• Saturday, 04 February 2023
কালকিনি উপজেলায় নিম্ন মাধ্যমিক  বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ৬ জন

কালকিনি উপজেলায় নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ৬ জন

ইব্রাহিম সবুজ, কালকিনি (মাদারীপুর) প্রতিনিধি :
 
মাদারীপুর কালকিনি উপজেলার  স্কুলে শিক্ষার্থীর চেয়ে শিক্ষক কর্মচারীর সংখ্যা বেশি বলে জানা গেছে। উপজেলার রমজানপুর ইউনিয়নের জজিরা নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ৬ জন হলেও  শিক্ষক- কর্মচারী রয়েছে ৭ জন। বছরের বেশিরভাগ সময়ই হয় না ক্লাস । স্থানীয়রা জানায়,  শিক্ষার্থী নিয়ে শিক্ষক বা ম্যানেজিং কমিটির নেই কোন মাথা ব্যথা । প্রধান শিক্ষক স্থানীয় লোক ও আওয়ামীলীগের নেতা হওয়ায় ঠিকমতো স্কুলে না আসা ও নিয়োগ দূর্ণীতিসহ নানা অভিযোগ স্থানীয়দের। এছাড়া শিক্ষকরা নিয়মিত বেতন পান, কমিটির লোকেরা সন্তুষ্ট পদ দখল করে প্রতিষ্ঠানের ভালো মন্দ নিয়ে তাদের কোন ভাবনা নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। দিনে দিনে প্রতিষ্ঠানটি নষ্ট হওয়ার পথে চললেও দেখার মত কেউ নেই।
 
শিক্ষার্থী কমের বিষয়টি শিক্ষা কর্মকর্তা জানেন বলে দাবি প্রধান শিক্ষক। এছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক সমস্যার কারনে শিক্ষার্থী কম বলে দাবি প্রধান শিক্ষকের। শিক্ষার্থী কমের বিষয়টি জানলেও এত কম সেটা জানতেন না বলে জানিয়েছে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস উপজেলা প্রশাসনের।
 
জানা যায়, মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার রমজানপুর ইউনিয়নের জজিরা নিম্ম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়টি ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮৪ এমপিও ভুক্ত হয়ে সুনামের সাথেই ওই এলাকার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছিল। বিগত দিনে ঠিকমতো চললেও বর্তমানে প্রতিষ্ঠান অবস্থা আগের মত নেই। স্কুলটিতে মোট শিক্ষার্থী আছে ৬ জন, শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন ৭ জন। প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক ৪ জন, অফিস সহকারী একজন ও চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী একজন। ষষ্ঠ শ্রেনির ১ জন, সপ্তম শ্রেনিতে ৩ জন এবং অষ্টম শ্রেনিতে ২ জন শিক্ষার্থীসহ মোট শিক্ষার্থী দেখা যায় বৃহস্পতিবার পরীক্ষার দেওয়া অবস্থায়। শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে বিদ্যালয়ে মোট ৬ জন শিক্ষার্থীই রয়েছে। বিদ্যালয়টিতে নেই কোন সাইনবোর্ড।
 
শিক্ষার্থী কম হওয়ার কারন হেসেবে স্থানীয় রাজনীতি ও ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে জটিলতাকেই দায়ী করছেন প্রধান শিক্ষক। বর্তমান প্রধান শিক্ষক স্কুলটির সাবেক প্রধান শিক্ষককে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে ও লাঞ্ছিত করে স্কুল ত্যাগ করতে বাধ্য করেন বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। এছাড়া প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ঠিকমতো স্কুলে না আসা ও নিয়োগ দূর্নীতিসহ নানা অভিযোগ স্থানীয়দের। স্কুলটির বর্তমান প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ(হিরু মাস্টার) বিগত চার বছর আগে এই প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত ছিলেন। তখন রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার বাসিন্দা প্রধান শিক্ষক বাবু জগবন্ধু বিশ্বাস ছিলেন প্রধান শিক্ষক। তাকে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে স্কুল ছেড়ে যেতে বাধ্য করেন বর্তমান প্রধান শিক্ষক। বর্তমান প্রধান শিক্ষকের বাবা ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হওয়ায় ও স্থানীয় প্রভাব থাকায় স্থানীয়রা বিদ্যালয়ের বিষয়ে কোন খোজ খবর নিতে সুযোগ পান না। তিন বছরে স্কুলের শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে দাড়িয়েছে ৬ জনে।
 
