• Tuesday, 07 February 2023
কেন্দুয়ায় ৩০ বছর পর হারানো ছেলেকে ফিরে পেলেন বাবা মা

কেন্দুয়ায় ৩০ বছর পর হারানো ছেলেকে ফিরে পেলেন বাবা মা

আশরাফ গোলাপ, কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি : 

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় বলাইশিমুল ইউনিয়নের ভরাপাড়া গ্রামের জালাল উদ্দিনের  ৯ বছরের  ছেলে জিলু মিয়া ১৯৯১-৯২ সালে কেন্দুয়া খেলার মাঠে ষাঁড়ের লড়াই দেখতে এসে জনতার ভিড়ে হারিয়ে যায়। 

ছেলে হারিয়ে যাওয়ার খবর শুনে পরিবারটি কান্নাকাটি করে মাইকিং করে ও বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও জিলু মিয়ার খোঁজ মেলেনি। পরিবারটি দীর্ঘ ৩০ বছর পুত্র শোকে ভোগে।জিলুর আশা তারা ছেড়েই দিয়েছিল কিন্তু গত তিন দশক পর হারানো জিলুকে আবার খুঁজে পাবে কে জানত? কিছুদিন পূর্বে জিলু মিয়ার নিজ গ্রাম ভরাপাড়া থেকে পরিচিত এক লোক আত্মীয়ের মৃত্যুর সংবাদ শুনে নান্দাইলের বারুই গ্রাম গিয়েছিলেন। তখন হারিয়ে যাওয়া জিলুকে দেখতে পেয়ে তার মনে সন্দেহ দেখা দেয়। তার সঙ্গে কথা বলে তার আত্মবিশ্বাস হয় যে, ওই ছেলেটি জিলু হবে।

পরে বাড়িতে এসে জিলুর পরিবারকে জানালে সঙ্গে সঙ্গেই হারানো ছেলেকে দেখতে পার্শ্ববর্তী নান্দাইল উপজেলার বারুইগ্রাম চলে আসেন তারা। ছেলেকে দেখতে পেয়ে চিনতে পারে জিলুর পরিবার। তখন ছেলেকে জড়িয়ে আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে পরিবারটি। কিন্তু বাদসাধে আশ্রয়দাতা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ আকবর হোসেন। তিনি কিছুতেই জিলুকে ফিরিয়ে দেবেন না বলে জানিয়ে দেন।কারণ ছোট কাল থেকে জিলুকে কোলে পিঠে করে  আমি বড় করেছি।এদিকে হারানো ছেলের খোঁজ পেয়েও হতাশায় পড়ে যায় পরিবারটি। পরে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশ আইন সহায়তা কেন্দ্র ফাউন্ডেশন (বাসক) কেন্দুয়া শাখার সম্পাদক শাহ আলী তৌফিক রিপনের সহায়তা কামনা করে পরিবার। পরে নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হস্তক্ষেপে পুলিশের উপস্থিতিতে শুক্রবার নান্দাইল উপজেলার বারুই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ আকবর হোসেনের বাড়ি থেকে ছেলেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে তার পরিবার।৯ বছরের ছেলে জিলু কিছু স্মৃতি মনে রাখতে পারলেও জন্মস্থানের কথা মনে রাখতে পারেনি। হারিয়ে যাওয়া সেই ষাঁড়ের লড়াই দেখতে এসে হারিয়ে যায় এটুকু বলতে পারে।

বাসক কেন্দুয়া শাখার সম্পাদক শাহ আলী তৌফিক রিপন  জানান, নিয়ম মেনে নান্দাইল উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় অবশেষে ছেলেকে ৩০ বছর পর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরেছি।

দীর্ঘ ৩০ বছর পর হারানো ছেলেকে পেয়ে আবেগে আপ্লূত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে জিলুর মা-বাবা। জিলুর বাবা জালাল উদ্দিন মনের আবেগ প্রকাশ করতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ছেলেকে পেয়ে কি যে খুশি লাগছে তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।

এ দিকে আশ্রয়দাতা অবঃ পুলিশ আকবর হোসেন বলেন আমি জিলুকে ছোট থেকে সন্তানের মত মানুষ করেছি।তাই তাকে বিদায় দিতে আমার খুবই কষ্ট হচ্ছে আর অন্য দিকে জিলু তার বাবা মাকে ফিরে পেয়েছে এজন্য আমার খুবই আনন্দও লাগছে।

comment / reply_from