• Tuesday, 07 February 2023
কালিয়াকৈরে মানসিক ভারসাম্যহীন লিটন শিকলে বন্দি

কালিয়াকৈরে মানসিক ভারসাম্যহীন লিটন শিকলে বন্দি

একে এম শিশির কালিয়াকৈর (গাজীপুর )প্রতিনিধি : 
 
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার কালামপুর এলাকায় মানসিক ভারসাম্যহীন লিটন বেপারীর জীবন কাটছে শিকলে বন্দি হয়ে। কারো ক্ষতি করে বা কোথাও যদি চলে যায় সেই ভয় থেকেই তার পরিবার তাকে বেঁধে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। গত প্রায় ৬ মাস ধরে বাড়ির পাশের বনের একটি গাছে নীচেই তার দিন কেটে যাচ্ছে।
 
লিটন বেপারী গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার কালামপুর এলাকার ফজল বেপারীর ছেলে। প্রায় দশ বছর আগে তার মা মারা যান। এর পর বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। জন্মের পর যখন দিন দিন বেড়ে উঠতে থাকে তখনই তার পরিবার বুঝতে পারে লিটন মানসিক ভারসাম্যহীন। বড় হওয়ার সাথে সাথে সেটি আরো বাড়তে থাকে।
 
শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) সড়ক থেকে প্রায় ২০ গজ দূরে গাছের সঙ্গে বাঁধা লিটনের কাছাকাছি যেতে না যেতেই কয়েকজন ব্যক্তি এগিয়ে এলেন। কথা বলে জানা গেল, তারা লিটনের সৎ মা, বড় বোন ও ভগ্নিপতি।
 
লিটনের কাছে গিয়ে কথা বলার চেষ্টা করার সময় একজন পেছন থেকে চিৎকার করে বললেন, ‘সামনে যাবেন না। সে আপনাকে মারবে। কামড় দেবে।’ উপেক্ষা করে ফের সামনে এগোনোর চেষ্টা করলে হাত নেড়ে লিটনই নিষেধ করলেন।
 
সেখানেই কথা হয় লিটনের বড় বোন ডলির সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘১০ বছর আগে মা মারা যান। এর পর থেকে আমার ভাই ধীরে ধীরে মানসিক ভারসাম্য হারাতে শুরু করে। মাঝেমাঝে পাগলামি করত। জুট মিলে চাকরি করত, সেটাও ছেড়ে দেয়। এলাকার মানুষের সঙ্গে ঝগড়া করত। বাচ্চাদের গায়ে হাত তুলত। বাধ্য হয়ে পরিবারের সবার সম্মতিতে গত ৩-৪ মাস এখানে বেঁধে রেখেছি।’
ওই এলাকার বাসিন্দা রতন মিয়া বলেন,ছেলেটি অনেক ভালো ছিল এলাকার সবার সাথে খুবই ভালো সম্পর্ক ছিলো কিন্ত মায়ের মৃত্যুর পর থেকে আস্তে আস্তে ভারসাম্যহীন   হয়ে পরে ।উন্নত চিকিৎসা করালে সম্ভবত ভালো হয়ে যেত।কিন্ত অর্থের অভাবে কবিরাজী চিকিৎসা করানো হচ্ছে শিকলে বন্দী জীবন কাটাচ্ছে।
 
লিটনের সৎ মা বলেন, ‘অনেক দিন বাসায় রেখেছি। গ্রামের ডাক্তার দেখানো হয়েছে। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। বর্তমানে অবস্থা খারাপ। বাচ্চাদের মারধর করে। চিকিৎসা করানোর মতো টাকা আমাদের নেই।’
 
কালিয়াকৈর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. কাশেম আলী বলেন, ‘লিটনরা আমাদের এলাকায় জায়গা কিনে বাড়ি করেছে। এক সময় ও চাকরি করতো। শুনেছি তারা কবিরাজের চিকিৎসার জন্য ওখানে রেখেছে। আমার তরফ থেকে কোনো সহযোগিতা লাগলে অবশ্যই করব।’

comment / reply_from