হরিরামপুরে কৃষি কাজে নারীরাও এগিয়ে

73

যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে—বহুল প্রচলিত এ প্রবাদটিকে কেন্দ্র করেই বর্তমানে দেশের সকল ক্ষেত্রেই পুরুষদের পাশাপাশি নারীরা চলছে সমানতালে। ঘরের সকল কাজকর্ম গুটিয়ে নারীরা আজ বাইরে নেমে এসেছে আটঘাট বেঁধেই। নারীদের এই বিপ্লব পৌঁছে গেছে কৃষিতেও। ফলে তারা কৃষি কাজেও পর্যাপ্ত পরিমাণে ভূমিকা রাখছে ।মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান কন্দ পিয়াজ (মুড়ি কাটা পিয়াজ) নিয়ে প্রতিবেদনে ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা যায়, কৃষি কাজে নারীদের এমন ভূমিকা। শুধু তাই নয়, দুস্থ পরিবারের স্বল্প মেয়াদী কর্মসংস্থান এবং গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে নারীদের সংগ্রামী জীবন ফুটে উঠেছে। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের স্বল্প মেয়াদী কর্মসংস্থান এবং গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে ৪০দিনের কর্মসূচিতে কাজ করছে শতশত নারী শ্রমিক।

উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা যায়, পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও কৃষিকাজে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে। উপজেলার গালা ইউনিয়নের সাখিনী ফসলের মাঠে গেলে দেখা যায়, চারা পিয়াজ ক্ষেতে পাইপ দিয়ে পানি দিচ্ছে চল্লিশোর্ধ বয়স্ক এক নারী। জানতে চাইলে ওই নারী বলেন, “কি করুম, সংসারের কামকাইজের পাশাপাশি বাড়িওয়ালার সাথে ক্ষেতখামারে একটু সাহায্য করি।”

বাল্লা ইউনিয়নের মধ্যপাড়া ফসলের মাঠে দেখা যায়, ৩/৪ জন নারী একটি ক্ষেতে কন্দ পিয়াজ (মুড়ি কাটা) কাটছে। জানতে চাইলে ঝিটকা সরদার পাড়া গ্রামের সুফিয়া বেগম জানান, সংসারের কাজের ফাঁকে এ সময় পিয়াজ কাটি। মণ প্রতি ৩০/৪০ টাকা পাই। গরীব মানুষ কি করুম। স্বামী রিক্সা চালায়। আমি ঘরের কাম শেষ কইরা অবসরে পিয়াজ কাটার কাম করি।” দিনে ৪/৫ মন পিয়াজ কাটা যায় বলেও তিনি জানান।

মধ্যপাড়া গ্রামের রোকসানা জানান, “আমি আমার বাবাকে সহযোগিতা করতে পিয়াজ কাটছি। মানুষ দিয়ে কাটাইলে মণ প্রতি ৫০ টাকা করে দিতে হয়। কৃষি কাজে যে খরচ তাতে মানুষ দিয়ে কাজ করালে তেমন লাভ হয় না।”

তার পাশের জমিতেই পাকা সরিষার গাছ টেনে তুলছে একই গ্রামের হালিমা বেগম (৪৫)। দেখা যায় স্বামী স্ত্রী মিলেই এই কাজ করছেন। হালিমা জানান, “কাজের লোকের অভাবে সংসারের কাজ শেষ কইরা সরিষা গাছ তুলতে আইছি। আমার ছেলে বিদেশ থাকে। নিজের জমি কাজ করতে অসুবিধা কি। একটা কামলা নিলে তিনবেলা খাওয়াসহ প্রায় ৬/৭শো টাকা খরচ লাগে। কৃষি কাজে এখন নিজেরা না করতে পারলে টাকা দেখা যায় না। তবে সংসারের সকল কাজ কর্ম শেষ কইরা কৃষিকাজে সহায়তা করতে ভালই লাগে বলেও তিনি জানান।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি রবি মৌসুমে এ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে কন্দ পিয়াজের (মুড়ি কাটা) আবাদ হয়েছে ৫৯০ হেক্টর জমিতে। যা গত মৌসুমে ছিল ৩৯০ হেক্টর। উৎপাদন হয়েছে প্রতি হেক্টরে ১৫ মেট্রিকটন। যা গত মৌসুমি ছিল প্রতি হেক্টরে ১২.৬৮ মেট্রিকটন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার একাধিক কৃষক জানান, গত বছরের চেয়ে চলতি মৌসুমে কন্দ (মুড়িকাটা) পিয়াজের ফলন অনেক ভাল হয়েছে। কিন্তু পিয়াজের বাজার দর ভাল না হলে শুধু পিয়াজের উৎপাদন ভাল হলেই হবে না। সাথে দামও ভাল হতে হবে। তবেই হয়তো কৃষক বাঁচবে।

কৃষিতে নারীদের ভূমিকা নিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল গফফার বলেন, “আমাদের নারীরা কিন্ত গৃহস্থালির কাজের পাশাপাশি সংসারে আরও একটু উন্নতির লক্ষ্যে তারা মাঠে চলে আসছে। এটা কিন্তু আমাদের অনেক বড় পাওয়া। তবে শুধু কৃষিতেই নয়, এখন সর্বক্ষেত্রেই নারীর ভূমিকা অপরিসীম।”