স্যামসাংয়ের নতুন ইমেজ সেন্সর উন্মোচন

66

স্মার্টফোন খাতে ক্ষুদ্রাকৃতির ০.৫৬ মাইক্রো মিটার সম্বলিত নতুন ইমেজ সেন্সর নিয়ে এসেছে স্যামসাং। সেন্সরটি ব্যবহারকারীদের দ্রুত ও নিখুঁত অটোফোকাসসহ দুর্দান্ত রেজ্যুলেশনের ছবি তুলতে সহায়তা করবে।

স্মার্টফোন খাতের ক্ষুদ্রাকৃতির ০.৫৬- মাইক্রোমিটার (মিউএম)-পিক্সেলসহ সম্প্রতি স্যামসাং এর সর্ম্পূণ নতুন ২০০ মেগাপিক্সেল আইএসওসিইএলএল এইচপি৩ ইমেজ সেন্সর উন্মোচন করেছে। নতুন এ প্রযুক্তির মাধ্যমে স্যামসাং ব্যবহারকারীরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিখুঁত ফোকাস ও অসাধারণ রেজ্যুলেশনে ছবি ক্যামেরাবন্দী করতে পারবেন।

পরবর্তী প্রজন্মের ট্রেন্ড নির্ধারণে স্যামসাং অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো বাজারে উন্মোচিত হওয়া ১০৮ মেগাপিক্সেল ইমেজ সেন্সরের আল্ট্রা-হাই-রেজ্যুলেশনের ক্যামেরাই এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। চলতি বছর, আইএসওসিইএলএল এইচপি৩ ইমেজ সেন্সরে স্যামসাং এর আগের ০.৬৪মিউএম’র তুলনায় ১২ শতাংশ ক্ষুদ্রাকৃতির পিক্সেল ব্যবহার করেছে। ১/১.৪” অপটিক্যাল ফরম্যাটের (এটি ক্যামেরার লেন্সের মাধ্যমে ধারণ করা এরিয়ার ডায়ামিটার) এ ডিভাইসের ইমেজ সেন্সরে ২০০ মিলিয়ন সেন্সর প্যাক রয়েছে। এ বিষয়গুলো একটি বিষয়কে স্পষ্ট করে যে, আইএসওসিইএলএল ক্যামেরা মডিউল সারফেস এরিয়া’র আনুমানিক ২০ শতাংশ রিডাকশন করতে সক্ষম, যা স্মার্টফোন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রিমিয়াম ডিভাইসগুলোকে স্লিম রাখতে সাহায্য করে।

আইএসওসিইএলএল এইচপি৩ ইমেজ সেন্সরে রয়েছে সুপার কিউপিডি অটো-ফোকাসিং সল্যুশন, যা সব সেন্সর পিক্সেলকে অটো-ফোকাসিংয়ে সক্ষম করে তুলবে। সুপার কিউপিডি’র চারটি’র প্রতিটি ক্লাস্টারে একটি একক লেন্স রয়েছে, যা হরাইজন্টাল ও ভার্টিকাল উভয় দিকের ফেজ এর মধ্যে পার্থক্য শনাক্ত করে। এটি স্মার্টফোন দিয়ে ছবি তোলার সময় ব্যবহারকারীদের নিখুঁত ও দ্রুততার সাথে অটো-ফোকাসিংয়ের বিষয়ের পথকেও সুগম করে। এ ইমেজ সেন্সরটি ব্যবহারকারীদের ৩০ ফ্রেম প্রতি সেকেন্ডে ( এফপিএস) এইটকে ভিডিও অথবা ১২০ ফ্রেম প্রতি সেকেন্ডে ফোরকে ভিডিও ধারণে সক্ষম করবে। উল্লেখ্য যে, এইটকে ভিডিও ধারণের সময় ডেপথ অব ফিল্ড কিছুটা কম পাওয়া যেতে পারে। সুপার কিউপিডি সল্যুশনের সমন্বয়ে ব্যবহারকারীরা মোবাইল ডিভাইস দিয়ে সিনেম্যাটিক ফুটেজের লুক অ্যান্ড ফিল পাওয়া যাবে।

লো-লাইটে আইওসিইএলএল এইচপি৩ সেন্সর দিয়ে উন্নত মানের ছবি তোলা যাবে। আইএসওসিইএলএল এইচপি৩-তে রয়েছে টেট্রা২পিক্সেল প্রযুক্তি, যা ০.৫৬মিউএম ২০০ মেগাপিক্সেল সেন্সরকে একটি ১.১২ মিউএম ৫০ মেগাপিক্সেল সেন্সরে বা ১২.৫ মেগাপিক্সেল সেন্সরকে ২.২৪মিউএম পিক্সেলের সাথে একটি ১৬ পিক্সেলে সমন্বয়ের মাধ্যমে রূপান্তর করে চারটি পিক্সেলকে একত্রিত করে। উন্নত প্রযুক্তির বড় আকারের পিক্সেলের এ সেন্সরের মাধ্যমে ইনডোর বা রাতের বেলায় চমৎকার ও নান্দনিক সব ছবি তোলা যাবে।

এ নিয়ে স্যামসাং মোবাইলের হেড অব মোবাইল মো. মূয়ীদুর রহমান বলেন, “সেমিকন্ডাক্টার প্রযুক্তি খাতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান স্যামসাং সবসময়ই এ খাতের র্শীষস্থানীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে অত্যাধুনিক ইমেজ সেন্সর নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। স্যামসাংয়ের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এ ইমেজ সেন্সর ব্যবহারকারীদের ছবি তোলার সময় উন্নত রেজ্যুলেশন নিশ্চিত করবে বলে আমি মনে করি। আগামী দিনগুলোতে নতুন ইমেজ সেন্সর ও উন্নত পারফরমেন্সের সেন্সর নিয়ে এসে স্যামসাং এ খাতকে নেতৃত্ব দিবে বলে আমি প্রত্যাশা করছি।”

উল্লেখ্য, স্যামসাং টেলিভিশন ও রেফ্রিজারেটরের ক্ষেত্রে বৈশ্বিকভাবে এক নম্বর ব্র্যান্ড স্যামসাং ইলেক্ট্রনিকস। রূপান্তরমূলক ধারণা ও প্রযুক্তির মাধ্যমে স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স বিশ্বব্যাপী অনুপ্রেরণামূলক এবং অগ্রগতির কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি টিভি, স্মার্টফোন, ওয়্যারেবল ডিভাইস, ট্যাবলেট, ক্যামেরা, ডিজিটাল অ্যাপ্লায়েন্স, মেডিকেল ইকুইপমেন্ট, নেটওয়ার্ক সিস্টেম, সেমিকন্ডাক্টর এবং এলইডি সল্যুশনের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছে।