• Tuesday, 31 January 2023
গৃহকর্মীকে নির্যাতনের মামলায় কারাগারে গৃহকর্ত্রী

গৃহকর্মীকে নির্যাতনের মামলায় কারাগারে গৃহকর্ত্রী

কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ
 
কুমিল্লায় (১২) বছর বয়সী এক শিশু গৃহকর্মীকে জালিবেত দিয়ে মারধর ও গরম পানি ঢেলে শরীর ঝলসে দেওয়ায় গৃহকর্তী তাহমিনা তুহিনকে আটক করে কারাগারে প্রেরণ করেছে পুলিশ। বুধবার (৪ জানুয়ারীরাত ৮টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আহমেদ সনজুর মোর্শেদ।
 
বুধবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে  ভুক্তভোগী গৃহকর্মীর মামা ইব্রাহীম খলিলের দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় তাহমিনা তুহিনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে নেয়া হলে তাকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। ওসি আহমেদ সনজুর মোর্শেদ জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর মঙ্গলবার (০৩ জানুয়ারি) রাতে অভিযুক্ত তাহমিনাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। বুধবার মামলার পর তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে বিকেলে কারগারে প্রেরণ করেন।
 
গৃহপরিচারিকার মামা ইব্রাহিম খলিল জানান, মেয়েটির মা-বাবা অনেক আগেই আলাদা হয়ে বিয়ে করে সংসার করছে। তারা তিন বোন ও এক ভাই। সুমাইয়া আমাদের কাছেই ছিল। অধ্যক্ষ সাহেবের মেয়ের জামাতা প্রকৌশলী আব্দুল আউয়ালের মাধ্যমে মেয়েটিকে এখানে কাজ করার জন্য দেওয়া হয়।
 
উল্লখ্য, সুমাইয়া সাবেক অধ্যক্ষ আবু তাহেরের কুমিল্লার বাসা এবং তারা মেয়ে ফাহমিদা তিমুরের ঢাকার বাসায় মোট চার বছর ধরে কাজ করছে সে। কাজে দেরি হলে আবু তাহেরের স্ত্রী ও মেয়ে জালি বেত দিয়ে মারধর করতো। শরীরে ঢালতো গরম পানি। মঙ্গলবারও একই ভাবে গরম পানি ঢেলে তার পা ঝলসে দেয়। প্রাণ বাঁচাতে ভয়ে সে দোতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে পাশে অবস্থিত মেয়েদের হোস্টেলে।১০ বছর বয়সী গৃহপরিচারিকা সুমাইয়া আক্তারের বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ধামতি ইউনিয়নের তেবাড়িয়া গ্রামে।
 
সুমাইয়া অভিযোগ করে,কাজে দেরি হলে মা ও মেয়ে জালি বেত দিয়ে মারধর করতো। শরীরে ঢালতো গরম পানি। মঙ্গলবারও একই ভাবে গরম পানি ঢেলে তার পা ঝলসে দেয়। ঐদিন আবার মারের পর গরম পানি ঢালতে চাইলে দোতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে সুমাইয়া। দৌড়ে পাশের মেয়েদের হোস্টেলে আশ্রয় নেয়।
 
হোস্টেলের এক মেয়ে বলেন, ‘আমরা উপরে চিৎকার চেচামেচি শুনি। পরে দেখি ছোট একটি মেয়ে আমাদের রুমে এসে আশ্রয় চাইছে। তার পা ঝলসে গিয়েছিল। পরে আমরা পুলিশে জানাই। আবু তাহেরের স্ত্রী তাহমিনা তুহিন মেয়েটিকে আটকে রাখতে চেয়েছিলেন। স্থানীয়দের বাধায় পারেননি।’

comment / reply_from