সুইডেন ও ফিনল্যান্ডকে ন্যাটোতে চায় না তুরস্ক

68
সুইডেন ও ফিনল্যান্ড ন্যাটোর সদস্যপদ চাওয়ার সিদ্ধান্তে আপত্তি তুলেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান।
সুইডেন ও ফিনল্যান্ড ন্যাটোর সদস্যপদ চাওয়ার সিদ্ধান্তে আপত্তি তুলেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান।

সুইডেন ও ফিনল্যান্ড ন্যাটোর সদস্যপদ চাওয়ার সিদ্ধান্তে আপত্তি তুলেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান।

ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পরিপ্রেক্ষিতে ন্যাটোর সদস্যপদ চাইবে বলে ঘোষণা দেয় সুইডেন। ফিনল্যান্ডও ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। এর কয়েক ঘন্টা পরই এরদোগান সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। তিনি সুইডেন ও ফিনল্যান্ডকে অভিযুক্ত করে বলেন,
কোনো দেশেরই সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে খোলা ও স্পষ্ট অবস্থান নেই।

এদিকে সুইডিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা এই বিষয়ে আলোচনার জন্য আঙ্কারায় কূটনীতিকদের একটি দল পাঠাবেন। কিন্তু আলোচনায় আগ্রহী নন জানিয়ে এরদোগান বলেছেন, তারা কি আমাদের বোঝাতে আসছে? দুঃখিত, নিজেদের সময় নষ্ট করবেন না। শুধু শুধু পরিশ্রান্ত হবেন না। এই প্রক্রিয়া চলাকালীন আমরা তুরস্কের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপকারীদের ন্যাটোতে যোগদানের বিষয়ে হ্যাঁ বলতে পারি না।

সিরিয়া, ইরাক এবং তুরস্কের জাতিগত কুর্দিসহ সাম্প্রতিক দশকগুলোতে সুইডেন মধ্যপ্রাচ্য থেকে কয়েক হাজার শরণার্থীকে স্বাগত জানিয়েছে।

ওয়াশিংটনে নিযুক্ত সুইডিশ রাষ্ট্রদূত কারিন ওলোফসডোটার বলেছেন, তারা তুরস্কের আপত্তিতে বিস্মিত হয়েছেন। তাদের খুব শক্তিশালী সন্ত্রাসবিরোধী এজেন্ডা রয়েছে বলেও জানান সুইডিশ রাষ্ট্রদূত।

সোমবার, ১৬ মে সুইডেন ন্যাটো সদস্যপদ চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ফিনল্যান্ড সরকার ঘোষণা করেছে যে, তারা ন্যাটোতে যোগ দিতে চায়।

সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন বলেছেন, রাশিয়া বলেছে যে আমরা ন্যাটোতে যোগ দিলে পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। এছাড়া ফিনল্যান্ডকেও বারবার সতর্ক করেছে মস্কো।

মধ্য-বাম সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্বদানকারী অ্যান্ডারসন বলেছেন, সুইডেন ফিনল্যান্ডের সাথে যৌথভাবে তাদের ন্যাটো আবেদন হস্তান্তর করবে। তার সরকার একটি বিলও প্রস্তুত করছে যা হামলার ক্ষেত্রে সুইডেনকে অন্যান্য দেশ থেকে সামরিক সহায়তা পেতে অনুমতি দেবে। তার কথায়, রুশ নেতৃত্ব ভেবেছিল যে, তারা সুইডেন ও ফিনল্যান্ডকে ভয় দেখাতে পারবে। আমাদের সঙ্গে প্রতিবেশী ও মিত্রদের মধ্যে ফাটল সৃষ্টি করতে পারবে। তারা ভুল ছিল।

সুইডেন বরাবরই সামরিক জোট এড়িয়ে গেছে। ফিনল্যান্ডের মতো সুইডেনও শীতল যুদ্ধের সময় নিরপেক্ষ ছিল। কিন্তু ১৯৯১ সালে সোভিয়েত পতনের পর ন্যাটোর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে দেশ দুটি। ১৯৯৫ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের পর তারা নিজেদেরকে আর নিরপেক্ষ মনে করে না। তারপরও এখন পর্যন্ত সামরিকভাবে নিরপেক্ষ রয়ে গেছে এই দুটি দেশ।

কয়েক দশক ধরে ন্যাটো সদস্যতার বিরুদ্ধে ছিল সুইডেন ও ফিনল্যান্ড। কিন্তু চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রুশ আক্রমণ শুরু হওয়ার পর দুই দেশেই তাদের অবস্থান থেকে সরে আসে। সুইডিশ ও ফিনিশ সরকার ন্যাটো সদস্যপদ পাওয়ার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্রুত আলোচনা শুরু করে।

এদিকে সোমবার হেলসিঙ্কি সফরের সময় সিনেট রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককনেল বলেন, ফিনল্যান্ড ও সুইডেনকে জোটে স্বাগত জানানোর জন্য কংগ্রেসে খুব উল্লেখযোগ্য সমর্থন রয়েছে। আগস্টের আগেই অনুমোদনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

এছাড়া একটি যৌথ বিবৃতিতে ন্যাটো সদস্যভুক্ত দেশ নরওয়ে, ডেনমার্ক ও আইসল্যান্ড বলেছে, তারা আবেদন প্রক্রিয়া চলাকালীন সব ধরনের প্রয়োজনীয় উপায়ে ফিনল্যান্ড ও সুইডেনকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত।