হবিগঞ্জে পানিবন্দি ৫ লাখ মানুষ

69

মোঃজুনাইদ চৌধুরী, হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ-ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে হবিগঞ্জ জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। এ জেলার চার উপজেলার প্রায় ৫ লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে এবং বন্যা কবলিত এলাকায় আটকা পড়া মানুষজন খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সঙ্কটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এছাড়া বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগের মাত্রা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।

জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, জেলার আজমিরীগঞ্জ, নবীগঞ্জ, লাখাই ও বানিয়াচং উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৪ হাজার ৫৮১টি পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১৮ হাজার ৪১০ জন মানুষ। তাদের জন্য এরই মধ্যে সরকার থেকে ৭৬৩ টন চাল, ২০ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ টাকা, ২ হাজার শুকনো খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে ১১৮টি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নবীগঞ্জ ও আজমিরীগঞ্জের পর বানিয়াচং, লাখাই, হবিগঞ্জ সদর, বাহুবল উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। অসংখ্য বাড়িঘর পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। এতে প্রায় ৫ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। ডুবে গেছে টিউবওয়েল, টয়লেটও। বাড়িঘর ছেড়ে মানুষজন বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। গরু, বাছুর, ছাগলসহ গবাদি পশু নিয়ে তারা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে উঠেছেন।

জেলার লাখাই উপজেলার বুল্লা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খোকন গোপ বলেন, এ ইউনিয়নের ২৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দিদের জন্য ইউনিয়নে পাঁচটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এরই মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে মানুষ উঠতে শুরু করেছেন। আবার অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছে না। তারা উঁচু এলাকায় অন্যের বাড়িতে গিয়ে উঠছেন। পর্যায়ক্রমে তাদের ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। বিত্তবানদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহ জহুরুল হোসেন জানান, নবীগঞ্জ, লাখাই, আজমিরীগঞ্জ ও বানিয়াচং উপজেলার শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কয়েক হাজার মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে। দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত আছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বন্যা দুর্গত এলাকায় গিয়ে ত্রাণ বিতরণ করছেন। পাশাপাশি ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগেও ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে।