ্য বদলেছে ভার্মি কম্পোস্ট সারে

রুহুল ইসলাম মিঠু, সিলেট জেলা প্রতিনিধি :
সিলেটের গোলাপগঞ্জে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন করছেন ৬০ নারী। উপজেলার মহিলা কৃষকরা বাণিজ্যিক ভাবে গড়ে তুলেছেন কেঁচো ভার্মি কম্পোস্ট জৈব সার উৎপাদনের খামার। এসব নারী উদ্যোক্তা সারের খামার গড়ে তোলায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এসব খামারগুলা থেকে প্রতি মাসে ৫০ মেট্রিক টন সার উৎপাদন হয়ে থাকে। উপজেলার গোলাপ ভার্মি কম্পোস্ট’ নাম দিয়ে সেই সার তারা সাধারণ কৃষকরে মধ্যে বিক্রি করছেন। উন্নত মানের জৈব সার ভার্মি কম্পোস্ট ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রকৃতির জন্য খুবই উপকারী বলে জানান কৃষকরা। এতে করে ফসল উৎপাদনে সারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি উদ্যোক্তারা বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করে অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন।


জানা যায়, উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় প্রশিক্ষণ নিয়ে উপজেলার খামারী কৃষাণ - কৃষাণীরা ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরির খামার গড়ে তুলেছেন। উপজেলার প্রায় ১০০ জন কৃষান- কৃষাণী ভার্মি কম্পোস্ট সারের খামার তৈরি করেছেন। এর মধ্যে ৬০ জনই কৃষাণী। উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় ‘গোলাপগঞ্জে ভার্মি কম্পোস্ট’ উৎপাদন করে সাধারণ কৃষকদের মধ্যে বিক্রি করছেন। প্রতি কেজি সার তারা ২০ টাকা করে
বিক্রি করছেন বলে জানান উদ্যোক্তারা। কৃষকরা জানান, কচুরিপানা, কলাগাছ, গোবর ও কেচো দিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করে দেড় মাস রেখে দেয়া হয় বক্সে।পরে বক্স এর মধ্যে রেখে দেওয়া কম্পোস্টের মধ্যে কয়েকদিন পর পর কলাগাছ, কচুরিপানা গোবর ও কেচো মিশ্রিত করে কিছু কম্পোস্ট বক্সে রাখতে হবে। এরকম এক মাস পরে পাত্র থেকে কম্পোস্ট তুলে মেশিন দিয়ে সার প্রক্রিয়াজাত করা হয়। পরে প্যাকেট জাত
করে সার বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করা হয়।


সংশ্লিষ্টরা জানান, ভার্মি কম্পোস্ট সার মাটির জন্য খুবই উপযোগী। এই সার রাসায়ানিক সারের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায় । রাসায়নিক সারের ব্যাপক ব্যবহারে মাটির গুনাগুন হ্রাস পেয়ে যায়। তবে ভার্মি কম্পোস্ট সার ব্যবহারে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। জানা গেছে, ফসল উৎপাদনের জন্য রাসায়নিক সার ব্যবহারের তুলনায় ভার্মি কম্পোষ্ট সার ফসল উৎপাদনে অনেক উপযোগী। এছাড়া রাসায়নিক সার ব্যবহারে অতিরিক্ত ব্যয় করতে হয় কৃষকদের। হাতের নাগালে ভালো মানের সার পাওয়ায় এখন কৃষকরা তা কিনে নিজ জমিতে প্রয়োগ করছেন। ফলে ফসলের উৎপাদনও বৃদ্ধি পেয়েছে।


একইভাবে কেঁচো কম্পোস্ট সারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন উপজেলার ১০০ জন খামারি। এরকম একজন সফল খামারী উপজেলার লক্ষীপাশা ইউনিয়নের খামারী শাহজাহান আহমদ টিপু জানান, এক বছর আগে কৃষি অফিস থেকে সার উৎপাদনের প্রশিক্ষণ নিয়ে ভার্মি কম্পোষ্ট’ সারের উৎপাদন করা শুরু করি। বর্তমানে আমি ৭টন সার উৎপাদন করি। এ সারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এই জৈব সার তৈরি ও প্যাকেট জাত করতে সময় লাগে এক মাস । কৃষকরা সার ব্যবহার করে ফলনও ভালো পাচ্ছেন। বেশিরভাগ কৃষক এখন অন্য সারের পরিবর্তে ব্যবহার করছেন এই সার।’ এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করে অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হচ্ছি।

কৃষি অফিস আমাকে একটি মেশিন ও অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছে। ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন করছেন ফুলবাড়ি ইউনিয়নের খামারী নুরজাহান বেগম বলেন, কৃষি অফিসের প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতায় আমি জৈব সার উৎপাদন শুরু করি এবং প্রতি মাসে উৎপাদন করি এক টন। সার উৎপাদন করায় আমি আমার ফসল উৎপাদনে নিজের জমিতে সার প্রয়োগের পাশাপাশি বিক্রি করেও আর্থিক ভাবো লাভমান হচ্ছি। লক্ষিপাশা ইউনিয়নের কৃষক জুবের আহমদ বলেন, আগে আমরা রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতাম ফসল উৎপাদনে। কিন্তু আমাদের স্থানীয় একজন খামারী জৈব সার উৎপাদন করায় আমরা এই সার ফসল উৎপাদনে ব্যবহার করছি। সেখানে জৈব সার ব্যবহার করা জমির ফসল অনেক ভালো এবং খরচও অর্ধেক কম হয়েছে।


উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান বলেন, কেঁচো, গোবর, কচুরিপানা, কলাগাছ, খড়কুটা দিয়ে মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই তৈরী হচ্ছে কেঁচো বা জৈব সার। এসার যেমন ফসল উৎপাদনে উপযোগী তেমনি এসার উৎপাদনে ব্যয় কম হয় । এছাড়া গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ১০০ জন এর মতো খামারি খামার গড়ে তুলছেন। এদের মধ্যে ৬০ জনই নারী। এই খামার গুলো থেকে প্রতি মাসে ৫০টন সার উৎপাদন হয়। মহিলাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এই কার্যক্রম ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, অতিরিক্ত রাসায়নিক সার প্রয়োগের ফলে জমিতে জৈব পদার্থ কমে
যাচ্ছে । প্রতিনিয়ত যদি জমিতে এই জৈব সার ব্যবহার করা যায় এতে জমির উর্বরতা বাড়বে।

comment / reply_from