জয়া আহসানের ১৩ বছরের সংসার ভাঙার কারণ ফাঁস (ভিডিও)

0
542
Spread the love

মডেলিং ও ছোটপর্দা মাত করার পর দেশের বড়পর্দা কাঁপিয়েছেন সুদর্শিনী চিত্রনায়িকা জয়া আহসান।

এপার বাংলার অগণিত চলচ্চিত্রপ্রেমীর হৃদয় জয় করে নেওয়ার পর ওপার বাংলায়ও উঁচু মাপের চিত্রনায়িকা হিসেবে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন বাংলাদেশের মেয়ে জয়া।

জয়ার এই জয়যাত্রায় অনেক সাফল্যই ধরা দিয়েছে। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশে চার-চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের পাশাপাশি ভারতীয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছেন গুণী এই অভিনেত্রী।

ব্যক্তিজীবনে বর্তমানে সিঙ্গেল হলেও একটা সময়ে প্রেম-ভালোবাসায় ডুবেছিলেন জয়া। মডেল-অভিনেতা ফয়সাল মাসুদকে বিয়ে করে টানা এক যুগেরও বেশি সময় সংসার করেছেন। কিন্তু টেকেনি সেই বিয়ে।

২০১১ সালে বিচ্ছেদের পর কেটে গেছে আরও প্রায় এক যুগ। এই দীর্ঘ সময়ে জয়া এবং ফয়সাল কেউই আর বিয়ের পথ মাড়াননি। তারা দুজনই এখন সিঙ্গেল।

তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনের হাঁড়ির খবর জানার জন্য মুখিয়ে থাকেন তাদের ভক্তরা। জয়া ভক্তরাও তার ব্যতিক্রম নন।

বাংলাদেশ ও কলকাতা মিলিয়ে জয়ার ভক্তের সংখ্যা নেহাত কম নয়। তারা জয়ার একান্ত ভক্ত হলেও অনেকেরই হয়তো জানা নেই জয়া টানা ১৩ বছরের সংসার কেন ভেঙে দিয়েছিলেন।

বিষয়টি জানার জন্য তাদের আগ্রহের কমতি না থাকলেও একান্ত ব্যক্তিগত ও স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে হয়তো দ্বিধা কাজ করেছে তাদের ভেতর।

জয়া ভক্তদের কৌতূহলের কথা বিবেচনায় নিয়ে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা সম্প্রতি ফাঁস করেছে জয়ার দীর্ঘদিনের সংসার ভাঙার নেপথ্যের কারণ।

জয়ার সাবেক স্বামী মডেল ও অভিনেতা ফয়সাল মাসুদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আনন্দবাজার জানিয়েছে, জয়ার প্রথম স্বামী ফয়সাল মাসুদ। তাকে ভালোবেসেই বিয়ে করেন জয়া।

জমিদার পরিবারের সন্তান ধণাঢ্য ফয়সালের সঙ্গে জয়ার প্রথম সাক্ষাৎ হয় ১৯৯৮ সালে। একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে জুটি হয়েছিলেন তারা। সেই বিজ্ঞাপনচিত্রের শুটিংয়েই তাদের প্রথম দেখা হয়। প্রথম দর্শনের অভিজ্ঞতাটা অবশ্য সুখকর ছিল না ফয়সালের জন্য। শুটিং সেটে দেরি করে আসায় জয়ার বকুনি খেতে হয়েছিল ফয়সালকে।

বকুনিটা অবশ্য পাওনাই ছিল ফয়সালের। কারণ মেকআপ করে সেজেগুজে প্রায় এক ঘন্টা ধরে তার অপেক্ষায় থাকতে হয়েছিল জয়াকে। তাই ফয়সালকে দেখার পর রাগ আর সামলে রাখতে পারেননি জয়া। ইচ্ছেমতো রাগ ঝেড়েছেন বেচারা ফয়সালের ওপর।

পরিচয়ের শুরুটা মধুর না হলেও পরবর্তী সময়ে জয়া ও ফয়সালের মধ্যে মধুর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রথম দিনের রাগ ধীরে ধীরে অনুরাগে রূপান্তরিত হয়। নিয়মিত কথা হতে থাকে ফোনে। একটা সময়ে একে অন্যের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েন তারা। তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক।

জয়া-ফয়সালের প্রেমের পরিণতি গড়ায় বিয়েতে। প্রেমের সম্পর্ক খুব বেশি দীর্ঘায়িত না করে যে বছর (১৯৯৮ সাল) তাদের পরিচয় ও প্রেম সেই বছরেরই ১৪ মে বিয়ের পর্ব সেরে ফেলেন এই তারকা জুটি।

সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। টানা ১৩ বছর এক ছাদের নীচে থাকার পর তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে ফাটল ধরে। ২০১১ সালে দীর্ঘ ১৩ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানেন তারা।

কিন্তু কেন জয়া ও ফয়সালের সংসার ভেঙে গেল তা এক রহস্যই রয়ে যায়। অবশেষে সেই রহস্যের ধূম্রজাল সরালেন ফয়সাল নিজেই। জানালেন তাদের সুখের সংসার ভেঙে যাওয়ার নেপথ্য কারণ।

ফয়সালের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের পরও ক্যামেরার সামনে জুটি বেঁধে কাজ করেছেন তারা। তাদের জুটিকে সাদরেই গ্রহণ করেছিলেন দর্শক। জয়া-ফয়সাল জুটি জনপ্রিয়ও হয়ে উঠেছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে ফয়সালকে ছাপিয়ে জনপ্রিয়তার মাপকাঠিতে তরতর করে এগিয়ে যেতে থাকেন জয়া।

জনপ্রিয়তার দৌড়ে জয়ার চেয়ে পিছিয়ে পড়েন ফয়সাল। তাদের মধ্যে শুরু হয় ইগো প্রবলেম। সম্ভবত জয়ার পেশাগত সাফল্যই তাদের সম্পর্কে কালো ছায়া ফেলে। শুরু হয় মনোমালিন্য, বাড়তে থাকে দূরত্ব। বড় হতে থাকে তাদের সম্পর্কের দেয়ালের ফাটল।

ফয়সাল অবশ্য সেই ফাটল মেরামতের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে বড্ড দেরি হয়ে গেছে! জয়ার পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া না মেলায় তাদের ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক আর জোড়া লাগেনি। ২০১১ সালে বিচ্ছেদের মতো কঠিন পথে হাঁটেন তারা দুজন। সেই থেকে সিঙ্গেলই আছেন জয়া ও ফয়সাল।

জয়া-ফয়সাল
জয়া-ফয়সাল