স্ত্রীর সহায়তায় দফায় দফায় ধ-র্ষ-ণ, মূল আসামী গ্রেফতার

428
বাগেরহাটে স্ত্রীর সহযোগিতায় প্রতিবেশীর মেয়েকে (১২) ধ-র্ষ-ণে-র অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ধ-র্ষ-ণে-র সেই ছবি দেখিয়ে পরবর্তীতে তিনজন মিলে ওই মেয়েটিকে ফের ধ-র্ষ-ণ করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
বাগেরহাটে স্ত্রীর সহযোগিতায় প্রতিবেশীর মেয়েকে (১২) ধ-র্ষ-ণে-র অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ধ-র্ষ-ণে-র সেই ছবি দেখিয়ে পরবর্তীতে তিনজন মিলে ওই মেয়েটিকে ফের ধ-র্ষ-ণ করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

উজ্জ্বল কুমার দাস, কচুয়া (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার দোবাড়িয়া এলাকায় স্ত্রীর সহযোগিতায় প্রতিবেশীর মেয়েকে (১২) ধ-র্ষ-ণে-র অভিযোগ উঠেছে মোঃ মহিউদ্দিন হাওলাদার (৫০) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ধ-র্ষ-ণে-র সেই ছবি দেখিয়ে পরবর্তীতে খুলনার কোনো এক বাসায় নিয়ে তিনজন মিলে ওই মেয়েটিকে ফের ধ-র্ষ-ণ করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

সর্বশেষ ধ-র্ষ-ণ ও নির্যাতনের পর ২০ দিন পার হয়ে গেলেও কোনো আইনি সহায়তা পায়নি নির্যাতিতা বা তার পরিবার। উল্টো অভিযুক্তরা মামলা উঠিয়ে নেয়ার জন্য হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন।

এ ব্যাপারে নির্যাতিতা মেয়েটির দিনমজুর বাবা বলেন, গত ১০ জুলাই আনুমানিক সকাল ৯:৩০ মিনিটে আমি কাজের সন্ধানে বাড়ির বাহিরে যাই। আমার অসুস্থ স্ত্রী এনজিওর কিস্তি দিতে পাশের বাড়ি যায়। এই সুযোগে মোঃ মহিউদ্দিন হাওলাদার ও তার স্ত্রী শাহিদা ওরফে সখী বেগম নতুন জামা ক্রয় করে দেয়ার কথা বলে আমার ছোট মেয়েকে ফুসলিয়ে নিয়ে যায়। এসময় স্ত্রীর সহায়তায় স্বামী মোঃ মহিউদ্দিন হাওলাদার নিজ ঘরের মাঝে খাটের উপর প্রথমবার ধ-র্ষ-ণ করে আমার মেয়েকে। এ সময় কৌশলে সখী বেগম সেই ছবি তুলে রাখে।

মেয়েটির দিনমজুর বাবা আরও বলেন, লোকলজ্জার ভয়ে আমার মেয়ে বিষয়টি কাউকে না জানিয়ে চুপ থাকে। কিছুদিন পর প্রতিবেশী সখী বেগম ও তার স্বামীর সাথে ঝগড়া হলে সখী বেগম আমাকে ও আমার মেয়েকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। আমি ভয়ে বিষয়টি কাউকে না জানিয়ে মেয়েকে খুলনায় বড় মেয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দিই। কিন্তু গত ১৩ আগস্ট বিকেলে বড় মেয়ের বাড়ি থেকে তাকে ফুসলিয়ে নিয়ে যায় সখী বেগম ও কালাম সরদার। অনেক খোঁজাখুঁজি করে দুই দিন পরে মেয়ের খোঁজ পাই। ১৫ আগস্ট সকালে রুপসা ভ্যানস্ট্যান্ডে অসুস্থ অবস্থায় আমার মেয়েকে ফেলে রেখে যায় তারা। আমার মেয়ে সবকিছু খুলে বললে আমরা খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ভর্তি করি তাকে। ১৭ আগস্ট হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে আসি মেয়েকে। এরপর র্যাব-৬ খুলনা, রুপসা থানা ও কচুয়া থানায় একাধিকবার যাই।

মেয়েটির দিনমজুর বাবা জানান, দোবারিয়া গ্রামের মোঃ মহিউদ্দিন হাওলাদার ও তার স্ত্রী সখী বেগম পেশাদার নারী পাচারকারী ও দে-হ ব্য-ব-সা-য়ী।

নির্যাতিতা মেয়েটির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, মহিউদ্দিন হাওলাদার তাকে ধ-র্ষ-ণ করে এবং তার স্ত্রী সখী বেগম সেই ছবি তুলে রাখে। পরে তাকে ভয় দেখিয়ে খুলনার একটি বাসায় নিয়ে রাতে মহিউদ্দিন হাওলাদার, বাসচালক কালাম সরদার এবং ওই বাড়িতে থাকা আরও একজন তাকে ধ-র্ষ-ণ করে। একই সাথে তারা তাকে জোর করে যৌ-ন উ-ত্তে-জ-না-ক-র ঔষধ খাইয়েছিল।

এই ঘটনায় স্থানীয় অনেকে নির্যাতিতা মেয়েটির সাথে যে অন্যায় হয়েছে তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চেয়েছেন। এছাড়াও এলাকার অনেকে অভিযোগ করেন, সখী তার বাড়িতে খারাপ মেয়ে এনে দে-হ ব্য-ব-সা করান। এই কাজে তার স্বামী সব ধরনের সহযোগিতা করেন। এলাকার কেউ যদি তাদের অপকর্মের প্রতিবাদ করে তাহলে তাদেরকে নানারকম হুমকি-ধামকি ও হয়রানি করেন এই দম্পতি।

ঘটনাটি প্রকাশ্য আসার পর বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাহমুদ হাসান জানান, বিষয়টি তাদের জানা ছিল না। তবে বিষয়টি জানার পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এই ঘটনায় ৪ সেপ্টেম্বর নির্যাতনের শিকার কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধিত ২০০৩ এর ৯(১)/৩০ ধারায় মোঃ মহিউদ্দিন হাওলাদার ও তার সহযোগী স্ত্রী সখী বেগমের নামে কচুয়া থানায় মামলা করেন। মামলা নং-৪, তারিখ-০৪-০৯-২০২২।

মামলা হওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে মূল আসামী মোঃ মহিউদ্দিন হাওলাদারকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।