• Friday, 03 February 2023
এখনও শরীরে তার যুদ্ধের ক্ষত

এখনও শরীরে তার যুদ্ধের ক্ষত

আব্দুল্লাহ হেল বাকী, ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি
মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছে তখন। পাকিস্থান সেনাবাহিনীর অত্যাচারেপ্রতিদিনই এলাকা ছেড়ে পালাচ্ছে অসংখ্য মানুষ। বাস্তব সত্য কখনোকল্পকাহিনীকেও হার মানায়। বীর মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেনের বীরত্বেরস্মৃতি কথা তেমনি অবিশ্বাশ্ব্য মনে হলেও সত্য। নওগাঁ জেলা সদর থেকে ৫৬কিলোমিটার উত্তরে ভারতের কোল ঘেঁষে ধামইরহাট উপজেলার অবস্থান। উমারইউনিয়নের কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামের কৃষকের সন্তান আফজাল হোসেন।তিনি এখন ধামইরহাট উপজেলা পৌর শহরের দক্ষিন চকযদু টিএন্ডটি মহল্লারবাসিন্দা। একাত্তরের যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া লাখো মুক্তি সেনাদের তিনিএকজন। ৭১-এর উত্তাল মার্চের কথা।

ঢাকা শহরের মতো সারা দেশেই পাকসেনাদের চলছে তান্ডব। নওগাঁর সীমান্ত ঘেঁষা উপজেলা ধামইরহাট তখনএমনই এক তান্ডবময় এলাকা। এলাকার মানুষগুলোর অধিকাংশই তখন সীমান্তপেড়িয়ে যাওয়ার অপেক্ষায়। সদ্য পাশ করা গ্রাজুয়েট আফজাল হোসেনদাঁড়িয়ে দেখছেন সে দৃশ্য। সীমান্তের ওপাড়ে যদি যেতেই হয়, তবে ফিরেআসব ট্রেনিং নিয়ে। রুখব পাক সেনাদের। কিন্তু ভাবনাটা বাস্তবে রূপপাবার আগেই ছোট্র বাজারটাতে হানা দিয়েছে পাকিস্তানী বাহিনী।উপায়ন্তর না দেখে বাড়ি থেকে সাত কিলোমিটার দুরে আত্রাই নদীতেলুকিয়ে কাটান সারা দিন। তারপর কাউকে না জানিয়েই যুদ্ধ যাত্রা।মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন (০৯-০১-১৯৪৬ সালে তাঁর জন্ম) বাংলাদেশেরস্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী একজন মুক্তিযোদ্ধা।


তার সংক্ষিপ্ত জীবনী আফজাল হোসেন ১৯৪৬ সালে নওগাঁ জেলার ধামইরহাটউপজেলার চকযদু (কাশিয়াডাঙ্গা) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতারনাম মৃত ফারাজ উদ্দিন মন্ডল। আফজাল হোসেন নওগাঁর করনেশান হাই স্কুল (বর্তমানে নওগাঁ জেলা হাই স্কুল ) থেকে ১৯৬৩ সালে এসএসসি, নওগাঁর বিএমসি কলেজ থেকে ১৯৬৫ সালে আইএসসি এবং নওগাঁ ডিগ্রীকলেজ থেকে ১৯৬৯ সালে বিএসসি পাশ করেন। কিন্তু এলাকার মানুষের সেবা করার কথা চিন্তা করে তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা পেশায় জড়িয়ে পড়েন তিনি মাতৃভুমির স্বাধীনতার জন্যে ছুটে যান মুক্তিযুদ্ধে।

তারপর ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে প্রথমে ৭নং সেক্টরে বাঙ্গালিপুর কেম্পে ভর্তি হন। প্রাণের ঝুকি নিয়ে পশ্চিম বঙ্গের জলপাইকুড়ি জেলার মুক্তিবাহিনীর ৭নং সেক্টরে যোগদান করেন। তিনি সেক্টর কমান্ডার রউফের অধীনে যুদ্ধ করেন। বিভিন্ন রণাঙ্গনে অসাধারন কৃতিত্ব দেখানোর কারনে তাকে নওগাঁর ধামইরহাট, রাঙ্গামাটি, র্ফাশিপাড়া, হিলি, চৌঘাট ডাঙ্গি এলাকার পাকহানার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করান। স্বাধীনতা ঊষালগ্নে বিজয় সুনিশ্চিত করেই
তিনি ফিরেন পরিবারের কাছে।

comment / reply_from