• Thursday, 09 February 2023
কেন্দুয়ায় অগ্রীম ইট বিক্রির পাঁচ কোটি টাকা নিয়ে মালিক লাপাত্তা

কেন্দুয়ায় অগ্রীম ইট বিক্রির পাঁচ কোটি টাকা নিয়ে মালিক লাপাত্তা

আশরাফ গোলাপ কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: 

কেন্দুয়ায় মেসার্স এপেক্স ও সনি ব্রিকসের মালিক এলাকার বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে অগ্রিম ইট বিক্রির টাকা নিয়ে লাপাত্তা  হয়ে গেছেন বলে ভুক্তভোগী ক্রেতাদের অভিযোগ। উপজেলার রামপুর ও সিংহেরগাঁও এলাকায় জমি ভাড়া নিয়ে ৩-৪ বছর ধরে এপেক্স এবং সনি নামে দুটি ইটখোলার ব্যবসা করে আসছিলেন ঢাকার বাসিন্দা মো. সাদেক হোসেন ও সাকিল মিয়া। চলতি বছর পূর্বের মতো নতুন ইট তৈরির জন্য কাজ শুরু করেন তারা। তৈরি করা কাঁচা ইট আগুনে না পুড়িয়েই খোলায় খোলা আকাশের নিচে ফেলে রেখে সম্প্রতি মালিক উধাও হয়ে যান। এতে বিপদে পড়েন ইট ক্রয়ের জন্য অগ্রিম টাকা দেওয়া ভুক্তভোগী লোকজন। ভুক্তভোগী ক্রেতারা মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেও টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। অনেকেই ২০ লাখ থেকে শুরু করে ৬২ লাখ টাকা পর্য়ন্ত অগ্রিম দিয়েছেন।
 
এভাবে মালিক ৪-৫ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছেন বলে জানা যায়। ভুক্তভোগী রামপুর এলাকার সজল জানান, ‘আমি ১৭ লাখ টাকা দিয়েছি। আমার মতো শহিদুল্লাহ ৬২ লাখ ও সাদ্দাম ২০ লাখ টাকা দিয়েছেন। এ রকম অনেক লোকের কাছ থেকে অগ্রিম ইট বিক্রি বাবদ প্রায় ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন এপেক্স ব্রিকসের মালিক সাদেক হোসেন। প্রতিবছর টাকা সাশ্রয়ের জন্য ইট ক্রয়ে অনেকেই অগ্রিম টাকা দিয়ে থাকেন। কয়েকদিন আগে দেখি ইট তৈরির সরঞ্জাম রেখে শ্রমিকসহ মালিকরা উধাও হয়ে গেছেন। এ বিষয়ে মালিকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কাউকে টাকা ফেরত দেননি।’ ব্রিকসের মালিকের সহযোগী মো. সাকিল জানান, ‘আমি ৪২ লাখ টাকা লস দিয়ে ব্যবসার শেয়ারের অংশ ছেড়ে চলে এসেছি।’ তবে তিনি বলেন, অনুমোদন ছাড়া ইটখোলার ব্যবসা করতে গিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে জরিমানা দিতে হয়েছে। এছাড়া খোলার জন্য অগ্রিম জায়গা ভাড়া ও মাটি ক্রয়ে স্থানীয় লোকজনের কারণে ইটের ব্যবসায় লস হয়েছে। এপেক্স ও সনি ব্রিকসের বর্তমান মালিক মো. সাদেক বলেন, ‘ইট বিক্রির জন্য অগ্রিম টাকা নেওয়া প্রাপ্য লোকজনকে টাকা ফেরত দেওয়া হবে। তবে কবে নাগাদ ফেরত দেবেন তা তিনি নির্দিষ্ট করে বলেননি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাবেরী জালাল বলেন, ‘এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কেউ অভিযোগ করেননি। তবে বিষয়টি দেখব।’

comment / reply_from