• Tuesday, 07 February 2023
গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের মানুষের স্বপ্ন দৃশ্যমান হচ্ছে

গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের মানুষের স্বপ্ন দৃশ্যমান হচ্ছে

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: উত্তরের নদীবেষ্টিত জেলা গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম। নদীর এক পারে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা,অপর পারে কুড়িগ্রামের চিলমারী। দুই জেলার মাঝ দিয়ে প্রবহমান দেড় কিলোমিটার প্রশস্ত তিস্তা নদী। বর্ষা এলেই ভয়ঙ্কর রাক্ষুসে হয়ে উঠে এ নদী। ভেঙে তছনছ করে একের পর এক বসতভিটা ও ফসলি জমি। ফলে নিঃস্ব হয়ে পড়ে এ জনপদের মানুষ। দুই উপজেলার লক্ষ লক্ষ মানুষের পারাপারের একমাত্র উপায় খেয়া নৌকা। দিনে খেয়াতে নদী পাড়ি দিতে পারলেও সন্ধ্যা নেমে এলেই বন্ধ হয়ে যায় সেই খেয়া।

দূরত্ব মাত্র দেড় কিলোমিটার হলেও দেরি কিংবা যেকোনো কারণে খেয়া ধরতে না পারলে রাত কাটাতে হয় নদী পাড়ে। রাত পোহালে তবেই বাড়ি ফেরা। যুগ যুগ ধরে চলে আসা যাতায়াতের সেই দুর্ভোগ নিরসনে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুরে নির্মিত হচ্ছে ১ দশমিক ৪৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে পিসি গার্ডার তিস্তা সেতু। সেতু নির্মাণ হলে কুড়িগ্রাম সদর, উলিপুর, নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী, চিলমারী থেকে সড়কপথে ঢাকার দূরত্ব কমে আসবে প্রায় ১০০ কিলোমিটার। দূরত্ব কমবে বিভাগীয় শহর রংপুরেরও। এতে বাঁচবে সময়, বাঁচবে অর্থ। পাল্টে যাবে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমানের ধারা, ঘুচবে দুঃখ, ঘটবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন।


স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৫ জানুয়ারি গাইবান্ধা শহরের শাহ আবদুল হামিদ স্টেডিয়ামে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে হরিপুর ঘাটে তিস্তা নদীর উপর ১ দশমিক ৪৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সেতুটির নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন সেতুটির নির্মাণের দায়িত্ব পায় চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন। নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে। সময়সূচি অনুযায়ী ২০২৩ সালে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা। ভূমি অধিগ্রহণ, মূল সেতু, সংযোগ সড়ক নির্মাণ, সম্প্রসারণ এবং নদী শাসনসহ আনুষঙ্গিক বিভিন্ন খরচ বাবদ প্রকল্পটির বাস্তবায়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৩০ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা। ২৯০টি পাইল, ১৫৫টি গার্ডার, ৩০টি পিলার, ২৮টি স্প্যান, সেতুর দুই পাশে ১ কিলোমিটার করে সংযোগ সড়ক এবং দেড় কিলোমিটার করে নদী শাসনের মাধ্যমে সেতুটির পূর্ণাঙ্গরূপ দিতে ব্যয় হবে ৩৬৭ কোটি ৫৮ লক্ষ টাকা।

ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে প্রায় ১৩৩ একর। সেতুটির দক্ষিণ প্রান্তের সুন্দরগঞ্জ অংশের ২ কিলোমিটার সড়কসহ কুড়িগ্রামের চিলমারী গাইবান্ধার ধর্মপুর-মন্ডলের হাট- লক্ষ্মীপুর-সাদুল্লাপুরের ধাপের হাট (ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক) পর্যন্ত নির্মাণ করা হচ্ছে প্রায় ৮৬ কিলোমিটার সড়কপথ। এর মধ্যে ৫০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজ বাস্তবায়ন করছে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩৪ কোটি ৫২ লক্ষ টাকা। বাকি ৩৬ কিলোমিটার সড়কের কাজ বাস্তবায়ন করছে গাইবান্ধা ও সাদুল্লাপুর এলজিইডি। দীর্ঘ এ সড়কে বন্যার পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে ১১-১২টি ব্রিজ এবং ৫৮টি বক্স কালভার্ট। সেতুটির ২৯০টি পাইলের মধ্যে বসানো হয়েছে ১৭৫টি, গার্ডার ১৫৫টির মধ্যে বসানো হয়েছে ৭৪টি এবং ৩০টি পিলারের মধ্যে ইতিমধ্যেই কাজ স¤পন্ন হয়েছে ১৪টির।


৩০টি পিলারের উপর স্প্যান বসানো হবে ২৮টি। তার মধ্যে স্প্যান বসানো স¤পন্ন হয়েছে আটটি। আরও দুটি স্প্যান আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে সেতুর উপর বসানো হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় এলজিইডি। ২০২৩ সালের জুনে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে অবহেলিত এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হবে। সেতু নির্মাণের বিশাল কর্মযজ্ঞ দেখতে ভিড় করছে নানা বয়সের
মানুষ। সেতুর উভয় পাশে পসরা সাজিয়ে বসেছে ৪০-৫০টি দোকান। সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. শামসুল আরেফিন খান বলেন, সেতুটির নির্মাণ কাজ স¤পন্ন হয়েছে প্রায় ৪০ ভাগ। যেভাবে কাজ চলছে তাতে আশা করা যায় আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে এর নির্মাণ কাজ শেষ হবে। গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাবিউল ইসলাম বলেন, সেতুটির
নির্মাণ কাজ পুরোদমে চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্মাণ কাজ শেষ হবে।

 

comment / reply_from