সিঙ্গাপুর থেকে পদ্মা সেতু দিয়ে সরাসরি ইউরোপ যাওয়া যাবে (ভিডিও)

285

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজ শনিবার, ২৫ জুন বহুল আকাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বলাই বাহুল্য, পদ্মা সেতু অকল্পনীয় এমন সব সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করবে বাংলাদেশের জন্য যা হয়তো কখনোই কেউ ভাবেনি।

সেসব সম্ভাবনার মধ্যে অন্যতম হলো, সিঙ্গাপুর থেকে পদ্মা সেতু হয়ে সরাসরি ইউরোপ পর্যন্ত রেল যোগাযোগ। এই রেলপথ ধরে সিঙ্গাপুর থেকে ছেড়ে আসা পণ্য ও যাত্রীবাহী রেল পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে তীব্র গতিতে ছুটতে ছুটতে চলে যেতে পারবে একেবারে ইউরোপ পর্যন্ত।

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলকে ট্রান্স-এশিয়ান হাইওয়ে এবং ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ের সঙ্গে যুক্ত করবে নবনির্মিত পদ্মা সেতু। বহুল আকাঙ্ক্ষিত এই রেল নেটওয়ার্ক চালু হয়ে গেলে ভারত, ভুটান ও নেপালেও সরাসরি যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করা যাবে।

কেবল বাংলাদেশি পর্যটকরাই নন, ‌বিশ্বের আরও অনেক দেশের ভ্রমণপিপাসুরাও সড়ক বা রেলপথে বিশ্বভ্রমণে যেতে পারবেন এই পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে।

পদ্মা সেতুর দুই পাড়েই চার লেনের এক্সপ্রেসওয়ের সুবিধা যুক্ত হয়েছে আগেই। এটি মোংলা ও বেনাপোল স্থলবন্দরের সঙ্গে রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামকে সংযুক্ত করবে। যুক্ত হবে এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গেও। ঢাকা, বেনাপোল ও তামাবিল হয়ে ভারত-পাকিস্তান-আফগানস্তান যাওয়া যাবে এই সড়ক ধরে।

ট্রান্স এশিয়ান রেল লাইনের জন্য বড় সম্ভাবনা নিয়ে আসছে পদ্মা সেতু। ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য ১৬৯ কিলোমাটার রেলপথ নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলেছে। ইতোমধ্যে গেন্ডারিয়া, মাওয়া, জাজিরা ও ভাঙ্গা অংশের কাজ প্রায় শেষ। বুড়িগঙ্গা-ধলেশ্বরীর ওপর ১৭ কিমি রেল সেতু নির্মিত হলেই ট্রান্স এশিয়ান রেলে যুক্ত হওয়া যাবে। এর মধ্য দিয়ে সড়ক ও রেলপথে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে সংযোগ স্থাপিত হবে।

সুদীর্ঘ এই রাস্তা ঢাকা, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, নড়াইল, ফরিদপুর, যশোর, বেনাপোল এবং উত্তরে চিলাহাটি হয়ে দার্জিলিং পর্যন্ত যাবে। এটি তুরস্কের ইস্তাম্বুল, ইরানের তেহরান ও পাকিস্তানের ইসলামাবাদের সঙ্গে যুক্ত করবে ঢাকা ও দিল্লীকে। এই রেল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যুক্ত হবে দুই মহাদেশের দুই দূরতম প্রান্ত যা ঢাকাকে ছুঁয়ে যাবে। এছাড়া এটি তুরস্কের ইস্তাম্বুলকে যুক্ত করবে জাপানের টোকিওর সঙ্গে।

সিঙ্গাপুর থেকে ইউরোপে যাওয়ার সময় পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে ১৬০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারবে ট্রেন। কেবল বাংলাদেশ নয়, ভারতেও এত দ্রুত গতিতে কোনো সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন ছুটতে পারে না। পণ্য ও যাত্রী নিয়ে তীব্র গতিতে যাতে ট্রেন ছুটতে পারে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে সেভাবেই সর্বাধুনিক নকশা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে নির্মিত হয়েছে এই সেতু।