সোনাইছড়িতে জোয়ারের পানিতে ভেঙে যাচ্ছে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ

67
সোনাইছড়িতে জোয়ারের পানিতে ভেঙে যাচ্ছে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ
সোনাইছড়িতে জোয়ারের পানিতে ভেঙে যাচ্ছে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ

মামুনুর রশিদ মাহিন-সীতাকুন্ড প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের সাগর উপকূলীয় এলাকায় পাক্কা মসজিদ,ফকিরহাট প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ মিটার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যাচ্ছে।উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের সাগর উপকূলীয় এলাকায় ৩নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ ঘোড়ামরা (পাক্কা মসজিদ) এলাকায় সব চাইতে বেশী ভেঙে যাচ্ছে ভেড়িবাঁধ।

জানা যায়,অমাবস্যা-পূর্ণিমাসহ বিভিন্ন সময়ে জোয়ারের পানি বৃদ্ধির ফলে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে ঢুকে পড়লে কয়েকটি গ্রামের মানুষদের চরম ভোগান্তিতে দিন যাপন করতে হবে।এর আগে অনেকবার সাগরের লবনাক্ত পানি ঢুকে পড়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।ফলে উপকূলীয় এলাকার মানুষ প্রতিনিয়ত নানা আশংকার মধ্যে দিন পার করছে।উপজেলা সোনাইছড়ি ইউনিয়নের এরমধ্যে কয়েকদফা জোয়ারের পানিতে ভেঙে গেছে ২’শ মিটার বেশী বেড়িবাঁধ।

এছাড়া আরও ১’শ মিটার বেশী বেড়িবাঁধের বেহাল অবস্থায় আছে সেখানে সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে দুটি জেলে পল্লি।দ্রুত সময়ে সংষ্কার না হলে এ একশ মিটার বাঁধও ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।গত ১০ বছর ধরে আগষ্ট-সেপ্টেম্বর মাসে জোয়ারের পানিতে তাঁদের ঘরবাড়ি ডুবে যায়।ফলে প্রতিবছরই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তারা।স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ নুরুল করিম জানান,গত ৩বছর আগে চট্টগ্রাম ৪ সীতাকুণ্ডের মাননীয় সাংসদ আলহাজ্ব দিদারুল আলম এমপি মহোদয়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায নির্মাণ করা হয়েছিল।জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার কাজ করা না হলে এই বর্ষা র্মৌসুমেই সম্পূর্ণ বেঁড়িবাধটি বিলিন হয়ে লোকালয় জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।যদি বেড়িবাঁধ ভেঙে যায় এতে প্রায় ৪০০একর জমির ফসল,জেলে সম্প্রদায়ের বাড়ি ঘরসহ এলাকার বেশ কিছু অংশ প্রতিদিন জোয়ার ভাটার পানিতে প্লাবিত হবে।এই অবস্থা থাকলে বা ১৯৯১ সালের মতো প্রাকৃতিক দূর্যোগের শিকার হলে এলাকার জন্য বিরাট ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে।তিনি তার ফেসবুক ওয়ালে বিষয়টি নিয়ে বেশ লেখালেখি করেছেন।যাতে করে প্রশাসন দ্রুত সময়ে বেড়িবাঁধটির সংষ্কার কাজ করেন।

ঘোড়ামরা জেলেপল্লির এক বাসিন্দা বলেন,বেড়িবাঁধ ভেঙে গেলে জোয়ারের সময় ঘরের বাহিরে যাওয়া আসা করতে পারি না।অনেক সময় রান্নাবান্না করতে হয়ে খাটের ওপরে চুলা রেখে।স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে ঘর থেকে বের হতে হয়।যদি বেড়িবাঁধটি ভেঙে যায় তাহলে এলাকাবাসী চরম দূর্ভোগ পোহাতে হবে।জোয়ার ভাটার সময় দেখে ঘর থেকে বের হতে হয় তাদের।বেড়িবাঁধটি দ্রুত সংষ্কারের দাবি জানান।স্থানীয় বাসিন্দা ইমাম হোসেন জানান,এভাবে ভাঙ্গা অব্যাহত থাকলে আর কয়েক বছরেই গ্রামটি বিলীন হয়ে যেতে পারে।এছাড়া লবনাক্ত পানির কারণে কৃষি জমির ফসল নষ্ট হবে।বেড়িবাঁধটি সংষ্কার করা না হলে এ এলাকায় কয়েকশ’ একর কৃষি জমি অনাবাদি থাকবে এবং এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে এই বেড়িবাঁধটি সংস্কারের জন্য কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।