মেয়ে হারানোর এক মাস পরই চলে গেলেন গাফ্‌ফার চৌধুরী (ভিডিও)

144

মেয়েকে হারানোর ঠিক এক মাস ছয়দিনের মাথায় না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বিশিষ্ট সাংবাদিক, কলামিস্ট, গীতিকার ও সাহিত্যিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী। লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তিনি (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে প্রবীণ এই লেখক ও সাংবাদিকের বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। গত মাসের ১৩ তারিখে লন্ডনেই মারা যান তার মেয়ে বিনীতা চৌধুরী (৪৯)।

লন্ডনের বার্নেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী। বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি।

কিডনিজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে বেশ কয়েক মাস ধরেই শয্যাশায়ী ছিলেন আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী। এর মধ্যেই গত এপ্রিল মাসে তার করোনা শনাক্ত হয়। এছাড়া মেয়ের মৃত্যুতে মানসিকভাবে প্রচণ্ড ভেঙে পড়েন তিনি।

ভাষা আন্দোলন নিয়ে রচিত চিরস্মরণীয় ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের রচয়িতা আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এর আগে গত ১৩ এপ্রিল বিকেলে লন্ডনের ইউসিএল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাত্র ৪৯ বছর বয়সে মারা যান আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরীর ছোট মেয়ে বিনীতা চৌধুরী। তিনি কয়েক মাস ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন।

আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরীর চার মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে বিনীতা ছিলেন সবার ছোট। তিনি জ্যেষ্ঠ অর্থনৈতিক পরামর্শদাতা হিসেবে নামী-দামী বিভিন্ন কোম্পানিতে কাজ করতেন। আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরীর সঙ্গে একই বাড়িতে থাকতেন বিনীতা চৌধুরী।

আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর জন্ম ১৯৩৪ সালে। বরিশাল জেলার উলানিয়া গ্রামের চৌধুরী বাড়িতে জন্ম হয়েছিল তার। তিনি ছিলেন একাধারে সাংবাদিক, কলাম লেখক, গীতিকার, সাহিত্যিক ও গ্রন্থকার।

আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন নিয়ে অমর গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ রচনার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির হৃদয়ের মণিকোঠায় ঠাঁই পেয়েছেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে মুজিবনগর সরকারে মাধ্যমে নিবন্ধিত স্বাধীন বাংলার প্রথম পত্রিকা সাপ্তাহিক জয় বাংলার প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন তিনি। নিজের সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী।