৪৮ ঘণ্টা নয়, প্রায় দশ বছর ধরে মানিকগঞ্জে গ্যাস সংকট

0
86
৪৮ ঘণ্টা নয়, প্রায় দশ বছর ধরে মানিকগঞ্জে গ্যাস সংকট
৪৮ ঘণ্টা নয়, প্রায় দশ বছর ধরে মানিকগঞ্জে গ্যাস সংকট
Spread the love

বাবুল আহমেদ মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জে তিতাস গ্যাসের সংকট গত প্রায় দশ বছর ধরে। ঈদের মধ্যেও সে সংকট কাটেনি। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি

দিয়ে জানিয়ে ছিল ঈদের দিন রাত দশটার পর থেকে ৪৮ ঘণ্টা মানিকগঞ্জে গ্যাস সরবরাহ থাকবে না। মাইক নামিয়ে ঘোষণাও দেয়া হয়। এমন ঘোষণাকে মানিকগঞ্জবাসি

তাদের সাথে হাস্যকর বলে মনে করছেন। যেখানে বছরের পর বছর গ্যাস পাই না মানিকগঞ্জবাসি, সেখানে আবার ৪৮ ঘণ্টা বন্ধ। গ্যাস না পেওয় মানিকগঞ্জের প্রতিটি গ্রাহকের গ্যাস বিল দিতে হয়। 

 গ্রাহক আজাহার মিয়া বলেন, সারা বছরই আমরা ঠিক মত গ্যাস পাইনা। কোনো কোনো দিন ২৪ ঘন্টায় মধ্য রাত ৩টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত গ্যাস থাকে। সেটাও আবার

সব দিন না। ঈদের দিন বিকেলে রান্না-বান্না দুরে থাক সামান্য পানি ফোটানোর মতও গ্যাস সরবরাহ ছিলোনা। তিতাস অফিস পত্রিকায় ও মাইকিন করে বলেছিলেন। যে

ঈদের দিন রাত ১০টা পরে গ্যাস থাকবেনা। আমরাতো গ্যাসই পাইনা সেখানে ৪৮ ঘন্টাকি আর ১শ ঘন্টা কি। তিতাস গ্যাস অফিসের এসব কর্মকাণ্ডে হাস্যকর মনে হয়। শুধু মাত্র হারুন না মানিকগঞ্জের প্রতিটি গ্রাহকের তিতাস অফিসের প্রতি এমন ধারণা।  গ্রাহক রিপন হোসেন বলেন, গ্যাস না পেয়েও প্রতিমাসে ৯৭৫ টাকা সরকারকে বিল

দিতে হচ্ছে। তিতাসের গ্যাস পাইপে না থাকায় প্রতিমাসে ১টি করে সিলিন্ডার গ্যাসের বতল কিনতে হচ্ছে। যার দাম এখন ১৫শ টাকা। তিনি বলেন, আমি ছোট একটা চাকরি করি। এখন বাজারের সব কিছুরি দাম অনেক। প্রতিমাসে আমার সংসার চালাতে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা ধার করতে হচ্ছে। তাই সরকারের কাছে দাবি করছি, গ্যাস যুদি না

দিতে পারেন, আমাদের কাছ থেকে বিল নিয়েন না।  পৌরসভার মেয়র রমজান আলীও একই অভিযোগ করলেন। তিনি গ্যাস সংকটকেই মানিকগঞ্জ পৌরসভার সবচাইতে বড় সংকট বলে দাবি করলেন।  গ্যাস সরবরাহ  না থাকলেও পৌরবাসীকে নিয়মিত বিল দিতে হচ্ছে। এ নিয়ে প্রতিদিনই পৌরনাগরকিদের জবাবদিহি করতে হয়। ক্ষোভের

সাথে তিনি জানান গ্যাসের দাবিতে আন্দোলন করায় তিনিসহ তাঁর পরিবারের অনেকে মামলায় জড়িয়ে পরতে হয়েছিল।  জানা গেছে, ১৯৮৮ সালের দিকে মানিকগঞ্জ পৌর

এলাকায় গ্যাসের সংযোগ দেয়া শুরু হয়। বর্তমানে ১২ হাজারের বেশি আবাসিক গ্রাহক রয়েছে। এছাড়াও ১২টি গ্যাস স্টেশন ও প্রায় ৩০টি কারখানায় গ্যাস সংযোগ রয়েছে। তবে গত প্রায় দশ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবারাহ নেই। তিন থেকে চার ঘন্টা গ্যাস থাকে। তাও পর্যাপ্ত নয়।

মানিকগঞ্জের জোনাল গ্যাস অফিসের প্রকৌশলী মুহাম্মদ আব্দুল রহিম বলেন, ‘জাতীয় ভাবেই গ্যাসের উৎপাদন কম। সে কারণে লাইনে গ্যাস কম থাকে। মানিকগঞ্জে গ্যাসের পাইপ শেষ সিমানায়। সে কারণে মানিকগঞ্জবাসি গ্যাস কম পায়।