• Saturday, 04 February 2023
কালিয়াকৈরে আশ্রয়ণ প্রকল্পে   নিন্মমানের মালামাল ব্যবহারের  অভিযোগ

কালিয়াকৈরে আশ্রয়ণ প্রকল্পে নিন্মমানের মালামাল ব্যবহারের অভিযোগ

 
একে এম শিশির কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি : সারা দেশের মতো মুজিববর্ষ উপলক্ষে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ভূমিহীনদের উপহার দেওয়া হচ্ছে জমিসহ ঘর। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় খাসজমিতে এগুলো নির্মিত হচ্ছে। তবে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেরার ঠেঙ্গারবান্ধ এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২০ টি ঘর নির্মানে নিন্মমানের মালামাল ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে উপজেলা পর্যায়ে একটি কমিটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করবে। এ কমিটিতে ইউএনও ছাড়াও সদস্যসচিব থাকছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। কমিটিতে আরও আছেন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি), এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মধ্যপাড়া ইউনিয়নের ঠেঙ্গারবান্দ এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধীকার প্রকল্পের ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য মুজিব বর্ষে গৃহ নির্মাণ করা হচ্ছে। ওই এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. একরামুল ইসলামের সড়কের পাশে একটি উচু জমিতে নতুন করে ৩০ টি ঘর নির্মানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।  এর আগে কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নের কৌচাকুড়ি, ভলুয়া, মধ্যপাড়া ইউনিয়নের চাঁনপুর, হাটুরিয়াচালা, নাগচালা, ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের মজিদ চালা ও বান্দাবাড়ি গ্রামে ২৪০ টি ঘর  নির্মান করা হয়। সেগুলি এরমধ্যে গৃহহীনদের মধ্যে হস্তান্তরও করা হয়েছে। নতুন করে কালিয়াকৈর উপজেলার মধ্যপাড়া ইউনিয়নের ঠেঙ্গারবান্ধ এলাকায় ৭০ টি ঘর নির্মাণ করার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ৩০ টি ঘর তৈরির কাজ শেষ এখন সেখানে বিদ্যুতের সংযোগ ও রংয়ের কাজ বাকি রয়েছে। নতুন করে আরো ২০ ঘর তৈরির কাজ চলমান রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,  এখন পযন্ত ঠেঙ্গারবান্ধ এলাকায় ঘর নির্মানের জন্য কয়েক হাজার ইটা আনা হয়েছে যেগুলির মান খুবই নিন্মমানের। ইট ব্যবসায়ীদের ভাষায় ৩নম্বর ইট। ইটের গাথুনির জন্য যে বালু সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে তাও খুবই নিন্মমানের। এক বস্তা সিমেন্টের সঙ্গে যে পরিমান বালু দেওয়ার কথা তার চেয়ে বেশি বালু ব্যবহার করায় অল্প ধাক্কাতেই ইটের গাথুনি খুলে যাচ্ছে। অন্যান্য জায়গার চেয়ে ওই স্থানে মাটির মান ভালো থাকায় ঘরের ভীত তৈরির জন্য কম গর্ত বা কম মাটি খুঁড়া হয়েছে।
ঘরনির্মান কাজের সঙ্গে থাকা এক রাজমিস্ত্রী ( নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, এহানে ঘর করার লাইগা যে ইট আনা হইছে হেই ইটা দিয়া মানুষ রাস্তাও বানাইবো না। হাতদিয়া উচা করলেই অনেক ইট ভাইঙ্গা যাইতাছে। এই এলাকার মাটি অনেক শক্ত হের লাইগা ঘর দাঁড়ায় থাকে। নরম মাটি হইলে ঘর বাতাসেই পইরা যাইতো।
জানা গেছে, খাসজমিতে তৈরি করা ঘরগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করার কথা রয়েছে। কিন্তু অতিদ্রুত কাজ সম্পন্ন করায় কাজের মান ঠিক থাকছে না বলে দাবি এলাকাবাসীর। আবার ব্যবহৃত হচ্ছে নিম্নমানের ইট। ‘ক’ শ্রেণীভূক্ত এ বাড়ি গুলো দৃষ্টিনন্দন রঙিন টিনের দুই কামরার সেমিপাকা বাড়ি নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি ঘরের আয়তন হবে দৈর্ঘ্যে ১৯ ফুট ৬ ইঞ্চি আর প্রস্থে ২২ ফুট ৬ ইঞ্চি। রান্নাঘর ও শৌচাগার থাকবে। প্রতি ১০ ঘরের জন্য একটি নলকূপ। সব মিলিয়ে বাড়িপ্রতি খরচ ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা। ইটের সংখ্যা, সিমেন্ট ও বালুর পরিমাণও বলে দেওয়া হয় নকশা মোতাবেক। 
নির্দেশিকা অনুসারে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতি অনুসরণ করার কথা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এর সঙ্গে কোন মিল দেখা যায় নাই। প্রকল্পের জন্য একটি কমিটি থাকলে কমিটির সদস্যদের সাথে এ নিয়ে কোন সমন্বয় করা হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
 
উপজেলার মধ্যপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘রাস্তা দিয়ে যাওয়া আসার সময় ঘর করছে দেখছি। কিন্তু আমাকে কখনো এই ঘর নির্মানের বিষয়ে অবহিত করা হয়নি বা দেখবাল করার কথা বলা হয়নি।’
নির্মান কাজ সরাসরি করার কথা কথালেও কাজ দেয়া হয়েছে আশরাফুল ইসলাম নামের এক ঠিকাদারকে। তিনি বলেন, আমি অনেক ঘর নির্মান করেছি কোথাও কোনো অভিযোগ নেই। এখানে আমি শুধু কাজের দায়িত্ব নিয়েছি মালামাল দিচ্ছে প্রশাসনের লোক। ইটাগুলি ৩ নম্বর আসায় আমিও তাদের জানিয়েছি।
নির্মান কাজে ব্যবহার করা ইটগুলি দুর্বল থাকার কথা স্বীকার করে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ বলেন, ‘ এই ইট দিয়ে আমরা ঘরের ভীত তৈরি করেছি। এখন ইটের ক্রাইসেস চলছে। কোথাও ভালো ইট পাওয়া যাচ্ছে না। পরবর্তীতে ঘরের গাথুনির জন্য ভালো ইট ব্যবহার করা হবে।, তিনি আরো বলেন,‘আপনারা যেহেতু অভিযোগ বা খারাপ বলেছেন তাই এই ইট আর ব্যবহার করা হবে না। এখনই নিষেধ করে দিচ্ছি।

comment / reply_from