• Friday, 27 January 2023
ইসলামপুর পলবান্ধা ইজিপিপি প্রকল্পে অনিয়ম

ইসলামপুর পলবান্ধা ইজিপিপি প্রকল্পে অনিয়ম

ওসমান হারুনী ,( জামাল পুর) বিশেষ প্রতিনিধি : কাজ শুরুর তারিখ থেকে ১৪কর্মদিবস অতিবাহিত হলেও এক টুপা মাটিও পড়েনি ইসলামপুর উপজেলার পলবান্ধা ইউনিয়নের ইজিপিপি ৪টি প্রকল্পে! জানা যায়, গত ২৬নভেম্বর/২০২২ইং থেকে ইসলামপুর উপজেলায় ২০২২-২০২৩ইং অর্থ বছরের
অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির(ইজিপিপি)ওয়েজ প্রকল্পের ১২টি ইউনিয়নে ৫৫টি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। ৪০০টাকা দৈনিক হাজিরায় শ্রমিকরা ৪০দিন পর্যন্ত প্রকল্প গুলোতে কাজ করবে। এদিকে কাজ শুরুর ১৪ দিন পর রবিবার ১১ডিসেম্বর পলবান্ধা উনিয়নের ৪টি প্রকল্প সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখে গেছে, কাজ শুরুর ১৪ কর্মদিবসে ৪ প্রকল্পে এক টুপা মাটিও পড়েনি। নেই এলাকায় প্রকল্পের কার্যাদেশ সম্বলিত কোন প্রকল্পের সাইন বোর্ড। অথচ শ্রমিকদের দৈনিক হাজিরা ভিত্তিতে ৪০দিনের কাজের পলবান্ধা ইউনিয়নে বরাদ্ধ রয়েছে ২১লাখ ৭৬হাজার টাকা। এছাড়াও নন ওয়েজ বাবদও বরাদ্ধ রয়েছে।

কাগজে কলমে প্রকল্পের নাম, শ্রমিক তালিকা ও বরাদ্ধ থাকলেও বাস্তবের কাজের কোন মিল নেই, কোন প্রকল্পের কাজে নেই শ্রমিক। সরকারের লাখ লাখ টাকা হরিলোটের জন্য চলছে কর্মদিবস ফাঁকি। বিষয়টি দেখারও কেউ নেই। প্রকল্পগুলোর তালিকা মোতাবেক ৩২নং চরবাটিকারী ফজর আলীর বাড়ি হতে জালালের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মেরামত, শ্রমিক রয়েছে ৩০জন, টাকার পরিমাণ ৪লাখ ৮০হাজার। ৩৩নং-উত্তর বাটিকামারী আকন্দ বাড়ি জামে মসজিদের সামনে পাকা রাস্তার মাথা হতে সেকান্দর আলীর বাড়ির পাকা রাস্তা হতে শামছুল আকন্দের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মেরামত, এখানে ৩৩জন শ্রমিকের বরাদ্ধ ৫লক্ষ ২৮হাজার টাকা। ৩৪নং-উত্তর বাটিকামারী জামাতুল্লাহ হাজীর বাড়ির পাকা রাস্তা হতে শামছুল আকন্দের বাড়ি রাস্তা মেরামত।


৩৫জন শ্রমিকের বরাদ্ধ রয়েছে ৫লাখ ৬০ হাজার।৩৫ নং- সিরাজাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে মাটি ভরাট। ৩৮জন শ্রমিকের বরাদ্ধ রয়েছে লাখ ৮হাজার টাকা বরাদ্ধ রয়েছে। এব্যাপারে ৩২নং সভাপতি মন্নো জোদ্ধার জানান, তিনি প্রকল্পের সভাপতি হয়েছেন ঠিকই কিন্তু শ্রমিক তালিকা ও কাজের শ্রমিক না পাওয়ায় তিনি কাজ শুরু করতে পারেন নি। জনস্বার্থে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে তার কিন্তু চেয়ারম্যান শ্রমিক না দেওয়ায় কাজ করতে পারছেনা। ২৪নং প্রকল্প সভাপতি মিনা বেগম ও তার স্বামী জানান, চেয়ারম্যান কাজ শুরু করার হুকুম না দেওয়ায় তিনি কাজ শুরু করেননি। চেয়ারম্যান বল্লে ৭দিনেই মধ্যেই ট্রাক্টর দিয়ে রাস্তা মাটি ফেলে প্রকল্পের কাজ শেষ করবো।


৩৫ ও ৩৩ নং প্রকল্পের সভাপতি ফজলু ও শিলা বেগমের সাথে কথা বলার চেষ্টা করে তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রকল্প এলাকারা বাসিন্দাদের দাবী, সরকারে কর্মসৃজন প্রকল্প গুলি সঠিকভাবে বাস্তাবায়ন হলে অনেক উপকার হবে। গ্রামের উন্নয়ন হবে। কিন্ত কাজ শুরু না হওয়ায় তারা হতাশা প্রকাশ করেন। এব্যাপারে ইউনিয় প্রকল্প বাস্তাবায়ন কমিটি সদস্য সচিব পলাবান্ধা ইউপি সচিব মিজানুর রহমান
জানান, তিনি কর্মসৃজন কাজের শুরুর ব্যাপারে কিছুই জানেন না; চেয়ারম্যান সব জানেন। এব্যাপারে পলবান্ধা ইউনিয়নের দায়িত্ব প্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার আনোয়ার হোসেন জানান, কাজ শুরুর ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। এ আগেই একই চিত্র ছিল। এব্যাপারে তিনি সঠিক প্রতিবেদন
উপজেলায় দাখিল করেও কোন লাভ হয়না। আপনারা দেখেন কি হয়।


এব্যাপারে পলবান্ধা ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান কমল কোন সঠিক জবাব না দিতে পেরে বলেন, একটি প্রকল্পের তিনি মাটি কেটে শেষ করেছেন। বাকি গুলিও তিনি কাজ করবেন। এব্যাপারে ইসলামপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান টিটু জানান, কর্মদিবস
ফাঁিক বা কাজ না করলে প্রকল্পের বিল দেওয়া হবে না। ছবি ক্যাপশন-ইসলামপুর পলবান্ধা কর্মদিবসে শ্রমিক শুন্য ৪টি ইজিপিপি প্রকল্প।

comment / reply_from