• Saturday, 04 February 2023
আক্কেলপুরে ধানের বাম্পার ফলন, দামে খুশি কৃষকরা

আক্কেলপুরে ধানের বাম্পার ফলন, দামে খুশি কৃষকরা

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা : 
 
জয়পুরহাটরের আক্কেলপুরে পুরোদমে শুরু হয়েছে আমন  ধান কাটা-মাড়াই। ধান কাটা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে কৃষক ও দিনমজুরদেরও। কৃষকের ঘরের গোলা ভরতে শুরু করেছে ধানে। পৌরসভা সহ, উপজেলার রুকিন্দীপুর, গোপীনাথপুর, সোনামুখী, তিলকপুর, রায়কালী ৫টি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, এ বছর তেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। ধানের বাজারদর ভালো থাকায় এ বছর লাভবান হবেন বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
 
কৃষকের বাড়িতে নতুন ধানের মৌ মৌ গন্ধ ছড়াচ্ছে। নতুন ধান কেটে মাড়াই করে খড়ের দামও পাচ্ছেন তারা। আগাম জাতের ধান কেটে ওই জমিতে আলু, সরিষা, গমসহ শীতকালীন সবজি আবাদও করা হচ্ছে।
 
আমন ধান রোপণের পর থেকে শস্য না কাটা পর্যন্ত কৃষি শ্রমিকদের হাতে কোন কাজ থাকতো না। বর্তমানে কৃষি শ্রমিকেরা ভুট্টা, আলু, সরিষা ও গমসহ বিভিন্ন জমিতে কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন।
 
 
আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১০ হাজার ৫শত হেক্টর। অর্জিত হয়েছে ১০হাজার ৬শ১০হেক্টর। প্রকারভেদে প্রতি মণ ধান বিক্রি হয়েছে ১৪শ থেকে ১৫শ টাকা পর্যন্ত।
 
আক্কেরপুর পৌর সভার পূর্ব আমুট্ট গ্রামের মোতালেব সরদার জানান, তিনি এবার আমন মৌসুমে স্বর্ণ পাঁচ জাতের আগাম ধান আড়াই বিঘা জমিতে আবাদ করে বেশ লাভবান হয়েছেন। প্রতি মন ধান ১৪শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছেন। আগাম জাতের ধান কাটার পর সেই জমিতে সরিষা চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
 
আক্কেরপুর উপজেলার তেমারিয়া গ্রামের কৃষক রাশেদুল ইসলাম পাইলট জানান,এবার আমন মৌসুমে বিভিন্ন জাতের আগাম ধান ২০বিঘা জমিতে আবাদ করে বেশ লাভবান হয়েছেন। বিঘা প্রতি দিনমজুরদের ধান কাটতে দিতে হচ্ছে ৩থেকে ৪ হাজার টাকা, পানি সেচ ৮শ থেকে ১হাজার টাকা দিতে হয়েছে, সার, বীজসহ প্রায় এক বিঘা জমিতে খরচ হচ্ছে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত এত প্রতি বিঘায় ধান হচ্ছে ১৬ থেকে ১৮মন তা বাজারে ১৩শ থেকে ১৪ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
 
আক্কেরপুর পৌর সভার পূর্ব আমুট্ট গ্রামের কৃষক সোবাহান মৃধা জানান, এবার ২ বিঘা জমিতে আমন মৌসুমে স্বর্ণ পাঁচ জাতের আগাম ধান আবাদ করেছেন, ফলনও ভালো হয়েছে, কিন্তু দিনমজুরদের বিঘা প্রতি ৪থেকে ৫ টাকা দিতে হচ্ছে, তাই নিজে ও ছেলে দুজন মিলে ধান কাটার ফলে এতে লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছি।
আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ ইমরান হোসেন জানান, উপজেলায় আগাম জাতের রোপা আমন, ব্রি ধান- ৭১, ৭৫, ৮১, ৮৭,৯০, বিনা ধান-৭,১৭, স্বর্ণ পাঁচ, রনজিত এবং হাইব্রিড জাতের কিছু ধান ইতোমধ্যে কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। কৃষকদের চাহিদা মতো সার সরবরাহ পাওয়ায় ধানে রোগ বালাই কম হয়েছে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের বাম্পার ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে দাম বেশি পাওয়ায় কৃষকেরা লাভের মুখ দেখছে কৃষকরা।

comment / reply_from