ভবিষ্যতে বিদ্যালয়টি সঠিক তদারকি না করা হলে শিক্ষার্থী শুন্যের কোঠায় যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানায় স্থানীয়রা ও সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সদস্যসহ স্থানীয় জন প্রতিনিধি। তাই সরকারের বিষয়টি তদরকী করে সকল সমস্যা সমাধান করে প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখতে সহযোগীতার দাবি স্থানীয়দের। প্রধান শিক্ষকের দাবি সব বিষয় তিনি শিক্ষা অফিসে জানান। শিক্ষার্থী কম ও ম্যানেজিং কমিটির বিষয়ে শিক্ষা অফিস অবগত। শিক্ষার্থী কম তবে এত কম সেটা জানা ছিল না দাবি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের । নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
 
অষ্টম শ্রেনির শিক্ষার্থী লিজা আক্তার বলেন, ছয়জন শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। শুরু থেকে তারা ছয়জনই ছিল স্কুলে। মাঝে মাঝে ক্লাস হতো। ছাত্র-ছাত্রী বেশি হলে ভালো হতো।
স্থানীয় আকবার আলি খান বলেন, হেডমাস্টার আওয়ামীলীগের নেতা। তিনি কখনো কখনো স্কুলে আসেন। আসলেও চলে যান কালকিনি শিক্ষা অফিসে কাজ আছে বলে । স্কুলটি বাচানোর সার্থে সরকারী তদারকি খুব দরকার। প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখতে সরকারের সহযোগীতা কামনা করি।
 
ইউপি সদস্য মোঃ খালেক শিকদার বলেন, স্কুলটি ম্যানেজিং কমিটি ও প্রধান শিক্ষকের বিভিন্ন অনিয়ম ও অবহেলার কারণে শিক্ষার্থী শূন্য প্রায়। তাই স্কুলটিতে সক্রিয় ম্যানেজিং কমিটি প্রয়োজন। পাশাপাশি সরকারী তদারকি দরকার যাতে প্রতিষ্ঠানটিতে কোন অনিয়ম না হয়,বিদ্যালয়টি টিকে থাকে।
 ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নুরুল হক রাড়ি বলেন, বাবু জগবন্ধু স্যারকে(সাবেক প্রধান শিক্ষক) বিভিন্নভাবে অপমান অপদস্ত, উচ্চ বাক্যে গালাগালি করতেন বর্তমান প্রধান শিক্ষক। তার অত্যাচারে স্কুলটি ত্যাগ করতে বাধ্য হন সাবেক প্রধান শিক্ষক বাবু জগবন্ধু স্যার। তার পর থেকে অধপতন শুরু হয়। সে কমিটির কথায় কান দেন না। সরকার বিষয়টি নজরে না নিলে সমস্যার সমাধান হবে না । প্রতিষ্ঠানটি রক্ষা করা যাবে না।
 
প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (হিরু মাস্টার) অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোন অনিয়ম বা দূর্নীতি করেন না। স্থানীয় রাজনৈতিক কারনে ও ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে দ্বন্দ্বের কারনে এলাকার লোক ছেলে মেয়ে ওই স্কুলে ভর্তি করেন না। খুব তাড়াতাড়ি ম্যানেজিং কমিটি গঠন করে সব সমস্যা সমাধান করা হবে। শিক্ষার্থী কমের বিষয়টি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জানেন।
কালকিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, জানতান প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থী কম আছে। তবে এত কম সেটা জানা ছিল না। স্কুলের স্বীকৃতি দেয় শিক্ষা বোর্ড,তারা কিভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে বা পায় তা জানা নেই। স্কুলগুলোর তদারকি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস করে থাকে। শিক্ষার্থী কম হলে স্বীকৃতির বিষয়টি সিদ্ধান্ত নিবে বোর্ড। তবে বিষয়টি জানতে পারলাম, সরেজমিনে গিয়ে দেখবো ও কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারি। নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কালকিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিংকি সাহা বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না,এখন জানলাম। সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সবার সহযোগিতায় এ সমস্যা সমাধান করা হবে।
 

comment / reply_from