হঠাৎ বৃষ্টিতে চাটমোহরের ইট ভাটা মালিকদের প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষয় ক্ষতি

129

শুক্রবার ভোর রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টির প্রভাবে পাবনার চাটমোহরের ইট ভাটা মালিকদের আনুমানিক প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে। এ এলাকার ইটভাটা মালিকদের বিপুল পরিমান কাঁচা ইট ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে।

জানা গেছে, চাটমোহরের হরিপুর, গুনাইগাছা, বিলচলন, মুলগ্রাম ও ডিবিগ্রাম ইউনিয়নে নয়টি ইটের ভাটা রয়েছে। এ ইট ভাটাগুলোতে পুরোদমে ইট উৎপাদনের কাজ চলছিল। শুক্রবার ভোররাত থেকে বৃষ্টি শুরু হলে এর প্রভাবে প্রত্যেকটি ইট ভাটা মালিকদের কম বেশি সকলেই ক্ষতির শিকার হয়েছেন।

কোন কোন ভাটার মালিক কিছু কাঁচা ইট পলিথিন দিয়ে ঢেকে বাঁচানোর চেষ্টা ও করেছেন। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় ভেঙ্গে চুরে যাওয়া কাঁচা ইট অপসারণ করতে পারেননি তারা। ৪ ফেব্রুয়ারী সরেজমিন কিছু ইট ভাটায় গেলে চোখে পরে এমন দৃশ্য।

চাটমোহরের ধুলাউড়ি এলাকায় অবস্থিত এ.আর.টি ইট ভাটার মালিক পক্ষের অংশীদার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, চাটমোহরের বিভিন্ন এলাকায় ৯টি ইট ভাটা চলমান রয়েছে। শুক্রবারের বৃষ্টিতে তাদের ইট ভাটায় অন্তত চার লাখ কাঁচা ইট নষ্ট হয়ে গেছে। এই ইটগুলো পোড়াতে পারলে তা অন্তত ৩৪ লাখ টাকা বিক্রি করা যেত।মাটি পুনর্ব্যবহার করা সম্ভব হলেও এ ইটগুলো তৈরীতে শ্রমিকদের টাকা দিতে হয়েছে আবার অপসারণ করতেও টাকা দিতে হবে।

সি.টি.ভি ব্রান্ডের ইটভাটা মালিক পক্ষের অংশীদার আব্দুল খালেক জানান, চাটমোহরের রামচন্দ্রপুর ও ধুলাউড়ি এলাকায় দুইটি ইটের ভাটা রয়েছে তাদের। বৃষ্টিতে তাদের দুই ইটভাটায় অন্তত ৮ লাখ কাঁচা ইট নষ্ট হয়েছে। ইটগুলো পোড়াতে পারলে প্রায় ৬৮ লাখ টাকা বিক্রি করা যেত।

অন্যান্য ইট ভাটা মালিকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে এসে অনাকাঙ্খিত বৃষ্টির কারণে তাদের অনেক লোকসান হয়ে গেল। নতুন ইট তৈরী বন্ধ রয়েছে। শ্রমিকেরাও আপাতত কয়েক দিন বেকার হয়ে বসে থাকবেন। কয়লার মূল্য বৃদ্ধি, বিরুপ আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাতের কারণে ইট ভাটা মালিকরা অর্থনৈতিক যে বড় ধরণের ক্ষতির সম্মুখিন হলেন তা কাটিয়ে ওঠা অনেকের পক্ষেই কষ্টকর হয়ে পরবে বলে জানান ইট ভাটার মালিক পক্ষ।