• Tuesday, 07 February 2023
কেশবপুরে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক ফসল ড্রাগন চাষে ঝুকছে কৃষক

কেশবপুরে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক ফসল ড্রাগন চাষে ঝুকছে কৃষক

এম আব্দুল করিম, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি.

যশোরের কেশবপুরে লাভজনক ফসল ড্রাগন চাষে ঝুকছেন উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের
কৃষকরা। আর এর পিছনে কৃষি অফিসের রয়েছে ব্যাপক ভুমিকা। কৃষি অফিসের
প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় কেশবপুরের উর্বর মাটিতে বিদেশী ফল ড্রগন চাষের
উপযোগী হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন ফল চাষ করে ইতিমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সৌখিন চাষী সাইফুল ইসলাম।


তাঁর বাগানে ড্রাগনফল চারা রোপণের ৮ থেকে ৯ মাসের মধ্যেই গাছে ফল ধরেছে।
রোপনের পর অল্পদিনে উৎপাদন ও অধিক লাভজনক হওয়ায় কেশবপুরসহ পাশবর্তী উপজেলার
অনেকেই এখন ড্রাগন চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। সাইফুল ইসলাম বর্তমানে ৪ বিঘা
জমিতে ড্রাগনফল চাষ করেছেন এবং এ বছরেই তিনি আরো ৮ বিঘা জমিতে ড্রাগন
চাষ বৃদ্ধি করবেন বলে তৃতীয়মাত্রা প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন। তার বাগানে ১হাজার
৩০০টি পিলার ও ৫হাজার ২০০ চারা রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ৪ বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষে
তার খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা। এখন তার বাগানে প্রচুর পরিমানে ফল ধরেছে।
বাগান থেকে প্রতি কেজি ফল ২৫০ থেকে ৩২০ টাকা দরে বিক্রি করছে। গাছের বয়স যত
বৃদ্ধি পাবে ফলনও তত বাড়বে। আর এভাবে উৎপাদন অব্যাহত থাকলে আগামী দশ বছরে
কোটি টাকারও বেশী ফল উৎপাদন হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। এ প্রজাতির গাছ
প্রায় ১০০বছর বাঁচে। ৫০ থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত ভালোভাবে ফল উৎপাদন হয়। পরে উৎপাদন
কমতে থাকে। সাইফুলের স্বপ্ন উপজেলাব্যাপী ড্রাগন চাষ ছড়িয়ে দিয়ে দেশের চাহিদা
মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা। তাঁর সাফল্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ছোটবড় কৃষক ও
ব্যবসায়ীরা সাইফুলের পরামর্শে দামী ফল ড্রাগনচাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। ড্রাগন একটি
বিদেশী ফল। এ ফলের তিনটি জাত রয়েছে। যেমন-লাল ড্রাগন, কোস্টারিকা ড্রাগন ও হলুদ
ড্রাগন। একটি ফলের ওজন ১৫০ থেকে ৬০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। কখনো কখনো ফলের ওজন এক কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। পাকা ফলের শাঁস বেশ নরম, কালোজিরার মতো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কালো রঙের অসংখ্য বীজযুক্ত, হালকা মিষ্টি। সাইফুলের ড্রাগন বাগান দেখে এউপজেলার তেইশ মাইলের রেজাউল ও আওয়ালগাতী গ্রামের আব্দুল লতিফসহ অনেক চাষী এখন
ড্রাগন চাষ শুরু করেছেন।


এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার ঋতুুরাজ সরকার বলেন, ড্রাগন ফলের জন্য শুষ্ক জলবায়ু
দরকার। মাঝারি বৃষ্টিপাত হলে ভালো হয়। কেশবপুরের আবহাওয়া ড্রাগন চাষের উপযোগী
হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে এর উৎপাদনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে এ উপজেলায়
প্রায় ২ হেক্টর জমিতে ড্রাগন আবাদ হয়েছে। ড্রাগন ফল একটি লাভজনক ফসল। এটা
আবাদ বৃদ্ধির জন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।


জানাগেছে, ড্রাগন ফলের জন্ম মধ্যআমেরিকায়। দক্ষিণ এশিয়ার মালেশিয়ায় ফলটির
উৎপাদন হয় বিংশ শতাব্দীর দিকে। বর্তমানে ভিয়েতনামে বেশি চাষ হচ্ছে। ভিয়েতনাম
ছাড়া তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, মালেশিয়া, চীন, ইসরাইল, অস্ট্রলিয়াতেও
চাষ হচ্ছে। ২০০৭ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্ম প্লাজম সেন্টারের
প্রফেসর ড. এম.এ. রহিম গবেষণার উদ্দেশ্যে ড্রাগন ফলের কয়েকটি জাত নিয়ে আসেন
থাইল্যান্ড থেকে। তাঁর গবেষণা সফলতার ওপর ভিত্তি করে গবেষণা সেন্টার থেকে এখন দেশের
প্রত্যন্ত অঞ্চলে ড্রাগন ফলের উন্নত জাতের চারা সরবরাহ করা হচ্ছে।

 

comment / reply_from