• Friday, 03 February 2023
কেন্দুয়ার মানসিক ভারসাম্যহীন দুই ছেলে নিয়ে বিপাকে দিনমজুর পিতা

কেন্দুয়ার মানসিক ভারসাম্যহীন দুই ছেলে নিয়ে বিপাকে দিনমজুর পিতা

 আশরাফ গোলাপ কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি : 
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের কুতুবপুর বিলপাড়া গ্রামের দিনমজুর আব্দুর রাজ্জাক, স্ত্রী রহিতা আক্তার তিনপুত্র সুমন মিয়া, রুমন মিয়া, হুমায়ুন মিয়া ও একমাত্র মেয়ে সুরমিনা আক্তারকে নিয়ে ৬ সদস্যের পরিবার। দারিদ্রতার মাঝে রাজ্জাক-রহিতা স্বপ্ন দেখেন ছেলে মেয়েদের লেখা পড়া করিয়ে শিক্ষিত করে গড়ে তোলার।
 
কিন্তু বড় ছেলে সুমন নবম শ্রেণীতে পড়ার সময় থেকে মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। মাথা ব্যাথা, শরীর ব্যাথা ও জ্বালা পোড়া চোখে ঝাপসা দেখা এবং পড়া মনে না থাকার সমস্যা ইত্যাদি কারণে লেখা পড়া বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৪ সনে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করান মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা: এনামুল হক খানকে দিয়ে। এর মধ্যে সুমনের ছোট বোন সুরমিনার বিয়ে হয়ে যায়। আব্দুর রাজ্জাকের ১৫ শতাংশ আবাদি ভূমি ছিল এটুকু বিক্রি করে ছেলের চিকিৎসা করালেও সুস্থ্য হয়নি সুমন।
 
সংসারের প্রয়োজনে অটো রিক্সা চালাতে বাধ্য হয় অপর ছেলে রুমন মিয়া। কিন্তু কষ্ট যেন পিছু ছাড়ছে না রাজ্জাক মিয়ার। ২০১৯ সনে নবম শ্রেণীতে পড়াকালীন ছোট ছেলে হুমায়ুনও মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। মাত্র ১৪ শতাংশ ভূমিতে মাখা গুজার ঠাঁই ছাড়া সম্পদহীন রাজ্জাক দম্পতি আরও বিপাকে পড়েন। মানসিক ভারসাম্যহীন দুই যুবক ছেলেকে রেখে কাজেও ঠিকমত যেতে পারেন না। ফলে অভাব আরো ঝেঁকে বসে। মঙ্গলবার  (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে গেলে কথা হয় আব্দুর রাজ্জাক  ও তার পরিবারের লোকদের সাথে। আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বড় ছেলে সুমনকে শখ করে বিয়ে করিয়ে ছিলাম, তার সুমা নামে ৭ বছরের একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। ছেলের পাগলামীর কারণে ৪ বছর ধরে মেয়েকে নিয়ে বউ বাপের বাড়ি চলে গেছে আর আসবেনা বলে জানিয়ে দিয়েছেন। এরই মধ্যে ৩ বছর ধরে আমার দ্বিতীয় ছেলেটিও মানসিক রোগী হয়ে যায়।
 
এখন দুই রোগী নিয়ে আমি চোখে অন্ধকার দেখছি। অর্থের অভাবে না পারছি ছেলেদের চিকিৎসা করাতে না পারছি নিয়মিত মানুষের বাড়িতে কাজে যেতে। মনের মধ্যে সব সময় ভয় কখন ওরা বাড়ি হতে বেড়িয়ে গিয়ে হারিয়ে যায়। মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক সুমন ও হুমায়ুনের মা রহিতা আক্তার চোখ মুছে বলেন, আমার স্বপ্ন কি এভাবেই শেষ হয়ে যাবে ? উপযুক্ত ছেলে ২টি আমার পাগল হয়ে দুঃখের সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছে। অর্থের অভাবে ওদের চিকিৎসা করাতে পারছিনা। কি যে হবে কিছুই জানি না।

comment / reply_from