সিলেটে আবারও ঢুকছে বানের পানি

73

বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও ভয়াবহতার দাগ এখনো শুকায়নি সিলেটে। এরমধ্যেই আবারও বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার আভাস রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বুধবার (২৯ জুন) এমন আভাস দিয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া জানিয়েছেন,আ গামী দু’দিনে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন ভারতের আসাম, মেঘালয় ও হিমালয় পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গে জলপাইগুড়ি, সিকিমসহ বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এর ফলে দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রধান প্রধান নদ-নদী তথা তিস্তা, আপার আত্রাই, ধরলা, দুধকুমার, আপার করতোয়া, ট্যাঙ্গন, পুনর্ভবা ও কুলিখের পানির সমতল সময় বিশেষে দ্রুত বাড়তে পারে। 

ইতোমধ্যে তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে, দুধকুমারের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার উপরে ওঠে গেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) নাগাদ ধরলার পানি কুড়িগ্রাম পয়েন্টে এবং করতোয়ার পানি পঞ্চগড় পয়েন্টে বেড়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি অথবা ওপরে অবস্থান করতে পারে।

এই সময়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট ‍ও সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা অবনতি হতে পারে। অপরদিকে নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে।

সুরমার পানি কানাইঘাটে ফের বিপৎসীমার ৮৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, কুশিয়ারার পানি অমলশীদে ১১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ও শেওলায় ৪২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এছাড়া পুরাতন সুরমার পানি দিরাইয়ে বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, বাউলাইয়ের পানি খালিয়াজুড়িতে এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, সোমেশ্বরীর পানি কলমাকান্দায় ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং তিতাসের পানি বাহ্মণবাড়িয়ায় বিপৎসীমার সাত সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পাউবো জানিয়েছে, বিভিন্ন নদ-নদীতে তাদের পর্যবেক্ষণাধীন ১০৯টি পয়েন্টের মধ্যে বুধবার পানির সমতল বেড়েছে ৩৯টি পয়েন্টে, কমেছে ৬৬টিতে আর অপরবর্তিত রয়েছে চারটি পয়েন্টের পানির সমতল।

এছাড়া তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার সাত সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং দুধকুমারের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার চার সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

বর্তমানে মোট আটটি নদীর পানি নয়টি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।