• Tuesday, 31 January 2023
কমলগঞ্জে ফেলে রাখা  জমিতে চাষ হচ্ছে বিভিন্ন সবজি

কমলগঞ্জে ফেলে রাখা জমিতে চাষ হচ্ছে বিভিন্ন সবজি

রাজু দত্ত,কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি :  
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে রবিশস্য ও বোরো মৌসুমে প্রতি বছরই চাষের আওতায় আসছে পতিত জমি। ফসল উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কৃষকেরা এক ফসলি জমিকে দ্বিফসলি, তিন ফসলি জমিতে রূপান্তর করছেন। এছাড়া যেসব জমি বা জলাশয় কখনও চাষ করা হয়নি এসব জমিতে শুষ্ক মৌসুমে ফসল উৎপাদন করা হচ্ছে।
     
কৃষকেরা জানান, ফসল উৎপাদন বাড়ানোর জন্য পতিত জমিতে বিভিন্ন সবজি চাষ করছেন। বিশেষ করে রবিশস্য ও বোরো ধান চাষ হচ্ছে। পর্যাপ্ত সেচের ব্যবস্থা ও সরকারি প্রণোদান প্রদান করলে আরও পতিত জমি চাষের আওতায় আনা সম্ভব। এছাড়া এক ফসলি জমিতে তিন ফসলি জমি রোপান্তর করে সবজি ও বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করছেন বলে তাঁরা জানান।
       
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৭-১৮ মৌসুমে উপজেলায় বোরোধান চাষ করা হয়েছে ৩ হাজার ৯৪০ হেক্টর, সরিষা ৮৫ হেক্টর, সবজি ১ হাজার ৩২০ হেক্টর ও আলু ৪৯০ হেক্টর। যা ৫ বছরের ব্যবধানে ২০২১-২২ মৌসুমে ৫৭০ হেক্টর বেড়ে বোরোধান ৪ হাজার ৫১০ হেক্টর চাষ করা হয়। একই সাথে সরিষা ৩০ হেক্টর বেড়ে ১১৫ হেক্টর, সবজি ২৬০ হেক্টর বেড়ে ১৫৮০ হেক্টর এবং আলু ৩৫ হেক্টর বেড়ে ৫২৫ হেক্টর জমিতে চাষ করা হচ্ছে। সেচের ব্যবস্থা বাড়ানো গেলে এ উপজেলায় পতিত জমিতে বোরোধান সহ অন্যান্য সবজি চাষ আরও বাড়বে বলে জানা যায়।
 
ফেলে রাখা  জমি চাষাবাদের আওতায় আনার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি বছর সেচের ব্যবস্থা বাড়ানো হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
       
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েকবছর ধরে কৃষকেরা সবজি ও বোরোধানের প্রতি ঝুঁকেছেন। তাঁরা বিভিন্ন পতিত জমিতে সরিষা, আলু, শাকসবজি চাষ করছেন। এ ছাড়া বোরোধানের বীজতলার জন্য পতিত জলাশয় প্রস্তুত করছেন। কৃষিতে খরচ বাড়লেও সারা বছর সবজিতে ভাল দাম পাওয়া যায়। এ জন্য পতিত জমিসহ সব জমিতে চাষ বেড়েছে।
        
উপজেলার কৃষক কালা মিয়া বলেন, ‘আমি গত তিন বছর ধরে এক একর জলাশয়ে বর্ষা মৌসুমে মাছের সাথে ধান আর শুষ্ক মৌসুমে সবজি চাষ করছি। অথচ এ জমিগুলো কয়েকবছর আগেও পতিত ছিল।
 
একই উপজেলার কৃষক জহুর মিয়া বলেন, আমি আগে জমিতে শুধু আমন ধান চাষ করতাম। আমন চাষ করে আমার পরিবারের খাদ্যের চাহিদায় ঘাটতি থাকতো। পরে একই জমিতে গত তিন বছর ধরে আউশ, আমন ও বোরোধান চাষ করছি। এখন পরিবারের খাদ্যের চাহিদা পূরণ হয়ে বাজারে ধান বিক্রি করি।
        
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জনি খান বলেন, ‘গত কয়েকবছর ধরে এ উপজেলায় অনেক পতিত জমি চাষের আওতায় এসেছে। পর্যাপ্ত সেচ থাকলে আরও পতিত জমি চাষের আওতায় আসবে। কৃষকেরা পতিত জমিতে সরিষা সহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করছেন। বর্তমান সময়ে কৃষকেরা অতি সহজে এক ফসলি জমিতে দ্বিফসলি, তিন ফসলি ফসল উৎপাদন করছেন। কৃষকদেরকে সেচ ও প্রণোদনার ব্যবস্থা করলে আরও পতিত জমি চাষের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’

comment / reply_from