সেবা প্রদানে এগিয়ে নেত্রকোনা সদর সাব-রেজিষ্ট্রার অফিস

জমির কেনা-বেচা, হস্তান্তর,সরকারী-বেসরকারী চুক্তিসহ যে কোনো রেজিষ্ট্রি এখন সব ধরণের হয়রানী ও দালাল মুক্তভাবেই সম্পন্ন হয় নেত্রকোনা সদর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে। এক সময় শহরের উকিল পাড়ায় একটি ছোট্ট ভবনে ভাড়া নিয়ে চলতো ভূমিসহ সব ধরণের রেজিষ্টেশনের কাজ। যেখানে সেবা গ্রহীতা ও সেবা প্রদাণকারীদের গাদাগাদি করে কাজ করতে হতো। পরে নেত্রকোনা শহরের মোক্তারপাড়াস্থ (আটপাড়া-কেন্দুয়া) পুরাতন কোর্ট বিল্ডিং এ সদর সাব-রেজিষ্ট্রার কার্যালয় স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে বেশ কিছু দিন ধরে চলে অফিসের সব ধরণের কার্যক্রম। ঝরার্জীণ ভবনে সেবা প্রার্থীরা অনেকেই সেবা নিতে এসে মনে করতেন এই ভবনে কিভাবে এতো ভাঙ্গাচুরা অবস্থায় অফিসের কাজ চলে।

এ নিয়ে নানা প্রশ্নও ছিল সেবা প্রার্থীদের মাঝে। পরে সদর সাব-রেজিষ্টার মো. রমজান খান এখানে, সব-রেজিষ্ট্রার হিসেবে যোগ দান করে ২০২১-২২ অর্থ বছরের ঝরাজীর্ণ এই ভবনের সংস্কার কাজ অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে  আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ২০ লক্ষ টাকার সংস্কার কাজের বরাদ্ধ দেয়।

নেত্রকোনা গণপূর্ত বিভাগের মাধ্যমে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সূচী কনস্ট্রাকশন ফার্ম ভবনটি সংস্কারের জন্য কার্যাদেশ পেয়ে কাজটি নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন করেন। কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর ঝরাজীর্ণ এই ভবনটি এখন আধুনিক ভবনের ন্যায় দৃষ্টিনন্দন ভবনে পরিনত হয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী, মো. আতাউর রহমান রোকন বলেন, ভবনটি অনেক খারাপ অবস্থায় ছিল,কার্যাদেশে যা কাজ ধরা ছিল তার থেকে বেশি কাজ করতে হয়েছে ভবনটি ব্যাবহারের উপযোগী করতে।আমরা, অতিরিক্ত ৩শ স্কোয়ার ফিট টাইলস,নামাজের জন্য অজুখানা, সাদা টিনের পরিবর্তে রঙ্গিন ডেউটিন,কাটের পরিবর্তে এঙ্গ্যাল,বাড়তি রং ও পানি নিষ্কাসনের জন্য অতিরিক্ত পাইপ ব্যবহার করেছি। কিন্তু বাড়তি কাজের জন্য আমি কোনো অতিরিক্ত বরাদ্ধ পাবো না।

এক সময়  ভবনের ছাদ দিয়ে বর্ষার মৌসুমে পানি পড়তো এতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভিজে যাওয়ার আশংকায় থাকতে হতো,এখন হয়তো সংস্কারের পর এই দূরবস্থায় আর থাকতে হবে না বলে জানান, সদর উপজেলার মেদনি ইউনিয়নের জলিল মিয়া। জলিল মিয়া আরো জানান,আগে কোনো কাজে সাব-রেজিষ্ট্রারের কাছে গেলে দীর্ঘক্ষণ দাড়িয়ে থেকে দলিল করতে হয়েছে, এখন সাব-রেজিষ্টার আন্তরিকতার সাথে দ্রুত দলিল সম্পন্ন করেন। যা এর আগে কোনো দিন ছিল না, অফিসে সিটিজেন চার্টার থাকায় দালাল চক্র সেবা গ্রহীতাদের কাছে বেশি টাকা নিতে না পারে।

নেত্রকোনা সদর সাব-রেজিষ্ট্রার মো. রমজান খান জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জনগণকে কোনো কাজের জন্য হয়রানি করা যাবে না। সেই লক্ষে সদর সাব-রেজিষ্টার অফিসে  কর্মরতদের  নিদের্শনা দেয়া আছে। যদি কেউ অনিয়ম-দূর্নীতির আশ্রয় নেয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।